২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শিক্ষা নিয়ে আর কত?

২০১৮ সাল থেকে প্রাথমিক শিক্ষা বর্তমানের পঞ্চম শ্রেণী থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। সোমবার জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য প্রকাশ করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী। এটি বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ দান এবং আনুষঙ্গিক বিষয়াদি। উল্লেখ্য, অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সরকার ২০১৩ সাল থেকে প্রস্তুতি গ্রহণ করে। যার অংশ হিসেবে ২০১৩ সালে ৪৯১টি এবং ২০১৪ সালে ১৭৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে উন্নীত করা হয়েছে ষষ্ঠ শ্রেণীতে। এবার ষষ্ঠ শ্রেণী চালুকৃত বিদ্যালয় থেকে জেএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

দেশে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৭৮১২৬। এর বাইরেও রয়েছে এনজিও এবং বেসরকারী পর্যায় পরিচালিত বিদ্যালয় ও উপানুষ্ঠানিক স্কুল। অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা সম্প্রসারণ করতে হলে এত বিপুল সংখ্যক স্কুলের অবকাঠামো উন্নয়ন অত্যাবশ্যক। বর্তমানে দেশের অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবস্থা জরাজীর্ণ, অপর্যাপ্ত শ্রেণীকক্ষ; এর পাশাপাশি টুল-বেঞ্চ-ব্লাকবোর্ডের অভাব তো রয়েছেই। অভিজ্ঞ শিক্ষক দূরের কথা, অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী অনুপাতে শিক্ষক নেই; অনেক ক্ষেত্রে নেই পর্যাপ্ত শিক্ষার্র্র্র্থী। গ্রামাঞ্চল, প্রত্যন্ত অঞ্চল ও চরাঞ্চলের কথা বাদ দিলেও খোদ রাজধানীতেই এরকম বিদ্যালয় খুঁজে পাওয়া দুর্লভ হবে না। সে অবস্থায় সরকার ২০১৮ সাল নাগাদ কতটা কি করতে পারবে সে বিষয়ে সন্দেহের অবকাশ রয়েছে।

দুঃখজনক হলেও সত্য যে, স্বাধীনতার পর ৪৩ বছর অতিবাহিত হলেও আজ পর্যন্ত কোন জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণীত হয়নি। অতীতে সামরিক সরকারসহ বিভিন্ন সরকারের আমলে শিক্ষা কমিশন গঠিত হয়েছে বটে; তবে জাতীয় পর্যায়ে কোন শিক্ষানীতি গৃহীত হয়নি। একমাত্র ব্যতিক্রম বোধকরি ড. কুদরাত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন, যেটি প্রণীত হয়েছিল স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধুর শাসনামলে। বর্তমানে সেটির ঠাঁই হয়েছে হিমাগারে। প্রাথমিক স্তরে বর্তমানে চালু রয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা, এবতেদায়ী শিক্ষা, কিন্ডারগার্টেন (বাংলা ও ইংরেজী মাধ্যম), উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ও অন্যান্য। উদাহরণত, ছিন্নমূল ও শ্রমজীবী শিশু-কিশোরদের শিক্ষা ও পুনর্বাসনের জন্য শিশু কল্যাণ প্রাথমিক বিদ্যালয়। অথচ কুদরাত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশনের রিপোর্টে একমুখী শিক্ষাব্যবস্থা চালু করার কথা বলা হয়েছে। অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা সম্প্রসারণের পাশাপাশি সরকারকে এই লক্ষ্যেও কাজ করতে হবে। শিক্ষাকে হতে হবে অবশ্যই যুগোপযোগী, আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান-ধ্যান-ধারণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, মানবিক ও নীতি নৈতিকতা সম্পন্ন, সর্বোপরি আত্মনির্ভরশীলতার উপযোগী। আবহমান বাঙালী জাতীয়তা, ভাষা ও সংস্কৃতি সর্বোপরি সুমহান মুক্তিযুদ্ধের ধারক-বাহক। এর জন্য চাই উপযুক্ত পাঠ্যক্রম বা সিলেবাস। সরকারকে এই কাজটি করতে হবে সর্বাগ্রে।

বর্তমানে দেশে প্রচলিত শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। পিএসসি, জেএসসি এবং এসএসসি স্তরে ঢালাওভাবে জিপিএ-৫সহ পাসের হার বাড়লেও শিক্ষার মান বেড়েছে, এমন কথা বলা যাবে না। প্রতিবছরই বাংলা, ইংরেজী ও গণিতে বিপুল সংখ্যক ফেলের বিষয়টি সুবিদিত। প্রশিক্ষিত শিক্ষকের অভাব প্রকট। আগে এসব সমস্যার সমাধান করতে হবে জরুরী ভিত্তিতে। শিক্ষা সুযোগ নয়, অধিকার। এই অধিকার থেকে কোন শিশু তথা শিক্ষার্থীকে বঞ্চিত করা যাবে না। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের দায়িত্ব সর্বাধিক ও গুরুত্বপূর্ণ।