২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গণ-অর্থায়নে সিনেমা নির্মাণের উদ্যোগ

জনগণের টাকায় নির্মিত হবে সিনেমা! বিষয়টি শুনে আপনাদের অনেকেরই ভ্রু কুচকে উঠতে পারে। কিন্তু পৃথিবীতে অনেক আগে থেকেই ‘ক্রাউড ফান্ডিং’ এ অনেক নামী-দামী সিনেমা নির্মিত হয়েছে। তবে, বিষয়টি আমাদের দেশে নতুন। সিনেমায় অর্থায়নের বিকল্প চিন্তা থেকেই মূলত এই ধারণার উদ্ভব। কথা হচ্ছিল চলচ্চিত্র নির্মাতা আবু সাইয়ীদ এর সঙ্গে।

বাংলাদেশে বিকল্প ধারার চলচ্চিত্রে বিছিন্ন কিছু গণ-অর্থায়নের উদাহরণ আছে। তবে বাংলাদেশে ‘সংযোগ’ই গণ-অর্থায়নে চলচ্চিত্র নির্মাণের আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ। যেখানে অর্থ লগ্নি এবং চলচ্চিত্র প্রদর্শনের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ থাকছে।

কথায় কথায় তিনি জানালেন ক্রাউড ফান্ডিংয়ের গোড়ার কথা। ভারতের গুণী নির্মাতা শ্যাম বেনেগাল নির্মাণ করেছিলেন চলচ্চিত্র ‘মন্থন’। গোয়ালা সম্প্রদায়ের জীবন সংগ্রাম নিয়ে নির্মিত এই চলচ্চিত্রে তিনি ফুটিয়ে তুলেছিলেন তাদের জীবন সংগ্রাম। মজার ব্যাপার হচ্ছে পাঁচ লাখ গোয়ালা দুই রুপি করে দিয়ে দশ লাখ রুপির যোগান দিয়ে এই সিনেমা নির্মাণে সহায়তা করেন। নব্বই দশকের শেষের দিকে এই ধারণা জনপ্রিয় হয়। সারা পৃথিবীতে এই মুহূর্তে শত শত সিনেমা নির্মিত হচ্ছে। ক্রাউড ফান্ডিং এ ছয় মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করে সিনেমা নির্মাণের ও নজির আছে। সেখানে মানুষ মনে করে যে, সবার সম্মিলিত প্রয়াস একটি চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য জরুরি। কেমন সাড়া পাচ্ছেন মানুষের কাছ থেকে? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ‘আসলে মানুষ অনেক সাড়া দিচ্ছেন। আমি আসলে জনগণকে সিনেমার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে চাই। এটা নতুন বিষয় কিন্তু মানুষের সাড়া আমাকে আশা যোগাচ্ছে।

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র নির্মাতা আবু সাইয়ীদ সম্প্রতি জনগণের টাকায় সিনেমা নির্মাণের ধারণাটি সামনে নিয়ে এসেছেন। সিনেমার নাম সংযোগ। কাকতালীয়ভাবে সিনেমার নামের সঙ্গে প্রক্রিয়াটাও মিলে গিয়েছে। অর্থাৎ জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ তৈরি হয়েছে। প্রাক প্রযোজনার কাজ চলছে। এ বছরের শেষের দিকে শুরু করতে চান তাঁর স্বপ্নের চলচ্চিত্র ‘সংযোগ’ এর শূটিংয়ের কাজ।

কথা হচ্ছিল বাংলাদেশে বিদেশী চলচ্চিত্র আমদানির ইতিবাচকতা নিয়ে। নির্মাতা আবু সাইয়ীদ জানালেন, ‘এক সময় আমরা মর্নিং শো হিসেবে অনেক বিদেশী সিনেমা দেখেছি। এখন বিদেশী সিনেমা আসতেই পারে তবে সেটি অবশ্যই একটি নীতিমালার ভিত্তিতে আসতে হবে। এছাড়াও সব আমদানিকৃত বিদেশী ভাষার সিনেমাগুলোকে বাংলা ভাষায় ডাবিং করে প্রদর্শন করতে হবে। সাধারণ মানুষ বিদেশী ভাষা জানে না। তাদের ভাল সিনেমা দেখার সুযোগ করে দিতে হবে।’

অনেক পরিচালকই অভিযোগ করেছেন, সিনেমা হলে প্রমোদ কর হিসেবে অনেক টাকা কেটে নেয়া হয়। তবে বড় বড় শহরগুলোর সিনেপ্লেক্সগুলোতেই বেশি টিকেটের দাম। এই ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘টিকেটের হার কিন্তু কয়েকটি হল ছাড়া খুব একটা বেশি না। যারা বেশি রাখছে তাদের মনিটর করতে হবে। আমাদের দর্শককে আকৃষ্ট করতে হবে। তবে, সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে- ভাল মানের সিনেমা নির্মাণ করতে হবে। নইলে ফ্রি করে দিলেও দর্শক হলে আসবে না। ভাল সিনেমা নির্মাণের পথে প্রতিবন্ধকতা ও দূর করতে হবে। নির্মাণ থেকে প্রদর্শন সব ক্ষেত্রেই নতুন করে ভাবতে হবে’