২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ইংল্যান্ডের কাছে ধরাশায়ী বিধ্বস্ত ফ্রান্স

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ প্যারিসে ভয়াবহ ঘটনার রেশ এখনও কাটেনি। এর মধ্যেই লন্ডনের বিখ্যাত ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার রাতে আন্তর্জাতিক প্রীতি ফুটবল ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স। ম্যাচটিতে স্বাগিতক ইংল্যান্ড ২-০ গোলে ফরাসীদের হারালেও সব ছাপিয়ে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ভালবাসা, সহমর্মিতা ও মানবিকতার দিক।

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে আন্তর্জাতিক প্রীতিম্যাচে হাট বসেছিল পরশু রাতে। ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোবিহীন পর্তুগাল ২-০ গোলে লুক্সেমবার্গকে পরাজিত করে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি ২-২ গোলে ড্র করে রোমানিয়ার সঙ্গে। অন্যান্য ম্যাচে লেবানন ১-০ গোলে মেসিডোনিয়াকে, ক্রোয়েশিয়া ৩-১ গোলে রাশিয়াকে, আজারবাইজান ২-১ গোলে মলদোভাকে, সুইজারল্যান্ড ২-১ গোলে অস্ট্রিয়াকে ও পোল্যান্ড ৩-১ গোলে পরাজিত করে চেক প্রজাতন্ত্রকে। তুরস্ক ও গ্রীসের মধ্যকার ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়। নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে আগের দিনই বাতিল করা হয় বেলজিয়াম-স্পেন ম্যাচ। হামলার আশঙ্কার কারণে শেষ মুহূর্তে বাতিল করা হয় জার্মানি ও হল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচও।

দুর্দান্ত ছন্দেই আছে ইংল্যান্ড। প্রায় ১৭ মাস অপরাজিত থাকার পর গত শুক্রবার স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরেছিল ১৯৬৬ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়নরা। ওই হারের ক্ষত থেকে বেরিয়ে আসতে সময় নেয়নি ইংলিশরা। ঘরের মাঠে ফরাসীদের হারিয়ে জয়ের ধারায় ফিরেছে রয় হডসনের দল। কড়া নিরাপত্তায় লন্ডনের ওয়েম্বলির ম্যাচটি যতটা না ছিল ফুটবল লড়াইয়ের, তার চেয়ে বেশি ছিল আবেগের, ভালবাসার, মানবিকতার। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে গত শুক্রবার সন্ত্রাসী হামলায় ১২৯ জন নিহত হয়। হতাহতও হয় অনেক। বিশ্ব মানবতাকে নাড়া দেয়া ওই ঘটনার পর নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় ম্যাচটি আয়োজন করা নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হয়। ইংল্যান্ড ম্যাচটি স্থগিত করারও আবেদন করেছিল। কিন্তু ফ্রান্সের আগ্রহের কারণেই শেষ পর্যন্ত ময়দানী লড়াইয়ে মুখোমুখি হয় দু’দল।

তবে সব ছাপিয়ে প্যারিসের শোকাবহ ঘটনায় ওয়েম্বলিতে বিনম্র শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা হয়। ফ্রান্সের প্রতি সংহতি জানাতে অনেক ইংলিশ দর্শককে এক হাতে ইংল্যান্ডের আরেক হাতে ফ্রান্সের পতাকা নিয়ে মাঠে প্রবেশ করতে দেখা যায়। ম্যাচের আগে ফরাসীদের জাতীয় সঙ্গীতের কিছু অংশ জায়ান্ট স্ক্রিনে ভেসে ওঠে। এ সময় গ্যালারির দর্শকরাও কণ্ঠ মেলান। খেলা দেখতে স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিলেন ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ও প্রিন্স উইলিয়াম। ম্যাচের শুরুতে প্যারিসের ঘটনার জন্য শোক জানিয়ে লালগালিচা দিয়ে শোক জানানো হয়। ম্যাচ শুরুর আগে এক মিনিটের নীরবতা পালন করা হয়।

আবেগী ম্যাচ হলেও মাঠের লড়াইটা ভালই জমে উঠে। প্রথম সুযোগ সৃষ্টি করে অতিথি ফ্রান্স। কিন্তু সপ্তম মিনিটে ২২ গজ দূর থেকে নেয়া ইয়োহান কাবাইয়ের শট ক্রসবারের সামান্য উপর দিয়ে চলে যায়। প্রথম দশ মিনিট ফরাসীদের আক্রমণে স্বাগতিকরা কিছুটা কোণঠাসা থাকলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় ইংলিশরা। ৩৯ মিনিটে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। ডান দিকে প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে বিদ্যুতগতির কোনাকুনি শটে বল জালে জড়ান মিডফিল্ডার আলী। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্যবধান দ্বিগুণ করে ইংলিশরা। তারকা স্ট্রাইকার রুনির চমৎকার গোলটিতেও অবদান রাখেন প্রথম গোলদাতা আলী। ১৯ বছর বয়সী এই উঠতি তারকা লম্বা করে বল বাড়ান রাহিম স্টার্লিংয়ের উদ্দেশে। লিভারপুল তারকা উঁচু করে বল বাড়ান রুনিকে। ডান পায়ের ভলিতে দেশের হয়ে ৫১ নম্বর গোলটি করেন ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ গোলদাতা।

দলের সেরা তারকা ও অধিনায়ক রোনাল্ডো না থাকলেও সহজ জয় তুলে নেয় পর্তুগাল। স্বাগতিক লুক্সেমাবার্গের বিরুদ্ধে ৩০ মিনিটে এগিয়ে যায় পর্তুগিজরা। স্ট্রাইকার ভিয়েরিনহার পাসে বল জালে জড়ান মিডফিল্ডার আন্দ্রে ফিলিপে। ৮৭ মিনিটে অভিজ্ঞ উইঙ্গার ন্যানির ফ্রি-কিকে ব্যবধান দ্বিগুণ করে অতিথিরা। আরেক ম্যাচে রোমানিয়ার বিরুদ্ধে ঘরের মাঠেও ড্রয়ের হতাশায় ডোবে ইতালি। ম্যাচের অষ্টম মিনিটে স্ট্রাইকার বোগদান স্ট্যানচুর গোলে এগিয়ে যায় রোমানিয়া। বিরতির পর ৫৫ মিনিটে পেনাল্টি থেকে ইতালিকে সমতায় ফেরান মিডফিল্ডার ক্লডিও মার্চিসিও।

দশ মিনিট পর ২-১ গোলে এগিয়ে যায় আজ্জুরিরা। মার্চিসিওর পাসে ক্যারিয়ারের প্রথম আন্তর্জাতিক গোল করেন নেপোলির ২৩ বছর বয়সী স্ট্রাইকার মানোলা গাব্বিয়াডিনি। নির্ধারিত সময়ের এক মিনিট আগে স্বাগতিকদের হতাশায় ডোবান রোমানিয়ার স্ট্রাইকার ফ্লোরিয়ান এ্যান্ডোনে। দুর্দান্ত গোল করে দারুণ ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে রোমানিয়া।