২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

টি২০ বিশ্বকাপের আগে ঝালিয়ে নেয়ার সুযোগ ॥ মুশফিক

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগের (বিপিএল-টি২০) প্রথম আসরে রাজশাহীর হয়ে খেলেছেন। দ্বিতীয় আসরে সিলেটের হয়ে। এবার শুক্রবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান দিয়ে বিপিএলের পর্দা উঠতে যাওয়া তৃতীয় আসরেও সিলেটের হয়েই খেলবেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম। তিনি দলকে চ্যাম্পিয়ন করানোর চেষ্টার কথাই বুধবার বললেন। জানালেন, চ্যাম্পিয়ন হওয়ার চেষ্টা করব। সঙ্গে জানিয়ে দিলেন, টি২০ বিশ্বকাপ আছে। এশিয়া কাপও আছে। এর আগে নিজেদের ঝালিয়ে নেয়ার সুযোগ হচ্ছে বিপিএল।

বিপিএলে আপনার ব্যক্তিগত লক্ষ্য কি? এ প্রশ্ন তুলতেই মুশফিক বললেন, সবারই তো একটা ব্যক্তিগত লক্ষ্য থাকে। এটা স্বাভাবিক। আমরা দল হিসেবে খেলতে চাই। সিলেটের সর্বশেষ যে অপূর্ণতা ছিল সেটা যেন এবার ঘোচাতে পারি। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার একটা রেস থাকে। সবারই চেষ্টা থাকে। এটার জন্য অনেক ভাগ্য লাগে এবং মাঠে খেলতেও হয় ভাল। তো আমরা চেষ্টা করব। তবে আমাদের প্রথম লক্ষ্য থাকবে, আমরা যেন সেরা দুইয়ে থাকতে পারি। কারণ, ওখানে একটা ম্যাচে স্লিপ হলেও আরেকটা সুযোগ থাকে। তাই আমাদের লক্ষ্য গ্রুপ পর্ব যেন সেরা দুইয়ে থেকে শেষ করতে পারি।

সিলেট দলটির নাম এবার সিলেট সুপার স্টার্স। এ দলে আইকন ক্রিকেটারদের মধ্যে মুশফিক আছেন। এছাড়া দেশী ক্রিকেটারদের মধ্যে আছেন জুনায়েদ সিদ্দিকী, মুমিনুল হক, রুবেল হোসেন, আব্দুর রাজ্জাকরা। বিদেশী ক্রিকেটারদের মধ্যে আছেন শহীদ আফ্রিদী, কাইরন পোলার্ড, ব্র্যাড হজ, জসুয়া কব, রবি বোপারা, সোহেল তানভিররা। দলটি কেমন হলো? মুশফিক বললেন, শুধু আমার দল না। বিপিএলের ছয়টা দলই ভাল হয়েছে। আপনি যদি খেয়াল করে থাকেন ঘরোয়া এবং আন্তর্জাতিকে যারা পারফর্ম করেছে তারা সবাই আছে। তো আমার মনে হয় খেলাটা আসলে মাঠে। মাঠে যারা খেলবে তারা ভাল পারফর্ম করবে এবং ভাল রেজাল্ট করবে। তো আমার দল আল্লাহর রহমতে সবদিক থেকে ভারসাম্যপূর্ণ আছে। আমাদের বিদেশী খেলোয়াড়রা চলে এলে আর দল হিসেবে পারফর্ম করতে পারলে খুব ভাল রেজাল্ট হবে।

নিজ দলে কোন ঘাটতিই খুঁজে পাচ্ছেন না মুশফিক। এ নিয়ে জানিয়েছেন, না এখন পর্যন্ত ওই রকম কোন ঘাটতি নেই। আল্লাহর রহমতে পেস বোলার আছে, স্পিনার আছে। বাঁহাতি বা অফ স্পিনার, হার্টহিটার ব্যাটসম্যান, টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান, সবাই আছে। বৈচিত্র্য আছে। তো যার বিপক্ষে খেলব আমরা যেন পরকিল্পনা করে একাদশ বানাতে পারি এবং পারফর্ম করতে পারি।

রুবেল এখনও শতভাগ ফিট নন। ইনজুরি থেকে পুরোপুরি মুক্ত হতে পারেননি। তাই প্রথম থেকে রুবেল সিলেট সুপার স্টার্স নাও পেতে পারেন। এটাকে কিভাবে দেখছেন মুশফিক? বলেছেন, আমাদের জন্য এটা ব্যাকফুটই। কারণ, এখন রুবেল বাংলাদেশে অন্যতম সেরা এবং খুবই ফর্মে ছিল। দুর্ভাগ্যবশত ইনজুরির কারণে রুবেল জাতীয় দলে খেলতে পারেননি। আশা করছিলাম যেন ওকে প্রথম থেকে পাই। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত রুবেল সেরে ওঠেননি। কঠোর পরিশ্রম করছেন। ইনজুরির ওপর কার হাত নেই। ব্যাকআপ হিসেবে যারা আছে তারা যেন ভাল খেলে এবং ওর না থাকার ক্ষতিপূরণটা যেন পুষিয়ে দিতে পারে।

প্লেয়ার বাই চয়েজে সিলেটের মালিক বলেছিলেন আপনাকে টার্গেট করে আপনাকেই পেয়েছেন। তো এটাকে কিভাবে দেখেন? মুশফিক নিজেকে সম্মানবোধ করছেন, এটা অনেক বড় সম্মানের বিষয়। গর্ব করার মতো। আর ব্যক্তিগতভাবে বরিশাল দলে যিনি ছিলেন তার দলে খেলার ইচ্ছা ছিল অনেকদিন ধরে। তো পেয়েছি। চেষ্টা করব তিনি যে কারণে আমাকে দলে নিয়েছেন সেটা যেন মাঠে যথার্থ প্রমাণ করতে পারি। তো চেষ্টা থাকবে।

টি২০ বিশ্বকাপের আগে আমাদের ক্রিকেটারদের জন্য বিপিএলটা বড় প্ল্যাটফর্ম কিনা? মুশফিক বলেন, তা তো অবশ্যই। আপনি যদি খেয়াল করে থাকেন প্রথম বিপিএলের পর আমরা এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলেছিলাম। এটা একটা বড় অভিজ্ঞতা আমাদের স্থানীয় ক্রিকেটারদের জন্য। ক্রিস গেইল, শহীদ আফ্রিদী, কুমার সাঙ্গাকারা এত বড় লিজেন্ড ক্রিকেটারের সঙ্গে খেলা এবং ড্রেসিং রুম শেয়ার করা; এটা অনেক বড় একটা ব্যাপার আমাদের বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য। গ্রুপ পর্যায়ে যে ১০টা ম্যাচ থাকবে চেষ্টা থাকবে যেন এটার ব্যবহার করতে পারি। সামনে এশিয়া কাপ, টি২০ বিশ্বকাপ আছে। সেটার জন্য যতটুকু ঝালিয়ে নেয়া যায়।

নির্বাচিত সংবাদ