২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ফাঁসি- সময়ের দাবি

একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী এবং জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসির রায় পুনর্বিবেচনার জন্য পৃথক আবেদন বুধবার খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। এর ফলে দু’জনেরই ফাঁসির আদেশ বহাল থাকল। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে সুপ্রীমকোর্টের চার সদস্যের বেঞ্চ পৃথকভাবে এ দুটি আদেশ দেন। উল্লেখ্য, রিভিউ শুনানি হওয়ার কথা ছিল এ মাসের প্রথমদিকে ২ নবেম্বর। দ-প্রাপ্তদের আইনজীবীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে একাধিকবার পিছিয়ে দেয়া হয় শুনানির দিন। ফলে জনমনে স্বভাবতই প্রবল জল্পনা-কল্পনা, সন্দেহ-সংশয়-অবিশ্বাস দানা বাঁধতে থাকে। ইতোমধ্যে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে হলেও কিছু সহিংস ঘটনা ঘটেছে। ফলে ভীতি ও শঙ্কা বাড়তে থাকে। শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চও সাকা চৌধুরী, মুজাহিদসহ সকল যুদ্ধাপরাধীর বিচারসহ মৃত্যুদ-ের রায় বহাল ও কার্যকরের দাবিতে সর্বদাই সোচ্চার ও উচ্চকণ্ঠ। রায় বহাল থাকার ফলে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান হলো। এখন জনগণের একটাই দাবি, ফাঁসির দ- অনতিবিলম্বে কার্যকর করা হোক।

১৯৭১ সালে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর সাকা চৌধুরীকে ফাঁসির আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধকালে বুদ্ধিজীবী হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে তৎকালীন আলবদর বাহিনীর নেতা মুজাহিদকে ২০১৩ সালের ১৭ জুলাই ফাঁসির আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। অতঃপর এ দু’জনের সামনে কেবল একটি সুযোগ আছে, আর তা হলো রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাওয়া। এই প্রক্রিয়ার পরই দ- কার্যকরের বিষয়টি।

দুই কুখ্যাত ও ঘৃণ্য যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির রায় পুনর্বিবেচনার শুনানিকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার থেকেই রাজধানী ও চট্টগ্রামসহ সারাদেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। রায়ের বিরোধিতাকারী চক্রটি বিভিন্ন পর্যায়ে নাশকতা চালাতে পারে বলে তথ্য রয়েছে। মনে রাখা দরকার যে, সাকা চৌধুরী বিএনপির একজন প্রভাবশালী কেন্দ্রীয় নেতা, সাবেক মন্ত্রী ও উপদেষ্টা। অন্যদিকে মুজাহিদ যুদ্ধাপরাধী মৌলবাদী দল জামায়াত নেতা ও সাবেক মন্ত্রী। সম্প্রতি গুলশানে ইতালীয় নাগরিক হত্যা, রংপুরে জাপানী নাগরিক হত্যা, বাড্ডার বাসায় ঢুকে পিডিবির সাবেক চেয়ারম্যানকে গলা কেটে হত্যা, শাহবাগে প্রকাশক হত্যা, লালমাটিয়ায় প্রকাশনা কার্যালয়ে হামলা, ঢাকায় অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট দলের সফর বাতিল এবং দিনাজপুরে ইতালীয় যাজককে হত্যাচেষ্টাসহ নানা ঘটনায় মুক্তিযুদ্ধবিরোধী এবং রায়ের বিরোধিতাকারী বিএনপি-জামায়াতের দলীয় নেতা ও ক্যাডারদের নাম উঠে এসেছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘদিন থেকে বিপুল অর্থ ব্যয়ে লবিস্ট নিয়োগ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও মামলার রায় বানচালের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে আসছে। বিএনপিও একই লক্ষ্যে বিপুল অর্থব্যয়ে প্রভাবশালী লবিস্ট নিয়োগ করেছে বলে প্রমাণ পেয়েছে সরকার। মোটকথা, হেন কোন অপচেষ্টা নেই যা তারা করেনি রায় বানচাল করার জন্য। রায়ের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করে জামায়াতে ইসলামী ডেকেছে হরতাল। এখন জনগণের দাবি অনতিবিলম্বে সাকা চৌধুরী ও মুজাহিদের ফাঁসির দ- কার্যকর করা হোক। এটি সময়ের দাবি। এর মাধ্যমে দেশ ও জাতির ইতিহাসের দায় ও কলঙ্কমুক্ত হবে।