১৬ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জামায়াতের হরতাল জনগণের প্রত্যাখ্যান

স্টাফ রিপোর্টার ॥ দলের সেক্রেটারি জেনারেল যুদ্ধাপরাধী আলী আহসান মুজাহিদের মৃত্যুদ-ের রায় বহাল রাখার প্রতিবাদে জামায়াতের ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতাল দেশব্যাপী প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। বিএনপির এ রাজনৈতিক মিত্রের বৃহস্পতিবারের হরতালে জনগণ সাড়া না দেয়ায় সারাদেশে জনজীবন ছিল সাভাবিক। রাজপথে পরিবহন এমনকি দূরপাল্লার বাসও চলেছে সাভাবিকভাবেই। সারাদেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ডিগ্রী (পাস) পরীক্ষা। হরতাল ডাকলেও মাঠেই দেখা যায়নি জামায়াত-শিবিরকে। দু’একটি স্থানে আগুন দেয়ার চেষ্টা আর ঝটিকা মিছিলেই শেষ যুদ্ধাপরাধীর জন্য ডাকা জামায়াতীদের হরতাল।

এদিকে হরতালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারির কারণে কয়েকটি স্থানে অপচেষ্টা করেও কোথাও বড় ধরনের নাশকতা করতে পারেনি। রাজধানীসহ বিভাগীয় শহরের যান চলাচলও ছিল স্বাভাবিক। কেবল রাজধানীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর কিছুটা প্রভাব পড়লেও খোলা ছিল অধিকাংশ মার্কেট। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জামায়াতের কর্মসূচী প্রত্যাখ্যান করে হরতালবিরোধী মিছিল সমাবেশ করেছে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনগুলো। একদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি অন্যদিকে হরতাল ডেকে জামায়াত-শিবির কর্মীরা মাঠে না থাকার কারণে জনমনে ভয়ও ছিল না বলে মনে করছেন অনেক সাধারণ মানুষ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতারও প্রশংসা করেছেন তারা। এবারের হরতালে সকালেই প্রচুর যানবাহন চলাচল শুরু হয়। নাশকতার ভয়ে প্রইভেটকার কিছুটা কম দেখা গেলেও ঢাকার আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালগুলো থেকে অধিকাংশ দূরপাল্লার বাসও ছেড়ে যায় সকাল থেকেই। স্বাভাবিক ছিল ঢাকার সঙ্গে সকল জেলার যোগাযোগ। রাজধানীর শাহবাগ, ফার্মগেট, বিজয়সরণি, নাবিস্কো, মহাখালী, বনানী, গুলশান, বারিধারা ও বাড্ডা ঘুরে দেখা গেছে, পাবলিক পরিবহনের চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। বিআরটিসি বাসের পাশাপাশি বিভিন্ন রুট চলাচলকারী ব্যক্তিমালিকানাধীন বাসের ভিড়ও ছিল চোখে পড়ার মতো। সরকারী-বেসরকারী সব প্রতিষ্ঠান খোলা ছিল। শিশুদের প্রতিষ্ঠান হওয়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হরতালের কিছুটা প্রভাব পড়লেও অধিকাংশ মাধ্যমিক স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়, এমনকি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়েও কার্যক্রম চলেছে। হরতালের সমর্থনে সকালে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াত এবং খিলগাঁও এলাকায় ঝটিকা মিছিল করেছে বলে দাবি করেছে ছাত্রশিবির। তবে এলাকার মানুষ বলছে, তারা কোন মিছিল দেখেননি।

এদিকে সারাদেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ডিগ্রী (পাস) পরীক্ষা। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশিদ মুক্তিযুদ্ধের জ্ঞানকোষ রচনার উদ্দেশে দিনাজপুর ভ্রমণকালে দিনাজপুর সরকারি কলেজ ও কেবিএম কলেজের ‘স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস’ বিষয়ে পরীক্ষার কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। হরতাল আহ্বান সত্ত্বেও শতভাগ পরীক্ষার্থী পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করায় উপাচার্য সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং পরীক্ষার্থী ও পরীক্ষা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

হরতাল প্রতিহত করতে রাজধানীতে সক্রিয় অবস্থানে ছিল ছাত্রলীগ। রাজধানীর কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে বিভিন্ন মোড়ে এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে স্থানীয় ছাত্রলীগ কর্মীদের সক্রিয় অবস্থান। পুলিশি টহল কিংবা অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের টহলে না দেখা গেলেও ‘নাশকতা রুখতেই ছাত্রলীগ অবস্থান করছে’ বলে জানিয়েছেন ছাত্রলীগের নেতারা। সরেজমিনে দেখা গেছে, রাজধানীর শ্যামলী শিশুমেলা, মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড, ধানম-ির শংকর, কল্যাণপুর, আসাদগেট, মোহাম্মদপুর শিয়ামসজিদ মোড়, ঝিগাতলাসহ কয়েকটি পয়েন্টে ছাত্রলীগ তাদের অবস্থান জানান দিয়েছে। এছাড়া তারা হরতালবিরোধী স্লোগান নিয়ে মিছিলও করছে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায়।

হরতাল ঢিলেঢালাভাবে চলছে সিলেটে। সকাল থেকে নগরীর কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। কর্মসূচীর সমর্থনে কোন মিছিল কিংবা পিকেটিং করেননি জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা। মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার রহমতউল্লাহ বলেন, হরতালে কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। জনজীবন অনেকটা স্বাভাবিক। হরতালের সময় মানুষের জান-মালের নিরাপত্তায় সহস্রাধিক পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি তিন প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন ছিল। এছাড়া ছিল র‌্যাবের টহল।

হরতালে স্বাভাবিক ছিল জামায়াত-শিবির অধ্যুষিত সাতক্ষীরাও। সকাল থেকে জেলায় কোথাও হরতালের সমর্থনে কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসান। তিনি জানান, জেলার সবকটি রুটে যান চলাচল স্বাভাবিক ছিল। খোলা ছিল ব্যাংক-বীমা, স্কুল-কলেজ ও অফিস-আদালত। ভোমরা বন্দরের আমদানি-রফতানি কার্যক্রমও স্বাভাবিক ছিল। সাতক্ষীরা পরিবহন বাস মালিক সমিতির সভাপতি তাহমিদ হাসান চয়ন জানান, সকাল থেকেই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন রুটে দূরপাল্লার বাস চলাচল করেছে।

এদিকে নাশকতার আশঙ্কায় জামায়াত-বিএনপির ১৭ কর্মীসহ ৩৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার এসআই এনামুল হক বলেন, বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত জেলার আটটি থানায় অভিযান চালানো হয়।