২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ফাঁসির দড়ি সামনে ॥ রিভিউ আবেদন খারিজ হলো সাকা ও মুজাহিদের

ফাঁসির দড়ি সামনে ॥ রিভিউ আবেদন খারিজ হলো সাকা ও মুজাহিদের
  • যে কোন মুহূর্তে ফাঁসি কার্যকর ;###;জেল কোড কার্যকর হবে না- আইনমন্ত্রী ;###;আমরা আইনী লড়াইয়ে হেরে গেছি- আসামির আইনজীবী

বিকাশ দত্ত ॥ এবার ফাঁসির দড়িতে যাচ্ছে কুখ্যাত সাকা ও বুদ্ধিজীবী হত্যার মাস্টার মাইন্ড বদর কমান্ডার মুজাহিদ। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলবদর কমান্ডার আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ ও বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য নিজস্ব বাহিনীর স্বঘোষিত ব্রিগেডিয়ার সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) আবেদন খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগ। রিভিউ আবেদন খারিজের মধ্য দিয়ে তাদের সকল প্রকার আইনী লড়াই শেষ হয়েছে। এখন একটি মাত্র পথ খোলা- রাষ্ট্রপতির নিকট প্রাণভিক্ষা। সকল আইনী প্রক্রিয়া শেষ হওয়াতে এখন সাকা ও মুজাহিদের দ- কার্যকরে আর আইনী বাধা থাকল না। এর মাধ্যমে জাতি কলঙ্ক মোচনের আরেক ধাপ এগিয়ে গেল। রায় ঘোষণার পর এ্যাটর্নি জেনারেল বলেছেন, রিভিউ খারিজ হওয়ায় মুজাহিদ ও সাকার দ- কার্যকরে আর কোনা আইনী বাধা নেই। অন্যদিকে আসামি পক্ষের প্রধান আইনজীবী বলেছেন “আমরা আইনজীবী, আমরা আইনের লড়াই করেছি। আমরা হেরে গেছি, ব্যস। এইটুকুই প্রতিক্রিয়া।” পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, “এটা সম্পূর্ণ সরকারের ওপর নির্ভর করে। কখন কার্যকর করবে, কী করবে, আদৌ করবে কি-না, এটা সরকারের ওপর নির্ভর করে।” নিয়ম অনুযায়ী তারা এখন কেবল নিজেদের কৃতকর্মের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইতে পারবেন। এ বিষয়টির নিষ্পত্তি হলে সরকার মৃত্যুদ- কার্যকর করবে। এদিকে আইনমন্ত্রী এ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেছেন, রায় বাস্তবায়নের ৭ দিনের অপেক্ষার সুযোগ নেই। কাদের মোল্লার রায় অনুয়ায়ী জেল কোডের প্রয়োজন নেই। এদিকে একটি সূত্র জানিয়েছে, আজ কালের মধ্যে রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হতে পারে। এদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার (জেলা জজ) শহিদুল আলম ঝিনুক জনকণ্ঠকে বলেছেন, বুধবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আপীল বিভাগ থেকে রায়ের অনুলিপি আসেনি। বুধবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার (এসকে সিনহার) নেতৃত্বে চার সদস্য বিশিষ্ট আপীল বিভাগের বেঞ্চ পিনপতন নীরবতার মধ্যে এ রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন- বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। মাত্র এক মিনিটে প্রধান বিচারপতি দুই রিভিউ আবেদনের রায় ঘোষণা করেন। প্রধান বিচারপতি শুধু বলেন, ‘ডিসমিসড’।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদের রিভিউ শুনানি শেষ মঙ্গলবার। রায় ঘোষণার জন্য বুধবার সাড়ে ১১টা নির্ধারণ করা হয়। অন্যদিকে সাকা চৌধুরীর রিভিউ শুনানি সকালে শুরু হয়। ঐ দিনই শেষ হয়ে সাড়ে ১১টার দিকে রায় ঘোষণার জন্য নির্ধারণ করা হয়। রায়কে কেন্দ্র করে সুপ্রীমকোর্টসহ আশপাশে কঠোর নিরাপত্তা নেয়া হয়। রায়ের পর উপস্থিত আইনজীবীসহ মুক্তিযোদ্ধারা আনন্দ প্রকাশ করেন।

সকাল সাড়ে আটটা থেকেই আপীল বিভাগে আইনজীবী সাংবাদিক গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন আসতে থাকে। নিরাপত্তার জন্য সবাইকে চেক করে এজলাসে ঢুকতে দেয়া হয়। এছাড়া আদালতের প্রতিটি গেটে পুলিশসহ র‌্যাব সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। সাকা ও মুজাদিদের রায়কে কেন্দ্র করে যাতে কোন অপ্রতিকর ঘটনা না ঘটে সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বদা সজাগ রাখা হয়। আপীল বিভাগে যাবার সময় জামাল উদ্দিন নামে এক ভুয়া এনএসআই সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে আপীল বিভাগের এজলাস কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। এ সময় প্রধান বিচারপতি পিনপতন নীরবতায় এক মিনিটের কম সময়ের মধ্যে রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় প্রধান আইন কর্মকর্তা মাহাবুবে আলম, চীফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপুসহ অন্য প্রসিকিউটরবৃন্দ ও আসামি পক্ষের প্রধান আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, এ্যাডভোকেট এসএম শাহজাহান ও এ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনিরসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

জেল কোডের প্রয়োজন নেই ॥ আইনমন্ত্রী এ্যাডভোকেট আনিসুল হক জনকণ্ঠকে বলেছেন, কাদের মামলার রায়ে উল্লেখ আছে, সাকা চৌধুরী ও মুজাহিদের দ- কার্যকর করতে জেল কোডের প্রয়োজন নেই। তিনি আরও বলেছেন, রায় বাস্তবায়নে ৭ দিনের অপেক্ষার সুযোগও নেই। আমাদের ফৌজদারি কার্যবিধিতে বলা আছে যে, ফৌজদারি কার্যবিধির আন্ডারে যখন দ- হয় এবং তখন ক্যাপিটেল পানিশমেন্ট হয় মানে মৃত্যুদ- দেয়া হয়। তাকে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলিয়ে তার মৃত্যুদ- কার্যকর করা হয়। এই খানে সেই রকম কিছু নেই। আর একটা কথা আছে, জেল কোড, জেল কোডের ৯৮১ নং রুলে বলা আছে যে, তাদেরকে মার্সি পিটিশন করবেন কিনা জিজ্ঞাসা করা হবে। তারা যদি মার্সি পিটিশন করে মার্সি পিটিশন দেয়ার জন্য যতটুকু সময় লাগে দেয়া হবে।

যেহেতু জেল কোডে বলা আছে ৭ দিন জাজমেন্টে বলা আছে যে, জেল কোড নট এপ্লাই। সেহেতু আমার ধারণা যে, আমার আইনে যে ব্যাখ্যা সেটা হলো ৭ দিন অপেক্ষা করার সুযোগ নেই। তার পর তাদের জবারের ওপর দিনক্ষণ জেল কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করবে। এ বিষয়ে আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজি প্রিজনের সঙ্গে বসব। এবং এই আইনের ব্যাখ্যা বা আইনের কোন প্রশ্ন আছে কিনা সেটা নিরসন করব।

আপীলে ৫টি মামলা নিষ্পত্তি ॥ এনিয়ে আপীল বিভাগে মোট ৫টি মামলা নিষ্পত্তি হলো। এর আগে তিনটি মামলার মধ্যে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদ- কমিয়ে আপীল বিভাগ আমৃত্যু কারাদ- প্রদান করেছে। এ মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় এখনও প্রকাশিত হয়নি। পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হলে রাষ্ট্র পক্ষ রিভিউ করবে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে জামায়াতের দুই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লাকে ট্রাইব্যুনাল যাবজ্জীবন কারাদ- প্রদান করলেও আপীল বিভাগ দ- বাড়িয়ে মৃত্যুদ- প্রদান করেন। আর মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের মৃত্যুদ- বহাল রাখে আপীল বিভাগ। এ দুই আসামির মৃত্যুদ- কার্যকর করা হয়েছে। এদিকে সাকা মুজাহিদের রিভিউ আবেদন খারিজ করার পর এখন তাদের দ- কার্যকর করাটা সময়ের ব্যাপার। আপীল বিভাগে আরও ১০টি মামলা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

সুপ্রীমকোর্টে নিরাপত্তা ॥ রায়কে কেন্দ্র করে মঙ্গলবারের মতো বুধবারও সুপ্রীমকোর্ট প্রাঙ্গণ ও এর আশপাশের এলাকায় নিñিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সুপ্রীমকোর্টের মাজার গেট, মূল গেট, সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনসহ সুপ্রীমকোর্ট প্রাঙ্গণে পুলিশ, র‌্যাবসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। যে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ভোর থেকেই নিরাপত্তাকর্মীরা এই এলাকায় অবস্থান নিয়েছেন। সকাল থেকেই হাইকোর্ট এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ র‌্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তারা এলাকায় আসার সময় প্রত্যেকেই তল্লাশি করছেন।

সাকার মামলার ইতিবৃত্ত ॥ একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে ট্রাইব্যুনাল কর্র্তৃক হত্যা ও গণহত্যার দায়ে মৃত্যুদ-াদেশ পাওয়া বিএনপির শীর্ষ নেতা সাকা বাহিনীর (নিজস্ব বাহিনী) প্রধান স্বঘোষিত ব্রিগেডিয়ার সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীকে ২৯ জুলাই ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদ- বহাল রাখে সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের আপীল বেঞ্চ মামলার রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অন্য সদস্যরা ছিলেন, বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। ৭ নম্বর অভিযোগ থেকে আসামি সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে খালাস দেয়া হলো। ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৮, ১৭ ও ১৮ নম্বর অভিযোগে সাজা বহাল রাখা হলো। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর সাকা চৌধুরীকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদ- দেন চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। ২৩টি অভিযোগের মধ্যে ৯টি ঘটনায় সাকা চৌধুরীর সংশ্লিষ্টতা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। আর যে সকল অভিযোগ থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে সেগুলো হলো, ১, ১০, ১১, ১২, ১৪, ১৯, ২০ ও ২৩ নং অভিযোগ। এছাড়াও প্রসিকিউশন পক্ষ সাক্ষী না দেয়াতে যে অভিযোগগুলো নিয়ে আদালত কিছু বলেনি সেগুলো হলো, ৯, ১৩, ১৫, ১৬, ২১ ও ২২ নং অভিযোগ। ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে সাকা চৌধুরী ২০১৩ সালের ২৯ অক্টোবর সুপ্রীমকোর্টে আপীল দায়ের করেন।

মুজাহিদ ॥ মঙ্গলবার শুনানি শেষে রায ঘোষণার জন্য বুধবার দিন রাখা হয়েছিল। মঙ্গলবার সকাল ৯টা ৮ মিনিটে আসামিদের প্রধান আইনজীবী এ্যাডভোকেট খন্দকার মাহাবুব হোসেন আনুষ্ঠানিকভাবে রিভিউ আবেদনের পক্ষে আদালতে যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন। এর আগে সকাল ৯টা ৫ মিনিটে সুপ্রীমকোর্টের তালিকায় প্রথমে থাকা অন্য একটি মামলার আদেশ দেয়া হয়। তার কয়েক মিনিট পরই রিভিউ আবেদনের শুনানি শুরু হয়। প্রথমে মুজাহিদের পক্ষে যুক্তিতর্ক তুলে ধরে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী শুনানি করেন এ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন। এরপর ১০টা ৫৫ মিনিটে রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি শুরু করেন এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। বেলা ১১টায় আধা ঘণ্টার জন্য শুনানিতে বিরতি দিয়ে বেলা সাড়ে ১১টায় আবারও রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন এ্যার্টনি জেনারেল। তিনি ১২টার সময় যুক্তি উপস্থান শেষ করেন। এরপর আদালত রায় ঘোষণার জন্য বুধবার দিন নির্ধারণ করেন।

মামলার ইতিবৃত্ত ॥ একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে ট্রাইব্যুনাল কর্র্তৃক মৃত্যুদ-াদেশ পাওয়া জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলবদর কমান্ডার বুদ্ধিজীবী হত্যার মাস্টারমাইন্ড আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের আপীল খারিজ করে ১৬ জুন মুত্যুদ- বহাল রাখে আপীল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের আপীল বেঞ্চ ঐকমত্যের ভিত্তিতে এ রায় ঘোষণা করেন। বুদ্ধিজীবী হত্যায় এটাই আপীল বিভাগের প্রথম রায়।

উল্লেখ্য, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ২০১৩ সালের ১৭ জুলাই চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান শাহীনের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদ- প্রদান করে। এই প্রথম বাংলাদেশের মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করা কোন ব্যক্তি বুদ্ধিজীবী হত্যার অভিযোগে উচ্চ আদালত তাকে মৃত্যুদ- বহাল রাখল। আপীল বিভাগ রায়ে অভিযোগ-১ সাংবাদিক সিরাজ উদ্দিন হোসেনকে অপহরণ ও হত্যার দায়ে আসামি মুজাহিদকে খালাস দিয়েছেন। অভিযোগ-২ ট্রাইব্যুনালের দেয়া ৫ বছরের সাজা বহাল রেখেছেন। অভিযোগ-৫ এ বদি-রুমিসহ অন্যদের হত্যার ঘটনায় ট্রাইব্যুনালের দেয়া যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদ- বহাল রেখেছে। অভিযোগ-৬ ট্রাইব্যুনালের দেয়া বুদ্ধিজীবী হত্যার অভিযোগে মৃত্যুদ- বহাল রাখা হয়েছে। অন্যদিকে অভিযোগ-৭ এ বকচর হত্যাকা-ে ট্রাইব্যুনালের মুত্যুদ- কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদ- প্রদান করা হয়েছে। ২০১৩ সালের ১৭ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মুজাহিদের বিরুদ্ধে ৭টি অভিযোগের মধ্যে ২টি অভিযোগ (২ ও ৪) প্রমাণিত না হওয়ায় অভিযোগর দায় থেকে তাকে খালাস দেয়। অন্যদিকে ৫টি অভিযোগ (১, ৩, ৫, ৬ ও ৭) সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল তাকে ৩নং অভিযোগে ৫ বছর ও ৫নং অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদ- প্রদান করে। ৬ ও ৭নং অভিযোগে মুজাহিদকে মৃত্যুদ- প্রদান করা হয়। ১নং অভিযোগটি ৬নং অভিযোগের সঙ্গে একীভূত করায় ১নং অভিযোগে পৃথক কোন দ- দেয়নি ট্রাইব্যুনাল।

দ- কার্যকরে আইনী বাধা নেই ॥ এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, রিভিউ খারিজ হওয়ায় একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর দ- কার্যকরে আর কোন আইনী বাধা নেই । মামলায় মুজাহিদ ও সাকা চৌধুরীর ফাঁসির রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন বুধবার সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগ খারিজ করে দেয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান তিনি।

তিনি বলেন, আজকে রিভিউ পিটিশন খারিজ হওয়ার মাধ্যমে আইনী পক্রিয়ার পরিসমাপ্তি ঘটল। ফাঁসি কার্যকর করার ব্যাপারে আর কোন আইনী বাধা নেই। এখন সরকারী সিদ্ধান্তে এবং তারা যদি কোন ক্ষমা ভিক্ষা চান, সেই কথা আলাদা। শর্ট অর্ডার লাগবে কিনা- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমি আদালতে শর্ট অর্ডার চেয়েছিলাম। তারা বলেছেন, যেহেতু মামলা খারিজ হয়ে গেছে তাই শর্ট অর্ডারের কোন প্রয়োজন নেই। কোনরকম স্থগিতাদেশ নেই। কাজেই কোনরকম শর্ট অর্ডারেরও প্রয়োজন নেই।

কত দিনের মধ্যে কার্যকর করতে হবে- জানতে চাইলে সরকারের প্রধান আইন কর্মকর্তা বলেন, এই আইনে নির্দিষ্ট করে কোন সময় দেয়া নেই। তাদের হয়ত জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এই প্রক্রিয়াটির কোন সময়সীমা নেই।

সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর কাগজ জমা দেয়া সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ঘটনার সময় বাংলাদেশে ছিলেন না মর্মে এর আগেও কাগজ জমা দেয়া হয়েছিল। ওই তারিখেই আদালত এসব দরখাস্ত খারিজ করে দিয়েছিলেন। এবার পাঞ্চাব ইউনিভার্সিটির একটি ডুপ্লিকেট সার্টিফিকেট দেয়া হয়েছে। আদালত এটাকে গোচরে আনেননি। আমরাও বলেছি, এই কথিত সার্টিফিকেট গ্রহণ করা যাবে না। কারণ এই কথিত সার্টিফিকেট ২০১২ সালে ইস্যু করা।

সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী তার পাকিস্তানে অবস্থানের বিষয়ে ২০১৩ সালের জুলাইয়ে নিজেই আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি এসব কিছু উল্লেখ করেননি। সুতরাং এই সার্টিফিকেট শেষ মুহূর্তে বিবেচনায় আনার প্রয়োজন আছে বলে আদালত মনে করেনি। আমরাও একই রকম বক্তব্য দিয়েছি।

রাষ্ট্র চাইলে ক্ষমা করতে পারেন ॥ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, ‘আমরা আইনজীবী, আমরা আইনের লড়াই করেছি। আমরা হেরে গেছি, ব্যাস। এইটুকুই প্রতিক্রিয়া।’ পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণ সরকারের ওপর নির্ভর করে। কখন কার্যকর করবে, কী করবে, আদৌ করবে কি-না, এটা সরকারের ওপর নির্ভর করে।’ নিয়ম অনুযায়ী তারা এখন কেবল নিজেদের কৃতকর্মের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইতে পারবেন। রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাইবেন কিনা সেটা তাদের বিষয়। তবে রাষ্ট্র চাইলে তাদের ক্ষমা করে দিতে পারে। বুধবার রায় ঘোষণার পর আদালত প্রাঙ্গণে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় খন্দকার মাহবুব হোসেন এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, আসামিরা কি অপরাধ করেছেন সেটা তাদের বিষয়। আমরা আদালতে তথ্য প্রমাণ দেয়ার চেষ্টা করেছি। একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী ও জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের করা রিভিউ আবেদন খারিজ করেছে সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগ। ফলে তাদের মৃত্যুদ-ই বহাল রইল দেশের সর্বোচ্চ আদালতে। রায় কার্যকরে আর আইনী বাধা থাকল না। তবে তারা রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইতে পারবেন।