১৩ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

উবাচ

চুমা দেবে!

স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাজনীতি সব সময় তুলোর চেয়ারে বসে করা যায় না। বিশেষ করে বিরোধী দলের রাজনীতি তো নয়ই। তবে এ নিয়ে বিএনপির হা-হুতাশটা একটু বেশি। কেবলমাত্র মানুষের অতীত স্মৃতি মুছে গেলেই এমনটা সম্ভব বলে মনে করা হয়। বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল তখনই তো ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা হলো, অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া আর আহসান উল্লাহ মাস্টারের মতো গণমানুষের নেতাদের হত্যা করা হলো। দশ ট্রাক অস্ত্র এলো, বাংলাভাইদের মতো জঙ্গীদের দেখা গেল মাঠ দাবড়ে বেড়াতে। জজ মিয়া নাটকই বলে দেয় সরকার কিভাবে রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলো নিয়ন্ত্রণ করছিল। অথচ এখন এসে বিএনপির হা-হুতাশটা ভীষণ বেশি। বিএনপির সময়ে রাস্তায় ভাষণ দিলেই গ্রেনেড মারা হতোÑ এ কথাটিও বেমালুম তারা ভুলে বসে আছে। এখন আন্দোলনের নামে মানুষ পোড়ালে, বিদেশীদের হত্যা করলে তাদের কিছু বলা যাবে না। সব সময় আদর ভালবাসা দিয়ে বলতে হবেÑ যাও বাবা যা করছো কর, কোন সমস্যা নেই। তোমাদের কেউ কিছু বলবে না। কিন্তু এভাবে কি আর রাজনীতি হয়! হয় না বলেই তো আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, আপনাদের বিরুদ্ধে আমরা যতদিন আন্দোলন করেছি, প্রতিদিন আমরা মার খেয়েছি, জেলে গেছি। এসব নিয়ে আমাদের কোন দুঃখবোধ নেই। কিন্তু আপনারা সারাক্ষণ দুঃখ করছেন। আন্দোলন করবেন আর পুলিশ কি চুমা দেবে! নাসিম বলেন, ‘বিএনপি এখন কোথাও নেই। জনবিচ্ছিন্ন হয়ে রাজনীতি করা যায় না। আপনারা জনগণের জন্য আন্দোলন করেন। নৈরাজ্য করবেন না। খালেদা জিয়ার উদ্দেশে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে ২০১৯ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নির্বাচন হবে। দেশে ফিরে আপনি সেই নির্বাচনে অংশ নেয়ার প্রস্তুতি নিন। তবে বিএনপি নির্বাচনে এলে ওয়ানডে সিরিজের জিম্বাবুইয়ের মতো হারবে বলেও মন্তব্য করেন নাসিম।

‘এ্যাকশন’ দরকার

স্টাফ রিপোর্টার ॥ কাজের চেয়ে কথায় কথায় সময় পার করে দিতে বেশি পছন্দ করেন রাজনীতিবিদরা। কিন্তু ব্যতিক্রম ঘটানোর পরামর্শ দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সম্প্রতি টিএসসিতে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি বলেছেন, ভাষণ কম এখন দরকার এ্যাকশন। তিনি রাজনীতিবিদদের কথা বলার চেয়ে কাজে মনযোগ দেয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, মানুষ এখন আর বেশি কথা শুনতে চায় না।

কাদের বলেন, ‘আমাদের ভাল কথার স্টক ফুরিয়ে গেছে। আমরা যত ভাল কথা বলেছি সে তুলনায় ভাল কাজ করছি না। এ দেশের মানুষ ভাল কথা শুনতে শুনতে টায়ার্ড হয়ে গেছে। তাই বেশি বেশি ভাল কথা না বলে, আমাদের বেশি বেশি ভাল কাজ করতে হবে। এখন থেকে ভাষণ কম, এ্যাকশান বেশি।’

রাজনীতিবিদদের লাগামহীন জিহ্বাকে বড় সমস্যা হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, ‘তারা কথাবার্তা বলার সময় সব নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এছাড়া আরেকটা বড় সমস্যা হচ্ছে দায়িত্বজ্ঞানহীন রাজনীতি, সেন্সলেস পলিটিক্স।’ এ দুটি বিষয় নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে দেশ বড় ধরনের দুর্যোগপূর্ণ অবস্থার দিকে ধাবিত হবে বলেও মন্তব্য করেন কাদের।

রাজনৈতিক বিভক্তির কথা উল্লেখ করে সেতুমন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতুর মতো আমরা নিজস্ব অর্থায়নে একটি সেতু তৈরি করছি। কিন্তু আমাদের নিজেদের মধ্যকার যে সেতু দরকার তা আমরা তৈরি করতে পারিনি। আজকের রাজনীতি এতটাই বিভাজিত। নিজেকে ‘সার্বজনীন মন্ত্রী’ হিসেবে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, যদিও আমি দলের মনোনীত মন্ত্রী তারপরও আমি মনে করি আমি কোন দলের মন্ত্রী নই, আমি দেশের মন্ত্রী।