১৮ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিদ্যুত উন্নয়নে চীন থেকে ১৩শ’ কোটি ডলার ঋণ নেয়া হচ্ছে

  • মন্ত্রিসভা কমিটির সিদ্ধান্ত উপেক্ষিত

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সিদ্ধান্তকে পাশ কাটিয়ে বিদ্যুত খাতের উন্নয়নে ১৫ প্রকল্প বাস্তবায়ন করার জন্য প্রায় এক হাজার ৩০৮ কোটি ডলার সাহায্য ছাড় করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। চীনের এক্সিম ব্যাংক থেকে এই অর্থ ঋণ আকারে গ্রহণ করা হবে। দেশটির প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন বাংলাদেশ সফরে এ ঋণের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হতে পারে।

কোন প্রকল্প বাস্তবায়ন করার জন্য বৈদেশিক সাহায্যের অর্থ আনার ব্যাপারে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সিদ্ধান্ত ছিল, সরকারী ক্রয়ের বিষয়ে কিছু কিছু আনসলিসিটেড প্রস্তাব সরকারী ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করতে হবে। এ সিদ্ধান্তের কারণ হলো- টেন্ডারের মাধ্যমে প্রাপ্ত দর প্রতিযোগিতামূলক হয়ে থাকে। বিদ্যুত ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইনের আওতায় এবং পিপিপি মডেলে গৃহীত প্রস্তাবের ন্যায় বিশেষ ক্ষেত্র ছাড়া সাধারণভাবে আনসলিসিটেড প্রস্তাব পরিহার করা সমীচীন হবে। গত ১২ আগস্ট অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় গৃহীত ওই সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী অনুমোদনও করেছেন, যা গত ২৫ আগস্ট মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বরাবর সকল বিভাগ ও মন্ত্রণালয়েও পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও সিনিয়র সচিব, সচিব ও ভারপ্রাপ্ত সচিবদের এ সিদ্ধান্তের অনুলিপি প্রদান করা হয়েছে।

অথচ এক মাসের মধ্যেই এ সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে ও জরুরী বিবেচনার নামে বিদ্যুত মন্ত্রণালয় থেকে টাকা ছাড়ের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। চীনের কনসেশনাল লোনের আওতায় বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্প প্রস্তাব সম্পর্কিত সারসংক্ষেপে বলা হয়Ñ বর্তমান সরকারের ভিশন অনুযায়ী ২০২১ সালের মধ্যে দেশের সকল জনগণের জন্য নির্ভরযোগ্য, মানসম্মত ও যৌক্তিক মূল্যে বিদ্যুত সরবরাহ করার উদ্দেশ্যে বিদ্যুত বিভাগ কর্তৃক প্রয়োজনীয় কার্যক্রম-কর্মসূচী গ্রহণ করা হচ্ছে। ফলে বর্তমানে দেশে বিদ্যুত উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিদ্যুত উৎপাদন ক্ষমতার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বিদ্যুত সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এ লক্ষ্যে ৬ বছরেও বিদ্যুত খাতে প্রায় ৫০ লাখ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ বিনিয়োগ করা হয়েছে। তবে পাওয়ার সিস্টেম মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী দেশে বিদ্যুত উৎপাদন ক্ষমতা ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ৪০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সে অনুযায়ী বিদ্যুত উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি, বিদ্যুত সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণের লক্ষ্যে সরকারী ও বেসরকারী উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। এ জন্য সরকারী ও বেসরকারী মিলে ৩ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে। এ লক্ষ্যে বেসরকারী বিনিয়োগের পাশাপাশি সরকারী বিনিয়োগে বিভিন্ন প্রকল্প হচ্ছে। কিছু বিদ্যমান অর্থায়নের বৈদেশিক উৎসসমূহ থেকে সম্ভাব্য অর্থায়নের পরিমাণ বিদ্যুত খাতের সামগ্রিক বিনিয়োগ চাহিদার তুলানায় অপ্রতুল। এ প্রেক্ষিতে বিদ্যুত খাতকে বৈদেশিক অর্থায়নের পরিমাণ বিদ্যুত খাতের সামগ্রিক বিনিয়োগ চাহিদার তুলানায় অপ্রতুল। এ প্রেক্ষিতে বিদ্যুত খাতে বৈদেশিক অর্থায়নের নতুন উৎসের অনুসন্ধান করা প্রয়োজন।

প্রস্তাবে আরও বলা হয়, সম্প্রতি চায়না এক্সিম ব্যাংকের অর্থায়নে (কনসেশন লোন) বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে বিদ্যুত বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন সংস্থা থেকে ১৫টি প্রকল্প প্রস্তাব পাওয়া গেছে। প্রস্তাবিত প্রকল্পসমূহের জন্য মোট ১৩.০৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ বৈদেশিক অর্থায়ন প্রয়োজন। সংস্থাভিত্তিক প্রকল্প সংখ্যা এবং প্রয়োজনীয় বৈদেশিক অর্থায়নের পরিমাণ ও তুলে ধরা হয়। সেখানে বলা হয়, ৯টি সংস্থার ১৫টি প্রকল্পতে মোট ১৩ হাজার ৮২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রকল্প সাহায্য পাওয়া যাবে। এর মধ্যে বাংলাদেশ বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ডের (বিউবো) একটি প্রকল্প, যার আর্থিক সাহায্যের পরিমাণ ১০৫ মিলিয়ন ডলার; বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) দুটি প্রকল্প, যার অর্থের পরিমাণ ৫৯৭ মিলিয়ন ডলার; পাওয়ার গ্রীড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেডের (পিজিসিবি) একটি প্রকল্পে ১৩২২ মিলিয়ন ডলার; ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের একটি প্রকল্পে ৩ হাজার মিলিয়ন ডলার; ঢাকা ইলেক্ট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেডের (ডেসকো) দুটি প্রকল্পে ১৫৬ মিলিয়ন ডলার; নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেডের (নওপাজিকো) একটি প্রকল্পে ২০৬০ মিলিযন ডলার; ইলেক্ট্রিসিটি জেনারেশন কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেডের (ইজিসিবি) এক প্রকল্পে ৩৩৯৩ মিলিয়ন ডলার; ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের একটি প্রকল্পে ১৬ মিলিয়ন ডলার, রূরাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিসিএল) চারটি প্রকল্পে ২৪৩৩ মিলিয়ন ডলারের সাহায্য পাওয়ার কথা রয়েছে।

চীনের প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন বাংলাদেশ সফরকালে চায়না এক্সিম ব্যাংকের অর্থায়নের (কনসেশনাল লোন) ১৫টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করার জন্য বিদ্যুত খাতে ১৩ দশমিক ৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়নের বিষয়টি আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রকল্পসমূহকে প্রক্রিয়াকরণ করার জন্য অর্থনেতিক সম্পর্ক বিভাগকে নির্দেশনা প্রদানের কথাও প্রস্তাবে বলা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির এক সদস্য বলেন, যখন একটি সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, তখন সেটি সকল মন্ত্রণালয়ের মেনে চলা উচিত। তা না হলে এক মন্ত্রণালয়কে অর্থ আনার জন্য অনুনোদন দেয়া হলে অন্য মন্ত্রণালয়গুলোও নিয়ম ভঙ্গে উৎসাহিত হবে।