২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অনুমতি নিয়েই ক্লাব সভাপতির সঙ্গে দেখা করেন শেখ জামালের ফুটবলাররা!

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ আমরা কোন নিয়ম ভঙ্গ করিনি। জাতীয় দলের ম্যানেজার আমিরুল ইসলাম বাবু ও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) অনুমতি নিয়েই ক্লাব সভাপতির ডাকে আমরা কিছু সময়ের জন্য ক্যাম্প থেকে বাইরে গিয়েছিলাম। এখন কেউ যদি বলে থাকে আমাদের জোর করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বা নিয়ম অমান্য করে আমরা বাইরে গিয়েছিÑ সেটা খুবই দুঃখজনক। কথাগুলো বাংলাদেশ জাতীয় দলের অধিনায়ক তারকা ফুটবলার মামুনুল ইসলাম মামুনের। প্রসঙ্গত, আসন্ন দলবদল সামনে রেখে আলাপ-আলোচনার জন্য জাতীয় দলের ক্যাম্পে থাকা শেখ জামাল ধানম-ির দশ ফুটবলারকে ডেকেছিলেন ক্লাব সভাপতি মনজুর কাদের। এ বিষয়ে প্রথমে তিনি তার দলের ফুটবলারদের সঙ্গে নয়। অনুমতির জন্য কথা বলেছিলেন জাতীয় দলের ম্যানেজার ও বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগের সঙ্গে। দু’জনেই তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন কিছু সময়ের জন্য শেখ জামাল ফুটবলারদের ক্যাম্প ত্যাগের অনুমতি দেয়া হবে। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে বিশ্বকাপ বাছাই ম্যাচের আগের দিন শেখ জামাল ধানম-ির ফুটবলারদের ক্যাম্প ত্যাগ নিয়ে যেসব অবান্তর কথাবার্তা শোনা গেছে, এ বিষয়ে মনজুর কাদেরের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে ফোনে তিনি উল্লেখিত কথাগুলো বলেন। তিনি বলেন, একজন ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে আমি খুব ভালভাবে অবগত যে, জাতীয় দলের ক্যাম্প থেকে আমার দলের ফুটবলারদের সঙ্গে বৈঠক করার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি প্রয়োজন। আমি নিয়মের মধ্যে থেকেই সকাল ১০টায় আমার দলের ফুটবলারদের সঙ্গে আলোচনার সময় নির্ধারণ করেছিলাম। এই তড়িঘড়ি আলোচনার অন্যতম কারণ হচ্ছেÑ সময়। অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ম্যাচ খেলে পরের দিন চীন চলে যাবে জাতীয় দল। কাজেই সময় বলতে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচের আগের দিনটাই আমাদের হাতে ছিল। আমি জানি ম্যাচের আগের দিন হার্ড ট্রেনিং হয় না। বিকেলে হাল্কা অনুশীলন, স্ট্র্যাচিং করানো হয়। আর এ কারণে সকালে আমি খেলোয়াড়দের সঙ্গে বসার সময় নির্ধারণ করেছিলাম। তাদের জন্য দুপুরের খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। কিন্তু পুরো খাবার নষ্ট হয় সকালের পরিবর্তে দুপুর দুইটার পরে খেলোয়াড়দের ক্যাম্প ত্যাগের অনুমতি দেয়া হয়। যা হোক, এতে আমি অসন্তুষ্ট নই। কিন্তু এ নিয়ে যে প্রোপাগা-া চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে আমার ঘোর আপত্তি রয়েছে। জোর করে জাতীয় দলের ক্যাম্প থেকে ফুটবলারদের ডেকে নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা আমার নেই। যদি থেকেই থাকে তাহলে তো আমি ‘ফুটবল ফেডারেশনের’ চেয়ে বেশি পাওয়ারফুল। মোদ্দা কথা, কোন অনিয়ম, প্রভাব বা জোর খাটানোর প্রশ্নই ওঠে না। যথাযথ অনুমতির প্রেক্ষিতে শেখ জামালের ফুটবলাররা আমার সঙ্গে দেখা করে, আলোচনা করেছে। বাফুফে সম্পাদক সোহাগ বেলা ২টা দিকে আমাকে ফোনে বলেছে, গাড়ি পাঠিয়ে দিতে। এরপর খেলোয়াড়দের আসতে প্রায় তিনটা বেজে যায়। আলোচনা পরবর্তী পৌনে ৫টার দিকে আমি তাদের আবার ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেই। এর মধ্যে জোরাজুরির গন্ধ কে কোথায় পেলÑ আমার বোধগম্য নয়।

উল্লেখ্য, দরজায় কড়া নাড়ছে ফুটবলারদের দলবদল। যদিও বাফুফে এখনও দলবদলের সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করেনি। কিন্তু এরই মধ্যে আগামী মৌসুমের দল গড়তে মাঠে নেমে পড়েছে শিরোপাপ্রত্যাশী দলগুলো। বসে নেই লীগ চ্যাম্পিয়ন শেখ জামাল ধানম-ি ক্লাবও। গতবারের দলটা ধরে রাখতেই ক্লাব সভাপতি এদিন আলোচনা করেন ফুটবলারদের সঙ্গে। গুঞ্জন শুরু হয়েছে, এবার ভেঙ্গে যাচ্ছে শীর্ষ ক্লাব শেখ জামাল। দলের বেশিরভাগ তারকা খেলোয়াড়ের দিকে দৃষ্টি রয়েছে অন্য দলগুলোর। এ অবস্থায় আলোচনাটা জরুরী বিধায় দলীয় ফুটবলারদের সঙ্গে কথাবার্তা বলেন মনজুর কাদের। তবে প্রশ্ন উঠতে পারে, জাতীয় দলের ক্যাম্প থেকে কেন খেলোয়াড়দের ডেকে নিয়ে যাওয়া? ‘আপনারা জানেন, শেখ জামালের ১০/১১ ফুটবলার জাতীয় দলে রয়েছে। বর্তমানে দেশে-বিদেশে বিশ্বকাপ বাছাই ম্যাচসহ অন্যান্য টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের কারণে ব্যস্ত সময় কাটছে বাংলাদেশ জাতীয় দলের। খেলোয়াড়রা বিদেশে থাকায় তাদের পাওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। ফলে দল টিকিয়ে রাখতে এ আলোচনার বিকল্প ছিল না, জানালেন মনজুর কাদের। পরিশেষে শেখ জামাল অধিনায়ক মামুনুল আরও বললেন, ‘ক্যাম্পের বাইরে যেতে হলে অবশ্যই অনুমতি নিতে হয়, সেটা জাতীয় দলের ফুটবলার হিসেবে আমার না জানার কথা নয়। অনুমতি ছাড়া কিভাবে বাইরে যাব? নিয়ম ভঙ্গের ইচ্ছে থাকলে তো সভাপতির ডাকে আমরা সকালেই চলে যেতে পারতাম। কিন্তু তা না করে আমরা দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করেছি। আমরা যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই বাইরে গিয়েছি। এ নিয়ে কোন বিতর্কের অবকাশ নেই। জাতীয় দলের ম্যানেজার আমিরুল ইসলাম বাবুও বলেছেন, ‘মামুনুলরা অনুমতি নিয়েই বাইরে গেছে। তবে ওরা একটু দেরিতে ফিরে ক্যাম্পে। আর এ কারণেই সম্ভবত ঝামেলাটা সৃষ্টি হতে পারে। তবে আমি কোন অনিয়ম দেখছি না। আমার ও বাফুফের অনুমতি নিয়েই খেলোয়াড়রা তাদের ক্লাব সভাপতির সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিল।