২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাংলাদেশ-সৌদি যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের বৈঠক শুরু

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ শুরু হয়েছে বাংলাদেশ সৌদি আরব যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের বৈঠক। বুধবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে ১১তম এ বৈঠক শুরু হয়। আজ বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে এটি শেষ হবে। এতে সৌদি আরবের পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সে দেশের শ্রম উপমন্ত্রী ড. আহমেদ বিন ফাহাদ আল ফুয়াইদ এবং বাংলাদেশের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ মেজবাহউদ্দিন।

বৈঠকে অধিক জনশক্তি রফতানির সুযোগসহ ১৫টি বিষয়ে প্রস্তাব দিচ্ছে বাংলাদেশ। জনশক্তি, বিনিয়োগ, বাণিজ্য, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, বেসামরিক বিমান, ধর্ম, নিরাপত্তা এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ, টেলিযোগাযোগ খাত নিয়ে কয়েকটি সেশনে আলোচনা চলছে। দুই দিনের বৈঠক শেষে যৌথ কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা দেয়ার কথা রয়েছে। ২০১৩ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়েছিল দশম যৌথ কমিশনের বৈঠক।

জনশক্তি রফতানি, কর্মসংস্থান এবং প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৬ সালে ২১৭ শ্রমিক পাঠানোর মাধ্যমে সৌদি আরবে শ্রমবাজার খুলে যায়। ক্রমেই সেই শ্রমবাজার বড় হয়ে ওঠে। প্রতি বছর দেড় থেকে দুই লাখ শ্রমিক পাঠাতো বাংলাদেশ। সর্বশেষ ২০০৮ সালে প্রায় ১ লাখ ৩২ হাজার লোক কাজের সন্ধানে দেশটিতে যাওয়ার সুযোগ পায়। এরপর জনশক্তি রফতানি কমে যায়। চলতি বছর প্রায় ৩৭ হাজার লোক নিয়েছে সৌদি আরব। যাদের অধিকাংশ নারী গৃহকর্মী। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার হওয়ায় জনশক্তি-সংক্রান্ত ইস্যুকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে। বৈদেশিক সাহায্যসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে।

সূত্র জানায়, প্রায় ১৫ লাখ বাংলাদেশী শ্রমিক সৌদি আরবে কর্মরত। অনেক ক্ষেত্রে এসব শ্রমিকের অধিকার ঠিকভাবে রক্ষা করা হয় না। এতে নানা ধরনের হয়রানি এবং বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন বাংলাদেশীরা। এজন্য যৌথ কমিশনের সভায় প্রবাসী শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার দেয়ার প্রস্তাব দেবে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স ব্যাংকিং চ্যানেলে পাঠানোর জন্য অর্থপাচার আইনের কঠোর বাস্তবায়ন চাওয়া হবে। যাতে অবৈধ পথে কোন রেমিটেন্স পাঠানোর সুযোগ না থাকে। ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছরের বেশি সময় ধরে ওমরাহ ভিসা দেয়া বন্ধ রেখেছে সৌদি আরব। এটি আবার চালু করার বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে বদলে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের ভিত্তিতে ওমরাহ পালনের ভিসা দেয়ার অনুরোধ জানানো হবে।