২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঠাকুরগাঁওয়ে বিলবোর্ড স্থাপন ॥ ঘাপলার অভিযোগ

নিজস্ব সংবাদদাতা, ঠাকুরগাঁও, ১৮ নবেম্বর ॥ ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্র চৌরাস্তা মোড়ে, সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তায় পশ্চিম পাশে ও বাসস্ট্যান্ডে রাতারাতি অবৈধভাবে স্থাপিত বিশাল আকৃতির বিলবোর্ড নিয়ে নানা ঘাপলার অভিযোগ উঠেছে।

এই ঘাপলার বিষয় অনুসন্ধান করতে গিয়ে বের হয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। বিষয়টি ফাঁস হয়ে যাওয়ায় জনমনে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। ইতোমধ্যে সড়ক বিভাগ থানায় জিডি করেছে ও জেলা প্রশাসক অবৈধ বিলবোর্ড উচ্ছেদের জন্য ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করেছেন। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে এখনও বিলবোর্ড যথাস্থানে অবস্থান করছে ও মাঝেমাঝে পণ্যের প্রচারে নতুন নতুন ব্যানার সেখানে সেঁটে দেয়া হচ্ছে। গত ২৭ এপ্রিল জেলা সমন্বয় ও উন্নয়ন কমিটির এক সভায় বিলবোর্ড অপসারণের জন্য সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল। সিদ্ধান্ত ছিল বিলবোর্ড অপসারণের জন্য জেলা প্রশাসক একজন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করবেন। জেলা প্রশাসক ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগও করেছিলেন। কিন্তু এরপর অনেকদিন পার হলেও বিলবোর্ড আর উচ্ছেদ হয়নি। বরং নতুন নতুন পণ্যের ব্যানার সেখানে সাঁটানো হচ্ছে। পৌর মেয়র এসএমএ মঈনকে বিলবোর্ড স্থাপন বাবদ পৌরসভা কত টাকা পেয়েছে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান, আমার মনে নেই, সচিব বলতে পারবেন। তবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে সর্বনিম্ন একটি রেট ঠিক করা আছে, যা খুব কম।

প্যানেল মেয়র বাবলুর রহমান জানান, আমি জানি না এবং বিলবোর্ডের ব্যাপারে পৌরসভা পরিষদের কেউ জানে না। পরিষদের সভায় এ ব্যাপারে কিছু জানানো হয়নি। কত টাকা জমা হয়েছে এই প্রশ্নেরও তিনি কোন উত্তর দিতে পারেননি। এ ব্যাপারে পৌরসভার সচিব মজিবর রহমান জানান, টাকার পরিমাণ কাগজপত্র দেখে কিছুদিন পর বলতে পারব। তবে তিনি জানান, মনে হয় বিলবোর্ডর রেট বাৎসরিক প্রতি ফুট ৫০ টাকা। কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, ৫০ টাকা প্রতি বর্গ ফিট হিসেবে ১০ ফুট বাই ১৫ ফুট অর্থাৎ ১৫০ স্কয়ার ফিট মাপের একটি বিলবোর্ডে আসে মাত্র ৭,৫০০ টাকা। অথচ একই মাপের অন্যান্য বিলবোর্ডে থেকে লাখ টাকারও বেশি পাওয়া যাচ্ছে। এদিকে সড়ক বিভাগ জানায়, শহরের চৌরাস্তা মোড়ে ও সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তায় রাতারাতি বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে এবং এগুলো বড় কোন দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে বলে তাঁরা গত ১০ জানুয়ারি থানায় জিডি করেছেন। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মুকেশ চন্দ্র বিশ্বাস জানান, বিলবোর্ড উচ্ছেদের জন্য তিনি একজন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছিলেন। কিন্তু ওই ম্যাজিস্ট্রেট বদলি হয়ে যাওয়ায় আর উচ্ছেদ করা যায়নি। তবে বিলবোর্ড উচ্ছেদের জন্য তিনি আবার একজন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিবেন বলে জানান।

আসামিদের হুমকিতে বাদীর পরিবার ঘরছাড়া

নিজস্ব সংবাদদাতা, গাইবান্ধা, ১৮ নবেম্বর ॥ সদর উপজেলার তুলসীঘাট বাজারের ব্যবসায়ী রায়হান সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের অস্ত্রের আঘাতে আহত হয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে।

এদিকে আসামিরা মামলা তুলে নিতে হুমকি দিয়ে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে। জানা গেছে, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের দাবিকৃত টাকা না দেয়ায় গত ১২ নবেম্বর রাতে রায়হান তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে বাড়িতে ফেরার পথে তুলসীঘাট কলেজ মোড়ে পৌঁছলে লিখন, বাবু মিয়া, রাসেল, কালুসহ ১০ সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ বিভিন্ন অস্ত্রেশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পথরোধ করে। তারা তার কাছে থাকা প্রায় ৯৩ হাজার টাকা ছিনতাই করে নিয়ে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মারপিট করে গুরুতর আহত করে।

এ ঘটনায় রায়হানের ভাই শাহাজাহান মোগল বাদী হয়ে সদর থানায় গত সোমবার মামলা দায়ের করে। মামলা করায় ওই সন্ত্রাসী আসামিরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে রায়হানের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়ে বাদীসহ পরিবারের লোকজনদের ক্ষতিসাধনসহ নানা ধরনের হুমকি প্রদর্শন করছে।