২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পাকি জামায়াতের ঔদ্ধত্য

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশের জামায়াতসহ যুদ্ধাপরাধীরা যে আসলে তাদেরই লোক একথা এবারও জানান দিতে ভুল করেনি পাকিস্তান জামায়াতের নেতারা। যুদ্ধাপরাধী জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ এবং বিএনপির নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসির রায় ঠেকাতে পাকিস্তানকে সরব হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তান জামায়াতের আমির সিরাজুল হক। কেবল তাই নয়, এ পাকি জামায়াত নেতা বাংলাদেশের সুপ্রীমকোর্টকে ‘ক্যাঙ্গারু আদালত বলে ঔদ্ধত্য দেখিয়েছে। এদিকে পাকিদের চেহারা প্রকাশ হওয়ার পর দেশের বিশিষ্ট নাগরিকরা বলছেন, এতে আবারও প্রমাণ হলো জামায়াতের শেকড় পাকিস্তানে। একই অবস্থা বিএনপি নেতাদের।

বুধবার দুই যুদ্ধাপরাধীর বিষয়ে উচ্চ আদালতের রায়ের পর রাতে মুজাহিদ ও সাকার ফাঁসি ঠেকাতে পাকিস্তান সরকারকে সরব হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তান জামায়াত-ই-ইসলামের আমির সিরাজুল হক। পাকি জামায়াতের এক বিবৃতিতে বলেন, বাংলাদেশ সরকার তার রাজনৈতিক মতবিরোধীদের বিচারিক হত্যাকা- চালিয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির রায়ের কড়া সমালোচনা করে বাংলাদেশের সুপ্রীমকোর্টকে ‘ক্যাঙ্গারু’ আদালত এবং যুদ্ধাপরাধের বিচারকে ‘অবিচার’ বলে অভিহিত করেন পাকিস্তান জামায়াতের আমির। তিনি এই আদালতের বিচার বন্ধে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বিশেষ করে জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ‘মানবাধিকার লঙ্ঘনে’ পাকিস্তান সরকারকে নিশ্চুপ দর্শকের ভূমিকা পালন করলে হবে না। মুসলিম বিশ্বসহ সারাবিশ্বকে সোচ্চার করতে উদ্যোগী হতে হবে পাকিস্তানকে। মুজাহিদ ও সালাউদ্দিনকে ‘নিষ্পাপ’ আখ্যায়িত করে পাকিস্তানী আমির দেশটির পররাষ্ট্র দফতরের প্রতি আহ্বান জানান তারা যেন এই দুই নেতার ফাঁসি কার্যকর রোধে আন্তর্জাতিক আদালতের শরণাপন্ন হয়। ইসলামাবাদে একটি সমঝোতা হয়েছে বলে দাবি করে পাকি জামায়াত নেতা বলেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্মের সময় সংঘটিত কোন অপরাধের কোন বিচার হবে না বলে একমত হয়েছিল পাকিস্তান, ভারত ও বাংলাদেশ। তবে ওই বিবৃতিতে মুজাহিদ ও সাকার অপকর্ম প্রকাশ স্বীকার করেই বলেছেন, সেই সময়ে আলী আহসান মুজাহিদ একজন পাকিস্তানী নাগরিক হিসেবে ভারতীয়দের প্ররোচনায় উদ্বুদ্ধ কিছু যুদ্ধ-আগ্রাসীর হাত থেকে দেশকে রক্ষার চেষ্টা করেছিল। সেই দিক দিয়ে চিন্তা করলে তো মুজাহিদ অপরাধীই নয়। নতুন এক তত্ত্ব আবিষ্কার করে পাকি নেতা বলেন, আলী আহসান মুজাহিদের বিরুদ্ধে যে সময়কার হত্যার অভিযোগগুলো আনা হয়েছে, ওই সময়ে তিনি পশ্চিম পাকিস্তানে ছিলেন, এর তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। একই সঙ্গে আবার স্বীকার করেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতারা পাকিস্তানের জন্য অনেক অবদান রেখেছেন। এখনও তারা সেই দেশের সৃষ্টিকে ভুলে গিয়ে পাকিস্তানের মতাদর্শ ধারণ করে চলছে।

১৯৭১ সালে পাকিস্তান জামায়াত-ই-ইসলাম গণহত্যা, বুদ্ধিজীবী হত্যা এবং নারীর সম্ভ্রম লুণ্ঠনকারীদের সমর্থন করেছে। দেশের বিশিষ্টজন বলছেন, পাকি জামায়াত তো তাদের সহযোগীদের জন্য সহমর্মিতা প্রকাশ করবেই। তাদের মন্তব্যে অবাক হওয়ার কিছু নেই। এমনটাই বললেন শিক্ষাবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান। তিনি অভিযোগ করেন, পৃথিবীজুড়েই আমাদের দেশের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরুদ্ধে অপ্রচার চলছে। এতে পাকিস্তান জামায়াত-ই-ইসলামেরও হাত রয়েছে। অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, একটি সার্বভৌম দেশের তৈরি করা আইনে প্রকাশ্যই মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার হচ্ছে। কিন্তু তাতে আপত্তি করছে তারা। এতেই বোঝা যায় একাত্তর সালে এসব ঘৃণ্য অপরাধীর ভূমিকা কী ছিল।

একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানের সামরিক পরাজয় ঘটেছে। আর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ফলে তাদের রাজনৈতিক এবং আদর্শিক পরাজয় ঘটেছে। পাকিস্তান জামায়াতের বিবৃতিতে প্রমাণ হয়েছে জামায়াতের শেকড় সেখানেই- এমন মন্তব্য করে শাহরিয়ার কবির বলেন, পাকিস্তান মনে করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদেরই শাখা। শাহরিয়ার কবির বলেন, পাকিস্তান যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের শুরু থেকেই সমস্ত কূটনৈতিক শিষ্টাচার ভঙ্গ করে বিচার বন্ধের পাঁয়তারা করছে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেছেন, পাকিস্তানের জামায়াতের আমিরের এ বিবৃতির মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে বিএনপি-জামায়াত এখনও বাংলাদেশে ‘পাকিস্তানের এজেন্ট’ হিসেবে রাজনীতি করছে।