২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বায়ান্ন বাজার তিপ্পান্ন গলি

বায়ান্ন বাজার তিপ্পান্ন গলি

মোরসালিন মিজান ॥ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেয়া ফাঁসির রায় বহাল রেখেছে আপীল বিভাগ। শীর্ষ যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের মৃত্যুদ- কার্যকর করা এখন সময়ের ব্যাপার। জামায়াত ও বিএনপি নেতার মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচার দেখার জন্য অপেক্ষা করে আছে গোটা জাতি। কবে হবে পাপ মুক্তি। ঠিক কোন সময় শোনা যাবে ফাঁসিতে ঝোলানোর সুসংবাদ। রাজধানীজুড়ে সে আলোচনা। জল্পনা-কল্পনা চলছেই। বায়ান্ন বাজার তিপ্পান্ন গলির শহর ঢাকার যেখানেই কান পাতা যায়, সাকা-মুজাহিদের আলোচনা। কুখ্যাত রাজাকারদের একাত্তরের ভূমিকা আলোচিত হচ্ছে সর্বত্র। পাকিস্তানী প্রেতাত্মা ফকা চৌধুরীর সন্তান সাকা চৌধুরী চট্টগ্রামে বাঙালী নিধনের কাজে নিয়োজিত ছিল। ধর্মব্যবসায়ী মুজাহিদ সরাসরি জড়িত ছিল বুদ্ধিজীবী হত্যায়। বাংলাদেশ ও বাঙালীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া দুই বিশ্বাসঘাতক পরবর্তীতে পুনর্বাসিত হয়েছিল। এমনকি একজন মন্ত্রী ও অন্যজন প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হন। এদের গাড়িতে ওঠে বাঙালীর রক্তে ভেজা জাতীয় পতাকা। তবে, ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না। আর তাই বহুকাল পরে হলেও, ন্যায় বিচার পেয়েছে বাংলাদেশ। ফাঁসি কার্যকর করার মধ্য দিয়ে দেশমাতার বুক থেকে আরও দু’টি বিষকাঁটা উপরে ফেলা সম্ভব হবে।

ফাঁসির রায় বহালের পর থেকেই সকলের দৃষ্টি স্থির হয় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের দিকে। নাজিম উদ্দীন রোডের দৃশ্যপট দ্রুত বদলে যায়। সংশ্লিষ্ট এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বেড়ে যায়। বৃহস্পতিবার বিকেলে আশপাশের সকল রাস্তা বন্ধ করে দেয়া হয়। মওজুদ করা হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল পরিমাণ সদস্য। দেখে অনেকেই ধারণা করেন ফাঁসি হয়ে যেতে পারে যে কোন সময়। এদিন প্রায় সব গণমাধ্যমের কর্মীরা জেলগেটে ভিড় করেন। লম্বা পায়ের ওপর সচল হয় টেলিভিশন ক্যামেরা। এদিন শেষবারের মতো পরিবারের সদস্যরা দেখা করেন সাকা ও মুজাহিদের সঙ্গে। এই সাক্ষাত পর্বটি ঘিরে ছিল বিশেষ কৌতূহল। মস্ত বড় অপরাধী বাবার সন্তানরা স্বজনরা অনুতপ্ত কিনা, তাদের চোখ মুখ দেখে বোঝার চেষ্টা করেন অনেকেই। হ্যা, কৃত্রিম অভিব্যক্তি প্রকাশের কিছু চেষ্টা এদিনও তারা করেছেন। তবে, অচিরেই মেনে নিতে হয়েছে সত্যকে। দুই অপরাধীর পরিবারের সদস্যরা এদিন যতটা সম্ভব মুখ লুকোনোর চেষ্টা করেছেন। মহিলাদের চোখ ছিল জলে ভেজা। পুরুষ সদস্যরা অসহায় বিষণœ বদন। যেন, একাত্তরের সেই কান্না ফিরে এসেছে তাদের চোখে। ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে নাÑ এই চির সত্য যেন জেনে যায় সাকা-মুজাহিদ পরিবারের সদস্যরা।

একই ইস্যুতে বৃহস্পতিবার দেশব্যাপী হরতালের ডাক দেয় যুদ্ধাপরাধীদের দল জামাত শিবির। সাকা-মুজাহিদকে বাঁচানোর সব চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর এই হরতাল। বলার অপেক্ষা রাখে না, সারা দেশের মতো রাজধানীবাসী হরতাল প্রত্যাখ্যান করেছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সব ধরনের যানবাহন চলাচল করেছে। অফিস আদালত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা ছিল দিনভর। কৌতূহলী হয়ে কেউ কেউ হরতাল খুঁজে বেড়িয়েছেন। পাওয়া যায়নি। বরং এই সুযোগে গোটা রাজধানী শহর যেন জানিয়ে দেয়, সাকা-মুজাহিদদের মতো দেশদ্রোহীদের জন্য কোন করুণা নয়। এদের ফাঁসি দ্রুত কার্যকরের পক্ষে রায় দেয় মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম।