১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মানব পাচারের অভিযোগে ৯৫ হজ এজেন্সিকে শাস্তি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ওমরাহের নামে মানবপাচারের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ১০৪টি এজেন্সির মধ্যে ৯৫টিকে শাস্তি দিয়েছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে ৬৯টি এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল, জামানত বাজেয়াফতসহ জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া শুধু জরিমানা করা হয়েছে ২৬টি এজেন্সিকে। নয়টি এজেন্সির অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। সচিবালয়ে বুধবার সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী মতিউর রহমান এসব তথ্য তুলে ধরেন। ওমরাহ ভিসার মাধ্যমে হাজার হাজার বাংলাদেশী সৌদি আরবে রয়ে গেছেন, এজন্য গত মার্চ মাসের শেষদিক থেকে এ ভিসা বন্ধ রেখেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। এ পরিপ্রেক্ষিতে ধর্মমন্ত্রণালয় ওমরাহ এজেন্সিগুলোর বিরদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার উদ্যোগ নেয়।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, ‘সৌদি আরবের ওমরাহ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ আমাদের জানিয়েছে, গত বছর ওমরাহ যাত্রীদের একটি অংশ দেশে ফেরত আসেনি। বিষয়টি আমাদের জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর ও অনাকাক্সিক্ষত। এ অবস্থায় আমি গত ৮ জুন দায়ী ওমরাহ এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। ওমরাহ করতে গিয়ে ১১ হাজার ৪৮৫ জন ফিরে আসেনি জানিয়ে মতিউর রহমান বলেন, ‘আমরা অভিযুক্ত ১০৪টি এজেন্সির বিরদ্ধে তদন্ত শুরু করি। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিববের নেতৃত্বে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালিত হয়। কমিটি ২১ অক্টোবর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রতিবেদন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ওমরাহ এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’

শাস্তি পাওয়া এজেন্সিগুলোর সঙ্গে কোন ধরনের লেনদেন না করার জন্য সবাইকে সতর্ক করে মন্ত্রী বলেন, ‘এ তালিকা পত্রিকায়ও প্রকাশ করা হবে। পাঁচ লাখ টাকা থেকে দুই কোটি টাকা পর্যন্ত এজেন্সিগুলোকে জরিমানা করা হয়েছে। যেসব এজেন্সির ৫০৮ থেকে ৯৪০ ওমরাহ যাত্রী ফিরে আসেনি তাদের লাইসেন্স বাতিল, জামানত বাজেয়াফতসহ দুই কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জেমিনি ট্রাভেলস লিমিটেড, সবুজ বাংলা ইন্টারন্যাশনাল ও মারুফ ট্রাভেল ইন্টারন্যাশনাল এ শাস্তি পেয়েছে। ২৭৮ থেকে ৪৫১ ওমরাহযাত্রী ফিরে না আসায় গোল্ডেন বাংলা ট্রাভেল এ্যান্ড ট্যুরস, এলাইট ট্রাভেলস, রাব্বানী ওভারসিজ সার্ভিসেস, কনকর্ড ইন্টারন্যাশনাল ও পারাবাত ট্রাভেল এ্যান্ড ট্যুরস লিমিটেডের লাইসেন্স বাতিল, জামানত বাজেয়াফতসহ দেড় কোটি টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। ২৪০ থেকে ২৭৫ জন পর্যন্ত ফেরত আসেনি এমন পাঁচটি ওমরাহ এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল, জামানত বাজেয়াফত করে এক কোটি টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এজেন্সিগুলো হচ্ছেÑ এমএমআর এ্যাভিয়েশন, রওশন ট্রাভেল ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, ইউনাইটেড স্টারস ট্রাভেলস, আফতাব ট্রাভেল এ্যান্ড ট্যুরস ও থ্রি স্টার ট্রাভেলস।

১১৮ থেকে ২৪০ ওমরাহ যাত্রী ফিরে না আসায় ১৯টি এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল, জামানত বাজেয়াফতসহ ৭৫ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এজেন্সিগুলো হচ্ছে- আল নূর ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেল এজেন্ট, ইন্টার্ন ট্রাভেলস, ফ্লাই হোম ট্রাভেলস (লাইসেন্স নম্বর ১৩), ফ্লাই হোম ট্রাভেলস (লাইসেন্স নম্বর ২৯০), রয়েল এয়ার সার্ভিস সিস্টেম, ওয়েসিস এয়ার সার্ভিসেস, এভিয়া ওভারসিজ লিমিটেড, এভারগ্রিন ট্রাভেলস এ্যান্ড ট্যুরস, এয়ার এক্সপ্রেস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, কেএসপি ট্রাভেলস, বাংলাদেশ ওভারসিজ সার্ভিসেস, ইকো ইন্টারন্যাশনাল, সিটি নিয়ন ট্রাভেলস, গালফ ট্রাভেলস এ্যান্ড ট্যুরস, এ্যাডমিয়ার এয়ার ট্রাভেলস লিমিটেড, এমপি ট্রাভেলস লিমিটেড, টপক্যান ওভারসিজ লিমিটেড ও সিটিওভারসিজ। মুনা ট্রাভেলস এ্যান্ড ট্যুরসের লাইসেন্স বাতিল, জামানত বাজেয়াফতসহ ৫০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ এজেন্সির ৩৩ ওমরাহযাত্রী ফিরে আসেনি।

যেসব এজেন্সির ৬০ থেকে ১১০ ওমরাহ যাত্রী ফিরে আসেনি তাদের লাইসেন্স বাতিল, জামানত বাজেয়াফতের সঙ্গে ৩০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এজেন্সিগুলোর মধ্যে রয়েছে- গোল্ডেন বেঙ্গল ট্যুরস এ্যান্ড ট্রাভেলস, খাদেম এয়ার সার্ভিসেস, রয়েল এয়ার সার্ভিসেস, লর্ড ট্রাভেলস, লাকী ওভারসিজ, টাইমস এ্যাভিয়েশন সিস্টেম লিমিটেড, বেঙ্গল ট্রেড এ্যান্ড ট্যুরিজম লিমিটেড, আল-আরাফাহ ওভারসিজ, ইজিওয়ে ট্রাভেলস, কুমিল্লা ট্রাভেলস, মেগাটপ ট্রাভেলস ইন্টারন্যাশনাল, সানজারি ট্রাভেলস এ্যান্ড ট্যুরস, মল্লিক ট্রাভেলস ইন্টারন্যাশনাল, মদিনা এয়ার ট্রাভেলস লিমিটেড, আটলান্টিক ট্রাভেল ইন্টারন্যাশনাল, পার্পল এ্যাভিয়েশন সিস্টেমস, সাদ এয়ার ইন্টারন্যাশনাল ও ফারহার এ্যাভিয়েশন সার্ভিসেস।