২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আমলাতান্ত্রিক জটিলতাই বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির বাধা

  • রাজস্ব মামলা নিষ্পত্তিতে কর্মকর্তাদের দুষলেন অর্থমন্ত্রী

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেছেন, বর্তমানে সুপ্রীমকোর্টে বিচারাধীন মামলা এডিআরের মাধ্যমে (বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি) নিষ্পত্তি করা যেতে পারে। এজন্য বিদ্যমান ডিআর ব্যবস্থার সংশোধন করে সহজ ও যুগোপযোগী করার পরামর্শ দেন তিনি। এজন্য নিজের চেষ্টার কথা উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি আমলাতান্ত্রিক জটিলতাকে বাধা হিসেবে উল্লেখ করেন।

মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে ‘রাজস্ব মামলার ব্যবস্থাপনা ও বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) এর কার্যকারিতা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

রাজস্ব আদায়ে জটিলতা নিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সেমিনারেই এনবিআর কর্মকর্তাদের দুষলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেন, রাজস্ব সংক্রান্ত মামলায় রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা আদালতে উপস্থিত না থাকার কারণেই মামলা নিষ্পত্তিতে জটিলতা বাড়ছে। অসাধু রাজস্ব কর্মকর্তাদের কারণেই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এছাড়া সুপ্রীমকোর্টে এনবিআরের একটি আলাদা সেল গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত।

প্রধান বিচারপতি বলেন, দায়িত্ব নেয়ার পর তিনি একটা প্রস্তাবনা নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছিলেন, তিন মাস সেই ফাইলটা আটকে ছিল। গত সপ্তাহে সেটা পরিকল্পনা কমিশনে গিয়েছে। তবে আমি জানি না, যতদিন আমি আছি, এর মধ্যে এটার ফিড ব্যাক পাবো কি-না।

তিনি বলেন, আমাদের লোকবল একেবারে কম। তাই আমি দেশের বাইরে যাচ্ছি না। ভারতীয় সুপ্রীমকোর্টে তাদের একটা এডিআর সেল খোলা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে কোন মামলা এডিআরে দেয়ার পর আবেদনকারীকে আইনজীবী নিয়োগ করতে হয় না।

আমাদের লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে আইনজীবী বাংলাদেশেও নিয়োগ দেয়া যেতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইনজীবী আমরাই নিয়োগ করব, আমরাই নিষ্পত্তি করে দিব। শুধু দরকার, আমাদের মানসিকতা পরিবর্তন করা। সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেন, এডিআরে নিষ্পত্তি করতে হলে প্রথমেই ‘ইগোইজম’ ত্যাগ করতে হবে। এটা শুধু ট্যাক্স ম্যাটার না। ফৌজদারি ও দেওয়ানি মামলায় দীর্ঘসূত্রতা একমাত্র এটার জন্য।

তিনি বলেন, একজন বলেছেন ১৯৬৯ সালের আইনে চলছে। না। আমাদের আইন ১৮৭২ সাল এর আগের আইনেও বর্তমান বিচার ব্যবস্থা চলছে। এই সেকেলে মরিচা ধরা আইনগুলোকে কোন মতে এমনভাবে ঘষামাজা করি, এর কোন মৌলিকত্ব নেই। এর ৬০-৭০ ভাগ এখন অপ্রচলিত। একবিংশ শতাব্দীতে আমরা ডিজিটালাইজেশনের কথা বলি, কিন্তু আমরা আইনগুলা সব অবসোলেট। ডিজিটালাইজেশনের জমানায় এই অবসোলেট আইন দিয়ে চলে না। আইনকে যুগোপযুগী করতে নতুনভাবে দেখতে হবে। আমাদের আইন কমিশন আছে। একে আরও, শক্তিশালী করতে হবে। আইন কমিশন রিপোর্ট দিবে। এরপর পার্লামেন্টে বিবেচনা হবে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে আইন বিশেষজ্ঞরা রাজস্ব সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে এনবিআর প্রতিনিধিদের উদাসীনতায় অসন্তোষ জানান। তারা বলেন, বিশাল অঙ্কের রাজস্ব জড়িত রয়েছে এমন মামলার শুনানিতে এনবিআরের প্রতিনিধিরা কার্যকর ভূমিকা পালন করেন না। ফলে মামলাবাজ ব্যবসায়ী ও করদাতারা সুবিধা নিয়ে নিচ্ছে। অন্যদিকে সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকা বছরের পর বছর ধরে আটকে রয়েছে।

এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এ প্রসঙ্গে বলেন, এনবিআর রাজস্ব মামলা নিষ্পত্তির জন্য তিনজন রিটেইনার (রাজস্ব আদায়কারী কর্মকর্তা) নিয়োগ দিলেও তাদের কোনদিন রাজস্ব সংক্রান্ত মামলায় দেখা যায়নি।

বিষয়টি স্বীকার করে অর্থমন্ত্রী নিজেও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, যারা সঠিকভাবে রাজস্ব আদায় করতে ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ তাদের বাদ দেয়া উচিত। রাজস্ব সংক্রান্ত মামলা সঠিকভাবে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বিচার বিভাগে এনবিআরের জন্য আলাদা সেল গঠন করা এবং সেখানে নিয়মিত এনবিআরের প্রতিনিধি থাকার পক্ষে মত দেন তিনি।