১৫ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জামালপুরের ৮ রাজাকার আমার মামাকে হত্যা করে

  • যুদ্ধাপরাধী বিচার;###;আজিজুর রহমানের জবানবন্দী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে জামালপুরের ৮ রাজাকারের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্যের পর সাক্ষ্য গ্রহণ হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের প্রথম সাক্ষী আজিজুর রহমান ওরফে ডল তার জবানবন্দীতে বলেন, একাত্তরের ১১ জুলাই জামালপুরের ব্রহ্মপুত্র নদে আমার মামা নুরুল আমীন মল্লিকের লাশ পাওয়া যায়। আসামি আশরাফ, শরিফ আহমেদ আব্দুল মান্নান, শামসুল, ইউসুফসহ অন্য রাজাকাররা আমার মামাকে হত্যা করেছে। যা আমার নানা মৃত্যুর পূর্বে আমাদের বলে গিয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার আসামিপক্ষের আইনজীবী সাক্ষীকে জেরা করবেন। চেয়ারম্যান বিচারপতি আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ প্রদান করেছেন। ট্রাইব্যুনালে অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি মোঃ শাহীনুর ইসলাম ও বিচারপতি মোঃ সোহরাওয়ার্দী। প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ এ মামলায় সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন। পরে সাক্ষীকে সাক্ষ্য গ্রহণে সহায়তা করেন জেয়াদ আল মালুম ও তাপস কান্তি বল। আসামিপক্ষে ছিলেন এ্যাডভোকেট আব্দুস সুবহান তরফদার।

প্রসিকিউশনের সাক্ষী তার জবানবন্দীতে বলেন, আমার নাম আজিজুর রহমান ওরফে ডল (৫৬)। আমার বাড়ি জামালপুরের সিংহজানী হাইস্কুলের রোডে। আমি দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকার জামালপুর জেলা প্রতিনিধি।

সাক্ষী বলেন, একাত্তরের ২২ এপ্রিল টাঙ্গাইলের মধুপুরের দিক থেকে গুলিবর্ষণ করতে করতে পাকবাহিনী জামালপুর শহরে প্রবেশ করে। পরে তারা শহরের ওয়াপদা রেস্ট হাউস ও পিটিআইতে অবস্থান নেয়। পরে ইসলামী ছাত্র সংঘের সদস্যরা জামালপুরে আলবদর বাহিনী গঠন করে। উক্ত পিচ কমিটির নেতা ছিলেন আসামি ইউসুফ আলী। আসামি শামসুল হক একাত্তরে জামালপুরে বদর ভাই নামে পরিচিত ছিল। একাত্তরের মে মাসে জামালপুরে রাজাকার ও আলবদর বাহিনী গঠন করে। আসামি অধ্যাপক শরীফ আহমেদ, আসামি আশরাফ হোসেন, আব্দুল মান্নান, আসামি আব্দুল বারী, হাশেম, হারুন, শাহ আলম মতিউর রহমান মজনুসহ আরও অনেকে ওই আলবদর বাহিনীর নেতা ছিলেন।

সাক্ষী বলেন, একাত্তরের ৯ জুলাই আসামিগণ তাদের সঙ্গী শাহআলম, মজনু, হারুনসহ আরও কয়েকজন মিলে আমার মামা নুরুল আমীন মল্লিককে চোখ বেঁধে ধরে রাজাকার ক্যাম্পে নিয়ে যায়। আসামিদের আমার নানা চিনতেন। আসামি অধ্যাপক শরিফ আহমেদ আমার মামার মামাতো ভাই। আমার নানা বার বার আমার মামাকে ছেড়ে দেয়ার কথা বললেও তাকে ছাড়েনি।

সাক্ষী আরও বলেন, একাত্তরের ১১ জুলাই জামালপুর শহরে অবস্থিত ব্রহ্মপুত্র নদে আমার মামা নুরুল আমীন মল্লিকের ভাসমান লাশ দেখতে পাই। তখন আমার মামার শরীরে বেয়নেটের অসংখ্য জখমের চিহ্ন ছিল। আমার নানা মৃত্যুর আগে আমাদের বলেছে, আসামি আশরাফ, শরিফ আহমেদ, আব্দুল মান্নান, আব্দুল বারী, আবুল হাশেম, আসামি হারুন, মজনু, হারুনুর রশিদ মুক্ত, শাহ আলম আমার মামাকে হত্যা করেছে।