২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

যেসব মানুষ বিদেশে গিয়ে দেশের বদনাম করে তারা ভিক্ষুক’

ঢাকা থেকে হেমায়েতপুর। পড়ন্ত বিকেল। এ্যাপয়েনমেন্ট বিকেল চারটায়। হেমায়েতপুর নেমে জিজ্ঞেস করতেই সবাই চিনলেন। বললেন ‘ও পোলো গার্মেন্টেস এ যাবেন?’ চিনতে যে হবেই নায়কের গার্মেন্টস বলে কথা। অফিসে ঢুকতেই পরিচয় দিতেই তারা পৌঁছে দিল অনন্তের অফিস রুমে। তিনি তখন মিটিংয়ে ব্যস্ত। ফোন দিতেই শুরুতেই ক্ষমা চেয়ে একটু অপেক্ষা করতে বললেন। তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে নায়ক হলেও তিনি কিন্তু একজন পুরোদস্তুর ব্যবসায়ীই। তবে সিনেমাটা তার ভাললাগা। অনন্ত তার নতুন সিনেমায় একদল অভিনেতা-অভিনেত্রীকে সুযোগ করে দেয়ার পরিকল্পনা করছেন। সেজন্য আয়োজন করেছেন একটি বড় একটি ট্যালেন্ট হান্টের। বাংলাদেশের সব বিভাগীয় শহর থেকে কয়েক লাখ প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করছে এই প্রতিযোগিতায়। সেখান থেকে শতাধিক প্রতিযোগী মূল পর্বে সুযোগ পাবেন। ব্যাপারটি নিয়ে উচ্ছ্বসিত অনন্ত জলিল। তার কথায় উঠে এলো স্বপ্নের আভাস, ‘আমরা আপনাদের নিচ্ছি ঠিক আছে কিন্তু সিনেমার কাজ শেষ হলেই তারা যে কারও সঙ্গে সিনেমায় কাজ করতে পারবেন। আমাদের পক্ষ থেকে আমাদের সঙ্গেই কাজ করার কোন বাধ্যবাধকতা থাকবে না।’ অনন্তের সঙ্গে কথা হচ্ছিল তার হেমায়েতপুরের পোলো ফ্যাক্টরিতে বসে। চারদিকে ভীষণ ব্যস্ততা। বিদেশী কর্তাদের সঙ্গে মিটিংয়ে ব্যস্ত তিনি। হাসিমুখে কথা হচ্ছিল বর্ষার সঙ্গে। এর মাঝেই অনন্তের বাসা থেকে ফোন। ছেলে আরিজের সঙ্গে কথা বললেন বর্ষা। একটু পরেই অনন্ত ব্যস্ত হয়ে ঢুকলেন। বিলম্বের জন্য ক্ষমা চাইলেন। দিনযাপনের প্রণালীটা আসলে একটু কঠিনই এই ব্যবসায়ী কাম অভিনেতার। সকাল সাড়ে চারটায় ঘুম থেকে উঠে নামাজ পড়ে এরপর ব্যায়াম করেন অনেকক্ষণ। এর পর অফিস। সেটা চলে প্রায় রাত অবধি। মাঝে মধ্যে পার্টি থাকে অথবা কোন সামাজিক অনুষ্ঠান। তবে সব জায়গায়ই নিয়ে যান স্ত্রী এবং সন্তানকে। ছেলে আরিজও নাকি বিষয়টি ভালই উপভোগ করে বলে জানালেন অনন্ত। কিছুদিন আগে বিপিএল এই সিজনের কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া দলের ব্যান্ড এ্যাম্বাসেডর হয়েছেন অনন্ত বর্ষা দুজনেই।

অনন্ত জলিলের সিনেমা দর্শককে হলমুখী করেছে। বড় বাজেটে সিনেমা নির্মাণের মধ্যে একটি অন্যতম কারন। বাংলাদেশে যেখানে গড় পড়তা সিনেমার নির্মাণ ব্যয় ৭০-৯০ লাখ টাকা সেখানে তাঁর প্রযোজিত সিনেমার নির্মাণ ব্যয় কয়েক কোটি টাকা। অনন্তের ‘দ্য স্পীড’, ‘নিঃস্বার্থ ভালবাসা’, ‘মোস্ট ওয়েলকাম’. ‘খোঁজ দ্য সার্চ’ বাংলা সিনেমার বাণিজ্যিক ঘরানাকে কিছুটা হলে ও সমৃদ্ধ করেছে। তবে, দুর্বল সংলাপ এবং অতি অভিনয়ের জন্য তার কিছু সমালোচনা রয়েছে। পরবর্তী সিনেমাতে এসব কাটিয়ে উঠে নতুন করে শুরু করতে চান তিনি। ‘দ্য স্পাই’ সিনেমা নিয়ে তার স্বপ্নটা একটু বেশি। অনন্তের ভাষায়, ‘দেখুন, আমি প্রতিনিয়ত শিখছি। আপনি লক্ষ্য করবেন আমার প্রতিটি সিনেমাই কিন্তু উন্নতির ধারাবাহিকতায় রয়েছে। আমি নিজেও আমার অভিনয়ে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছি। আশা করছি দর্শকরা উপভোগ করেবেন বিষয়টি।’

অনন্ত ভক্তরা আশায় বুক বাঁধতেই পারেন। কারণ অসম্ভবকে সম্ভব করাই যে অনন্তের কাজ।

তবে সম্প্রতি অনেকেই দেশের বাইরে অভিনয় করতে গিয়ে দেশের সম্পর্কে বাজে উক্তি করছেন এটা বেশ বিস্মিত করেছে এই চিত্রনায়ককে। ভীষণ ক্ষুব্ধ তিনি। ‘আসলে যারা দেশের বাইরে যাচ্ছেন তাদের হাতে আসলে এই দেশেই কাজ নেই। আর অন্য দেশ থেকে যারা অভিনয় করতে আসছেন তাদের ওই দেশে বাজার দর নেই। তারা সি গ্রেড অথবা ডি গ্রেডের আর্টিস্ট। বাংলাদেশ থেকে যারা অন্য দেশে সিনেমা করতে গিয়ে দেশের বদনাম করছে তারা আসলে ভিক্ষুক। এই দেশ আমাদের অনেক কিছুই দিয়েছে। আমরা দেশকে কী দিয়েছি?’ কথায় ক্ষোভই ঝরে পড়ল তার। সামনে পরিকল্পনা করছেন ‘দ্য স্পাই’ নিয়ে। দেশের বাইরে বেশ কয়েকটি জায়গায় চিত্রায়ন করতে চান এটির। তবে, তুরস্কে যে শূটিং করবেন এটি মোটামুটি নিশ্চিত। আগামী বছরের শুরুতেই কাজ শুরু করবেন। গল্প অবশ্য অনন্তর নিজেরই। তবে কে পরিচালনা করবেন সেটি এখনও চূড়ান্ত করেননি। এর মধ্যে সেনাবাহিনীর বিদেশ মিশন নিয়ে একটি সিনেমার পরিকল্পনা করেছিলেন সেটা করবেন ‘দ্য স্পাই’ এর পরে। অবসরে নিজের পরিবারকেই সময় দিতে পছন্দ করেন এই আলোচিত চিত্রনায়ক। ধীরে ধীরে কথা বলা শেষ হলো। বিদায় নিয়ে যাত্রা শুরু কললাম ঢাকার পথে। তখন রাত নেমে গিয়েছে। দূরে কোথাও লালনের গান ‘জানো না মন খালে বিলে থাকে না মীন জল শুকালে...সময় গেলে সাধন হবে না’।