২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নিরাপদ বাংলাদেশ

বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটি নিরাপদ নয় বলে সাম্প্রতিককালেও যারা চেঁচামেচি করে আসছেন, বিশ্ববাসীর কাছে এই দেশটিকে অনিরাপদ হিসেবে চিহ্নিত করায় সচেষ্ট, দেখা যাচ্ছে তাদের দেশই নিরাপদ অবস্থানে নেই। বরং সেই দেশগুলোই রয়েছে নানা ঝুঁকিতে। যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া নামক দুটি দেশ গত এক মাস ধরে নানাভাবে প্রমাণ করার চেষ্টা চালিয়ে আসছে যে, বাংলাদেশ নিরাপদ নয়। তাই অস্ট্রেলিয়া তাদের ক্রিকেট টিম পাঠায়নি বাংলাদেশে। যদিও তাদের ফুটবল টিম দিনকয়েক আগে এ দেশে এসে নিরাপদে খেলা শেষে ফিরে গেছে। দেশে বিচ্ছিন্ন যা ঘটনা ঘটছে, তা রাজনীতিকে কেন্দ্র করেই। যুদ্ধাপরাধী রক্ষা এবং বাংলাদেশকে পাকিস্তানী ভাবধারায় ফিরিয়ে নেয়া এবং সরকার হটানোর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে একাত্তরের পরাজিত শক্তি ও তাদের দোসররা চোরাগোপ্তা হামলা চালিয়ে এবং বোমা মেরে মানুষ হত্যা করেছে। সেই একই লক্ষ্যে তারা বিদেশী নাগরিক হত্যায় উদ্যত হয়েছে আজ। কিন্তু এসব ঘটনা দেশটাকে অনিরাপদে পরিণত করেনি। বরং জনগণকে আরও সতর্ক, সচেতন এবং প্রতিরোধী করে তুলেছে। তদুপরি আজ দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশে আইএস এবং নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া শঙ্কা প্রকাশ করলেও বিশ্বের অন্যতম নিরাপদ দেশ হিসেবে তাদের উপরেই রয়েছে বাংলাদেশ। খোদ যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনভিত্তিক জনমত জরিপ বিষয়ক সংস্থা গ্যালাপের সদ্য প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমনই তথ্য প্রদান করা হয়েছে। ‘গ্লোবাল ল’ এ্যান্ড অর্ডার-২০১৫’ শীর্ষক এই জরিপে বিশ্বের ১৪১টি দেশের এক লাখ বিয়াল্লিশ হাজার লোকের সাক্ষাতকার নেয়া হয়। এই জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মন্তব্য উন্নত অনেক দেশের চেয়েও এগিয়ে বাংলাদেশ।

জরিপে জানতে চাওয়া হয়েছিল তিনটি বিষয়। প্রথম প্রশ্ন, আপনি যে শহরে থাকেন সেটির পুলিশ বাহিনীর ওপর কি আস্থা রয়েছে? দ্বিতীয় প্রশ্ন, যে শহর বা এলাকায় থাকেন সেখানে রাতে একাকী হাঁটতে কি নিরাপদ বোধ করেন? তৃতীয় প্রশ্ন ছিল, গত ১২ মাসে আপনি বা আপনার বাড়ির কারও টাকা বা মূল্যবান সম্পদ চুরি হয়েছে কি-না! আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক এসব প্রশ্নের জবাবে প্রাপ্ত জরিপে দেখা গেছে, বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশ যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও অস্ট্রেলিয়াও নিরাপত্তার দিক দিয়ে বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে। জরিপে ১০০ স্কোরের মধ্যে ৭৮ পয়েন্ট পেয়ে ত্রিশতম অবস্থানে থেকে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ নিরাপদ দেশ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে বিশ্বের নিরাপদ দেশের তালিকায় উপরের দিকে থাকা দেশগুলো সবই এশিয়ার। নগর রাষ্ট্রখ্যাত সিঙ্গাপুর ৮৯ পয়েন্ট পেয়ে তালিকায় সবার উপরে রয়েছে। আর ৪০ পয়েন্ট নিয়ে সর্বনিম্নে রয়েছে লাইবেরিয়া। জরিপে ৭৭ পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশের চেয়ে একধাপ পিছিয়ে ইসরাইল, আর্মেনিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র ও মন্টিনিগ্রো।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে কেবল শ্রীলংকা ৭৯ পয়েন্ট নিয়ে মাত্র ১ পয়েন্টের ব্যবধানে বাংলাদেশের উপরে অবস্থান করছে। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে ৮৭ পয়েন্ট নিয়ে ইন্দোনেশিয়া রয়েছে তালিকার শীর্ষে। পাশাপাশি থাইল্যান্ড ৭৪ এবং ভিয়েতনাম ৭২ পয়েন্টে অবস্থান করছে। অপরদিকে পাকিস্তান ৬০, নেপাল ও ভুটান ৭৩ পয়েন্ট পেয়েছে। বাংলাদেশ আরও নিরাপদ দেশে পরিণত হতো এবং তা প্রথম দশে অবস্থান করত, যদি একাত্তরের পরাজিত শক্তি মাথাচাড়া না দিত। নিরাপত্তাহীনতা যেটুকু রয়েছে, তা বিএনপি-জামায়াত ও তাদের সহযোগী সন্ত্রাসীগোষ্ঠীগুলোর অপতৎপরতার ফসল। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও শাস্তি দ্রুত শেষ হলে বাংলাদেশ উঠে যাবে বিশ্বের নিরাপদ দেশ হিসেবে প্রথম স্থানে। দেশবাসীও তাই চায়।

নির্বাচিত সংবাদ
এই মাত্রা পাওয়া