২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দাতাদের অর্থায়ন

বাংলাদেশকে তার উন্নয়নের সার্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে কয়েকটি বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন জরুরী হয়ে পড়েছে। প্রয়োজন সমস্ত উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে তৃণমূল পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া। তাই দরকার উচ্চ প্রবৃদ্ধির জন্য সরকারী ব্যয় নিশ্চিতকরণ, সুশাসন, আইনের শাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করা এবং সরকারী অর্থ ব্যবস্থাপনায় উন্নয়ন নিশ্চিত করা। সমস্ত উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে তৃণমূল পর্যায়ে না নিলে কার্যকর ফল পাওয়া যাবে না। তা করতে হলে উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা, বিদ্যুত ও জ্বালানি খাতে যথেষ্ট বিনিয়োগ এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ বাড়াতে হবে। এমনিতেই বাজেটে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে বরাদ্দ অপ্রতুল। এ জন্য এসব খাতেও ব্যয় বরাদ্দ বাড়াতে হবে। পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা অনুসারে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জনে ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ ও আঞ্চলিক যোগাযোগ বাড়াতে হবে। ঢাকায় অনুষ্ঠিত দু’দিনব্যাপী বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরামের বৈঠকে উন্নয়ন সহযোগীরা এসব প্রসঙ্গ উত্থাপন করে সরকারের সঙ্গে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন। ২০২০ সালের মধ্যে ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হলে উল্লিখিত পদক্ষেপ গ্রহণ অত্যাবশ্যক হয়ে পড়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে অবকাঠামো উন্নয়নে দাতাদের সহায়তা বাড়ানোর বিষয়টিতে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ও চীনের অবকাঠামো উন্নয়ন ও বিনিয়োগ ব্যাংকসহ অন্য সংস্থাগুলো বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। দাতারা অবশ্য সরকারের ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনকে উচ্চাভিলাষ বলে অভিহিত করে তা অর্জনে কতিপয় বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করতেও বলেছে। এর মধ্যে রয়েছে সুশাসন নিশ্চিত করা, আইনের শাসনের ভিত্তিতে আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, বৈদেশিক সহায়তা ব্যবহারে সক্ষমতা অর্জন, বিচার বিভাগের সংস্কার, জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল ও তথ্য অধিকার আইনের যথাযথ প্রয়োগ।

উন্নয়ন ফোরামের মোট সাতটি সেশনে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা, সরকারের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন কৌশল ভিশন ২০২১, জাতিসংঘের ২০১৫ পরবর্তী উন্নয়ন এজেন্ডা, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে বিভিন্ন সুপারিশসহ যৌথ ইশতেহার ঘোষণা করা হয়েছে। এতে সম্পদের সমবণ্টনকে আন্তর্ভুক্তিমূলক উচ্চ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বশর্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ভূমি মালিকানা, করনীতি ও সরকারী সেবা ব্যবস্থাপনার সংস্কার, মানসম্মত শিক্ষা এবং সামাজিক সুরক্ষা বেষ্টনীর সম্প্রসারণের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। যথাযথ পুষ্টি নিশ্চিতকরণের জন্য খাদ্যাভ্যাসে বৈচিত্র্য আনার প্রসঙ্গটিও সামনে এসেছে। আঞ্চলিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রবৃদ্ধি এবং দারিদ্র্য নিরসনের নিয়ামক হিসেবে সুদৃঢ় আঞ্চলিক যোগাযোগকে অগ্রাধিকার খাত হিসেবে দেখানো হয়েছে।

সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা অনুমোদন ও গ্রহণ করে উন্নয়ন সহযোগীরা এ মধ্যমেয়াদী পরিকল্পনার আলোকে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে। প্রবৃদ্ধি বাড়িয়ে ও দারিদ্র্য কমিয়ে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ ঘটাতে বাংলাদেশকে ছয়টি বিষয়ের দিকে দৃষ্টিদানের সুপারিশ অতীব গুরুত্ববহ। দেশের বেসরকারী বিনিয়োগ জিডিপির ২২ শতাংশ থেকে ২৭ শতাংশে নিয়ে যাওয়ার নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণে কার্যকর পদক্ষেপ যেমন নিতে হবে তেমনি কর্মসংস্থান করতে হবে ১ কোটি ২৯ লাখ মানুষের, টেকসই উন্নয়নে আর্থিক খাত গৃহীত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপে উন্নয়ন সহযোগীরা সহায়তা করলে বাংলাদেশ দ্রুত সমৃদ্ধির চাকাকে আরও সামনে টেনে নিতে পারবে। অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে সব পক্ষের সমন্বয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশকে এগিয়ে যেতে হবে। দাতাদের সহযোগিতার শর্তের মাত্রাগুলো যেন হয় শিথিল, কঠিন না হয়। সেটাও স্বাধীন জাতি হিসেবে কাম্য।