২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

প্রাণভিক্ষা বাকি ॥ ফাঁসি যে কোন সময়

প্রাণভিক্ষা বাকি ॥ ফাঁসি যে কোন সময়
  • কারাগারে সাকা ও মুজাহিদকে রায় পড়ে শোনানো হয়েছে;###;দুই যুদ্ধাপরাধী পরিবারের সদস্যরা দেখা করেছেন

মশিউর রহমান খান/আরাফাত মুন্না ॥ একাত্তরে দুই কুখ্যাত মানবতাবিরোধী অপরাধী সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের মৃত্যুদ- কার্যকরে বাকি শুধু প্রাণভিক্ষার প্রক্রিয়া। এ বিষয়টি নিষ্পত্তি হলে যে কোন সময়ই এই দুই কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধীকে ফাঁসির দড়িতে ঝোলানো যাবে। মৃত্যুদ- বহাল রেখে সুপ্রীমকোর্টের দেয়া চূড়ান্ত রায়ের বিরুদ্ধে সাকা চৌধুরী ও মুজাহিদের করা রিভিউ আবেদন খারিজ করে দেয়ার রায়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় স্বাক্ষর করেন আপীল বিভাগের চার বিচারপতি। পরে রাতেই রায়ের অনুলিপি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল হয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছানোর পর কারা কর্তৃপক্ষ এই দুই কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধীকে তা পড়েও শুনিয়েছেন। তবে সাকা চৌধুরী ও মুজাহিদ রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইবেন কি-না, বৃহস্পতিবার রাতে কারা কর্তৃপক্ষ সে বিষয়টি স্পষ্ট করেননি।

এদিকে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সাকা চৌধুরী ও মুজাহিদের রিভিউ খারিজের রায় প্রকাশের পর এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, প্রাণভিক্ষার বিষয়টি আসামির নিজের। প্রাণভিক্ষাপত্র তাকে নিজ হাতেই লিখতে হবে, এখানে কোন আইনজীবীর বিষয় নেই।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে সাকা চৌধুরী ও মুজাহিদের সঙ্গে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে দেখা করেছেন এই দুই যুদ্ধাপরাধীর পরিবারের সদস্যরা। কারাগারে দেখা করে বের হয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে সাকা চৌধুরীর পরিবারের সদস্যরা কথা না বললেও মুজাহিদের পরিবারের সদস্যরা কথা বলেছেন। মুজাহিদের ছেলে আলী আহম্মদ মাবরুর সাংবাদিকদের জানান, আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা করে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণ ভিক্ষা চাওয়ার বিষয়ে জানাবেন তার বাবা (মুজাহিদ)। এর পরই শুক্রবার মুজাহিদের সঙ্গে দেখা করতে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছেন মুজাহিদের আইনজীবীরা। আইনজীবীদের দেখা করার আবেদনের কথা জনকণ্ঠকে জানান মুজাহিদের আইনজীবী এ্যাডভোকেট গাজী এমএইচ তামিম। তবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত মুজাহিদের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি পাওয়া যায়নি বলেই তিনি জানান।

গত বুধবার সাকা চৌধুরী ও মুজাহিদের রিভিউ আবেদন খারিজ করে রায় দেন সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে এ রায় হয়। বেঞ্চের অন্য বিচারপতিরা হলেন- বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

রায় পড়ে শোনানো হয়েছে ॥ বৃহস্পতিবার রাতে সুপ্রীমকোর্ট থেকে রায় পাওয়ার পর তা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার সন্ধা সাড়ে ৭টার দিকে আপীল বিভাগের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার অরুনাভ চক্রবর্তী ও কয়েকজন কর্মকর্তা রায়ের অনুলিপি নিয়ে ট্রাইব্যুনালে পৌঁছান। এর এক ঘণ্টা পর রায়ের অনুলিপি নিয়ে নাজিম উদ্দিন রোডে কারাগারের দিকে রওনা হন ট্রাইব্যুনালের কর্মীরা। রাত ৯টার দিকে রায়ের কপি কারা কর্তৃপক্ষের হাতে হস্তান্তর করেন ট্রাইব্যুনালকর্মীরা।

পরে রাত ১০টা ৪০ মিনিটে রিভিউ খারিজের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি ইংরেজী থেকে বাংলা অনুবাদ করে পড়ে শোনানো হয়েছে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকা দেশের দুই শীর্ষ যুদ্ধাপরাধী আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীকে। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র জেল সুপার জাহাঙ্গীর কবির এবং জেলার নেসার আলম। এছাড়া আরও তিন ডেপুটি জেলারও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। কারাগারের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জনকণ্ঠকে এ তথ্য জানিয়েছে।

আইনজীবীর বিষয় নেই : এ্যাটর্নি জেনারেল ॥ রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা ছাড়া আর কোন আবেদনের সুযোগ নেই এবং আসামিকে নিজ হাতে প্রাণভিক্ষা পত্র লিখতে হবে, এখানে আইনজীবীর কোন বিষয় নেই বলে জানিয়েছেন এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। মাহবুবে আলম বলেন, রায় কার্যকর সরকারের বিষয়। পূর্ণ রায় দেয়া হয়েছে এতে সই করেছেন চারজন বিচারপতি। তা প্রকাশিতও হয়েছে। ওয়েবসাইটে তা দেয়া আছে, ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে তা জেলখানায় পৌঁছে দেয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, রায়ের অনুলিপি হাতে পাওয়ায় কারা কর্তৃপক্ষ দুই যুদ্ধাপরাধীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে প্রাণভিক্ষার আনুষ্ঠানিকতা সারতে পারবে।

রায় কার্যকর কখন/কবে হচ্ছে সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভাল বলতে পারবে। সরকার এটি কার্যকর করবে। এটি মূলত তাদের ব্যাপার। প্রাণভিক্ষা ছাড়া আর কোন সুযোগ নেই এখন আর। এখানে কোন আইনজীবীর বিষয়ও নেই।

দুই রিভিউ খারিজের পূর্ণাঙ্গ রায় ॥ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিএনপির নেতা কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আরেক কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের রিভিউ খারিজের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগ। সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোতে পাঠানোর পাশাপাশি সুপ্রীমকোর্টের ওয়েবসাইটেও এ দুটি রায় প্রকাশ করা হয়। ওয়েবসাইটে প্রকাশিত রায়ে দেখা যায় সাকা চৌধুরীর রিভিউ খারিজের রায়টি লিখেছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা নিজেই। তিনি সাকা চৌধুরীর রিভিউ আবেদন খারিজ করে ১৩ পৃষ্ঠা রায় লিখেন। বেঞ্চে অন্য তিন বিচারপতি প্রধান বিচারপতির লেখা রায়ের সঙ্গে একমত হয়ে রায়ে স্বাক্ষর করেন।

অন্যদিকে, সুপ্রীমকোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত মুজাহিদের রায়ে দেখা যায় এই রায়টি লিখেছেন আপীল বিভাগের বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। মুজাহিদের রিভিউ আবেদন খারিজ করে ২৯ পৃষ্ঠার রায় লেখেন বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। প্রধান বিচারপতিসহ বেঞ্চের অন্য তিন সদস্য বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর লেখা রায়ে একমত হয়ে স্বাক্ষর করেছেন। দুটি রিভিউ আবেদনই প্রধান বিচারপতি নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপীল বেঞ্চে খারিজ হয়েছে গত বুধবার। দুই রায়েই বলা হয়, আপীল শুনানির পর দেয়া রায়ে কোন ত্রুটি অথবা আইনের ব্যত্যয় বিচারকদের নজরে আসেনি। সুতরাং দণ্ড পুনর্বিবেচনার কোন কারণও তারা খুঁজে পাননি।

দুই যুদ্ধাপরাধীর পরিবারের সাক্ষাত ॥ মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির দ-প্রাপ্ত অভিযুক্ত বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও জামায়াত নেতা আলী আহসান মুজাহিদের সঙ্গে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে সাক্ষাত করেছে তাদের উভয় পরিবারের স্বজনরা। বৃহস্পতিবার ১২টা ৪৫ মিনিটে ও মুজাহিদের পরিবার দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে পৃথকভাবে সাক্ষাত করেন। উভয় পরিবারকে কারা কর্তৃপক্ষ সাক্ষাতের জন্য ৩০ মিনিট করে সময় দেন।

কারা সূত্র জানায়, কারাগারে সাকা চৌধুরীর সঙ্গে তার পরিবারের মোট ২২ জন সদস্য সাক্ষাতের জন্য যায়। কিন্তু সাক্ষাতের জন্য বৃহস্পতিবার সকালে পরিবারের পক্ষ থেকে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে করা আবেদনে ১৫ জনের নাম উল্লেখ করায় বাকিদেরকে সাকা চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাত করতে দেয়া হয়নি। কারাসূত্র জানায়, সাকা চৌধুরীর ছেলে নতুন করে আবেদনের কথা বললেও নিয়ম না থাকায় ওই আবেদনের স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাত করতে দেয় কারা কর্তৃপক্ষ। ৩০ মিনিট কথা বলার পর তারা কারাগার থেকে বেরিয়ে আসেন। ১৫ সদস্যের দলে সাকার স্ত্রী ফারহাত কাদের চৌধুরী, পুত্রবধূ তানিয়া খন্দকার, ভাই গিয়াস উদ্দীন কাদের চৌধুরী ও জালাল উদ্দীন কাদের চৌধুরী, ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী ও ফজলুল কাদের চৌধুরী, সাকার ২ বোন জোবায়দা মনোয়ার ও হাসিনা কাদের সিনহা, মেয়ে ফারজিদ কাদের চৌধুরী, তার স্বামী জাফর খান, সাকার শালা ওমর আহম্মেদ আদেল, ভাবি সেলিনা কাদের চৌধুরী, ভাতিজা সাকির কাদের চৌধুরী, ভাগ্নি মাহবুবা চৌধুরী, চাচাত ভাই ইকবাল হোসেন ছিলেন।

অপরদিকে আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের সঙ্গে তার পরিবারের ১২ জন সদস্য সাক্ষাত করেন। স্বজনরা হচ্ছেন- তার স্ত্রী তামান্না-ই-জাহান, বড় ভাই আলী আফজাল মোহাম্মদ খালেছ, ছোট ভাই ওজায়েদ এম এ আকরাম, বড় ছেলে আলী আহম্মদ তাজদীদ, মেঝো ছেলে আলী আহম্মদ তাহকিক, ছোট ছেলে আলী আহম্মদ মাবরুর, মেয়ে তামান্না তে মুজাহিদ, বড় ছেলের স্ত্রী ফারজানা জেরিন, মেঝো ছেলের স্ত্রী নাসরিন কাকলি, ছোট ছেলের স্ত্রী সৈয়দা রুবাইদা মারিয়াম, ভাগনে আ ন ম ফজলুল হাদী সাব্বির ও নুরুল হুদা মাহমুদ।

সাক্ষাত শেষে কারাফটকে মুজাহিদের ছোট ছেলে আলী আহমেদ মাবরুর সাংবাদিকদের কাছে জানায়, কারাগারে আমার বাবার সঙ্গে সাক্ষাত করতে গেলে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তিনি আমাদের কাছে বলেছেন যে, আমি নির্দোষ। আমাকে যদি এভাবে ফাঁসি দেয়া হয়, তাহলে হত্যা করা হবে। কারাসূত্রে জানা গেছে, সাক্ষাতকালে মুজাহিদ কোনক্রমে কান্না সংবরণ করেন। সঙ্গে যাওয়া ছোট বাচ্চাসহ সকল আত্মীয়ের প্রতি বড়দের লক্ষ্য রাখতে বলেন। মুজাহিদের ছেলে জানান, আমার বাবা শক্ত এবং সুস্থ আছেন এবং খুব ভাল আছেন। তিনি আমাদের বলেছেন, ‘আমি নির্দোষ, আমি নির্দোষ, আমি নির্দোষ। আমাকে যদি এভাবে ফাঁসি দেয়া হয়, তবে হত্যা করা হবে। এছাড়া বাবা রিভিউয়ের রায় শুনেছেন। এ বিষয়ে তিনি তার আইনজীবীদের সঙ্গে আলাপ করে পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে জানাবেন।

কারাফটকে সাকা চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাত শেষে তার স্বজনরা সাংবাদিদের সঙ্গে কোন প্রকার কথা বলতে রাজি হয়নি। কারাগার থেকে বের হয়ে আগে থেকে কারাফটকে রাখা গাড়ি দিয়ে বের হয়ে যান। প্রবেশের সময় স্বজনদের চেহারা স্বাভাবিক থাকলেও সাক্ষাতের পর পুরুষ স্বজনদের মুখ গম্ভীর দেখা যায়। এছাড়া নারী সাক্ষাতপ্রার্থীদের অনেককেই চোখ মুছতে দেখা গেছে। কয়েকজন নারী স্বজন গাড়িতে ওঠার কিছুক্ষণ পরই কাঁদতে দেখা যায়। অপর একটি সূত্র জানায়, সাক্ষাতের সময় সাকা চৌধুরী খুবই নীরব ছিলেন। সাক্ষাতপ্রার্থী সবার সঙ্গে তিনি খুবই স্বাভাবিক আচরণ করেন।

সূত্রটি জানায়, রিভিউয়ের রায়ের খবর শোনার পর থেকেই অন্য যে কোন সময়ের চেয়ে নীরব হয়ে গেছেন সাকা চৌধুরী। কারাগারের নিয়মানুযায়ী প্রতিটি বন্দীর কক্ষ নিয়মিতভাবে নির্ধারিত সময় পর পর তল্লাশি করা হয়। সর্বশেষ তল্লাশিকালে তাকে খুবই স্বাভাবিক থাকতে দেখা গেছে। অন্যান্য সময়ের মতো হুঙ্কার করাও বন্ধ করে দিয়েছেন তিনি। কারাগারের দায়িত্বরতদের সঙ্গেও এখন আর খারাপ ব্যবহার করছেন না। প্রয়োজন সত্ত্বেও কারও কাছে কিছু চাইছেন না। গত কয়েকদিন যাবত সারাদিন নীরবে নিভৃতেই কাটিয়েছেন তিনি। কারাসূত্র জানায়, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের কনডেম সেল বা ফাঁসির সেল বলে খ্যাত রজনীগন্ধা সেলের ২টি কক্ষে সাকা চৌধুরী ও আলী আহসান মুজাহিদকে রাখা হয়েছে। ওই ভবনের অন্য কক্ষগুলোতে কোন ফাঁসির বন্দী না থাকায় বর্তমানে খালি রয়েছে। সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারির পাশাপাশি ৩ জন করে দৈনিক মোট ৯ কারারক্ষী সার্বক্ষণিক পাহারা দিচ্ছেন। এর বাইরে নিয়মিতভাবে সিনিয়র জেল সুপার, জেলার ও ডেপুটি জেলাররা সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

দুই যুদ্ধাপরাধীর বিচার Ñ মুজাহিদ ॥ একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সাংবাদিক, শিক্ষকসহ বুদ্ধিজীবী হত্যা এবং সাম্প্রদায়িক হত্যা-নির্যাতনের দায়ে ২০১৩ সালের ১৭ জুলাই মুজাহিদকে মৃত্যুদ- দিয়েছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। প্রসিকিউশনের আনা সাতটি অভিযোগের মধ্যে প্রথম অভিযোগে সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেনকে অপহরণের পর হত্যা এবং ষষ্ঠ অভিযোগে বুদ্ধিজীবীসহ গণহত্যার ষড়যন্ত্র ও ইন্ধনের অভিযোগে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে ওই দ- কার্যকর করার আদেশ দেয়া হয়েছিল। একই রায় এসেছিল সপ্তম অভিযোগে, ফরিদপুরের বকচর গ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর বর্বর হামলা চালিয়ে হত্যা-নির্যাতনের ঘটনায়।

চূড়ান্ত রায়ে চলতি বছরের ১৬ জুন আপীল বিভাগ মুজাহিদের আপীল আংশিক মঞ্জুর করে প্রথম অভিযোগে আসামিকে খালাস দেয়া হয়। সপ্তম অভিযোগে তার সাজা কমিয়ে দেয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদ-। আর ষষ্ঠ অভিযোগে বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে ট্রাইব্যুনালের রায় বহাল রেখে মুজাহিদের ফাঁসির আদেশ দেয় সুপ্রীমকোর্ট। তবে রিভিউ শুনানিতে মুজাহিদের আইনজীবী শুধু মৃত্যুদ-ের সাজাটি নিয়েই কথা বলেছেন। এটি আইনসম্মতভাবে হয়নি দাবি করে তার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন মুজাহিদের আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন।

সাকা চৌধুরী ॥ যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাকা চৌধুরীর রায় এসেছিল ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর। সেখানে প্রসিকিউশনের আনা ২৩টি অভিযোগের মধ্যে নয়টিতে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন। এর মধ্যে চার অভিযোগে তার মৃত্যুদ- এবং পাঁচ অভিযোগে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদ- হয়। এ বছর ২৯ জুলাই সুপ্রীমকোর্ট তার আপীল আংশিক মঞ্জুর করে আটটিতে দ-াদেশ বহাল রাখে, একটিতে সাকা চৌধুরীকে খালাস দেয়া হয়।

৩, ৫, ৬ ও ৮ নম্বর অভিযোগে চট্টগ্রামের রাউজানে কু-েশ্বরী ঔষধালয়ের মালিক নূতন চন্দ্র সিংহকে হত্যা, সুলতানপুর ও ঊনসত্তরপাড়ায় হিন্দু বসতিতে গণহত্যা এবং হাটহাজারীর এক আওয়ামী লীগ নেতা ও তার ছেলেকে অপহরণ করে খুনের ঘটনায় তার সর্বোচ্চ সাজা বহাল রাখা হয়। ২ ও ৪ নম্বর অভিযোগে ট্রাইব্যুনালের দেয়া ২০ বছরের কারাদ- বহাল থাকলেও ৭ নম্বর অভিযোগে ২০ বছরের সাজার ক্ষেত্রে আপীল মঞ্জুর করে তাকে খালাস দেয় আপীল বিভাগ। ১৭ ও ১৮ নম্বর অভিযোগে ট্রাইব্যুনালের দেয়া পাঁচ বছর কারাদ-ের রায় বহাল রাখা হয় চূড়ান্ত রায়ে। সাকা চৌধুরীর দাবি, একাত্তরে ২৯ মার্চ তিনি ঢাকা ছেড়ে করাচি চলে যান আর ফেরেন ১৯৭৪ সালে। আইনের ভাষায় একে বলা হয় ‘প্লি অব এ্যালিবাই’। অর্থাৎ, অপরাধ সংগঠনের সময় ও স্থানে আসামির উপস্থিত না থাকা। রিভিউ আবেদনের শুনানিতে তার আইনজীবী তেমনই দাবি করে আসছিলেন। এ জন্য পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১২ সালে আনা একটি সার্টিফিকেট তারা আদালতে তুলে ধরেন। তবে ওই সার্টিফিকেট ভুয়া প্রমাণ হওয়ায় আদালত তা গ্রহণ করেননি।