১৫ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে বাকি কেবল প্রাণভিক্ষার নিষ্পত্তি

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে বাকি কেবল প্রাণভিক্ষার নিষ্পত্তি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ কোন যুদ্ধাপরাধীর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদ- হলেই তার দ- কার্যকর হচ্ছে না, তা সবারই জানা। কারণ ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রীমকোর্টে আপীল করা যায়। সুপ্রীমকোর্টের রায়েও ফাঁসি বহাল থাকলে সামনে আসে রিভিউ (পুনর্বিবেচনা)। আর আসামির রিভিউ আবেদন যদি খারিজ হয়, তাহলে দ- কার্যকরে আর কোন বিচারিক প্রক্রিয়া থাকে না। বুধবার কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের রিভিউ আবেদন খারিজের

পর মৃত্যুদ- কার্যকরে প্রাণ ভিক্ষা ছাড়া আর কোন আইনী প্রক্রিয়া বাকি থাকল না। এই দুই কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধীর প্রাণ ভিক্ষা চাওয়া বা না চাওয়ার বিষয়টি নিষ্পত্তি হলেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালস আইনের ২০ (৩) ধারা অনুযায়ী সরকার যে কোন সময়ে সাকা ও মুজাহিদের মৃত্যুদ- কার্যকর করতে পারে। এক্ষেত্রে জেল কোডের কোন বিধান কার্যকর হবে না। এর আগে মৃত্যুদ- কার্যকর হওয়া দুই যুদ্ধাপরাধী আব্দুল কাদের মোল্লা ও কামারুজ্জামানের ক্ষেত্রেও জেল কোড কার্যকরি হয়নি।

এই দুই কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধীর রিভিউ আবেদন খারিজের পর এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, এখন তাদের মৃত্যুদ- কার্যকরে আর কোন বাধা নেই। কারা কর্তৃপক্ষ তাদের দ- কার্যকরে সব কাজ এগিয়ে নিবেন। যদি এই সময় আসামিরা প্রাণ ভিক্ষার আবেদন করে তাহলে দ- কার্যকর প্রক্রিয়া ওই আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। দুই রিভিউ আবেদন খারিজের পর বুধবার এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, এ দ- কার্যকর এখন সময়ের ব্যাপার।

সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগ গত ১৬ জুন একাত্তরের বদর প্রধান মুজাহিদের আপীলের রায় ঘোষণা করে। আপীলের রায়েই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেয়া ফাঁসির রায় বহাল থাকে। অন্যদিকে, গত ২৯ জুলাই সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগ চট্টগ্রামে ত্রাস সাকা চৌধুরীকে ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদ-ের রায় বহাল রেখে রায় দেন। পরে গত ৩০ সেপ্টেম্বর একই দিনে এই দুই কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধীর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করে সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগ। এরপর নিয়ম অনুযায়ী ট্রাইব্যুনাল দুজনের মৃত্যু পরোয়ানা জারি করে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠায়। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে মুজাহিদকে আর কাশিমপুর কারাগারে সাকা চৌধুরীকে সেই মৃত্যু পরোয়ানা ১ অক্টোবর পড়ে শোনানো হয়। এর পর পরই এদের মৃত্যুদ- কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু করে কারা কর্তৃপক্ষ। তবে সাকা চৌধুরী ও মুজাহিদ রিভিউ আবেদন করার সঙ্গে সঙ্গে ওই প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে যায়। রিভিউ আবেদন খারিজের পর এই যুদ্ধাপরাধীদের মৃত্যুদ- কার্যকরে আর কোন বাধা নেই।

সাধারণ নিয়মে বিচারিক আদালত মৃত্যু পরোয়ানা জারি করার পর ওই পরোয়ানা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে কারাগারে পাঠাতে হবে। কারা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি দ-প্রাপ্ত আসামিকে পড়ে শোনাবে। কারা বিধির ৯৯১ ধারার ৩ উপবিধিতে বলা হয়েছে, দ-প্রাপ্ত আসামি ইচ্ছা করলে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাইতে পারবেন। তবে সাত দিনের মধ্যে ক্ষমার আবেদন করতে হবে। ৫ উপবিধিতে বলা হয়েছে, সাত দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমার আবেদন না করলেও পরবর্তী ১৪ দিনের মধ্যে অর্থাৎ ২১ দিনের মধ্যে যে কোন দিন রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করার সুযোগ পাবেন আসামি। এরপর রাষ্ট্রপতির নেয়া সিদ্ধান্ত না পৌঁছানো পর্যন্ত কারা কর্তৃপক্ষ ফাঁসি কার্যকর করতে পারবে না। কারাবিধির ৯৯১ তে বলা হয়েছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কারা কর্তৃপক্ষ আসামির প্রাণ ভিক্ষার আবেদন রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত নিয়ে সেটি রাষ্ট্রপতির কাছে উপস্থাপন করবে। ফলাফল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ই আবার কারা কর্তৃপক্ষকে জানাবে। তবে আসামি যদি রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাইতে রাজি না থাকে তাহলে যে কোন দিনই দ- কার্যকর করা যাবে। তবে কারাবিধির এসব কোন বিধানই কার্যকর হবে না সাকা চৌধুরী ও মুজাহিদের ক্ষেত্রে। কারণ এদের বিচার হয়েছে বিশেষ আইনে। তারা যে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণ ভিক্ষার সুযোগ পাচ্ছেন সেটাও রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ক্ষমতা বলে। এক্ষেত্রে, ৭ বা ১৪ দিনের কোন বিধান কার্যকর নয়। আর এই যুদ্ধাপরাধীদের দ- কার্যকরও সরকারের নির্ধারিত সময়ে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালস আইনের ২০(৩) ধারা সরকারকে এই ক্ষমতা দেয়া হয়েছে।

এই মাত্রা পাওয়া