১০ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে বিটিআরসির সব চেষ্টাই

  • সব ‘এ্যাপস’ ও ‘সাইট’ই নানা মাধ্যম ব্যবহার করে এ্যাক্টিভ করছে ব্যবহারকারীরা

ফিরোজ মান্না ॥ বিটিআরসির সব চেষ্টাই ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। দফায় দফায় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো বন্ধ করে দিলেও সব ‘এ্যাপলিকেশনই’ মুহূর্তে চালু করে ফেলছে ব্যবহারকারীরা। তারা বন্ধ করে দেয়া ১২টি এ্যাপলিকেশন ও সাইট নানা মাধ্যম ব্যবহার করে এ্যাক্টিভ করছে। বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার সারাদিন চেষ্টা করা হয়েছে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো বন্ধ করার। কিন্তু গলদঘর্ম হয়েও কোন লাভ হচ্ছে না।

তথ্য প্রযুক্তিবিদরা বলছেন, এ সব এ্যাপলিকেশন বন্ধ করতে হলে ইন্টারনেটই বন্ধ রাখতে হবে। ইন্টারনেট চালু রেখে এগুলো বন্ধ করা যাবে না। কারণ ইন্টারনেটের এত সব জানালা দরোজা যে, কোন না কোন মাধ্যম ব্যবহার করে সব সাইটেই ব্যবহারকারীরা যেতে পারবেন। ইন্টারনেটে হাই সিকিউরিটি ব্যবহারকারী দেশগুলোতেও কোন এ্যাপলিকেশন বন্ধ করে বেশি সময় রাখতে পারেনি। আর দেশে তো ইন্টারনেটের কোন সিকিউরিটিই নেই। এখানে বিভিন্ন প্রক্সি সার্ভারের মাধ্যমে নানা এ্যাপলিকেশনের সঙ্গে সহজেই যুক্ত হয়ে যাচ্ছে। তবে বিটিআরসি একটি কাজ করতে পেরেছে। সেটা হচ্ছে সাধারণ মানুষজন ফেসবুক, টুইটার, ভাইবারসহ অন্য মাধ্যমগুলো প্রাথমিকভাবে দেখতে পাচ্ছে না। দু’একদিন পরে তারাও দেখতে পারবেন। কারণ বন্ধ বিষয়গুলোর ওপর মানুষের আগ্রহ বেশি থাকে। আগ্রহ থেকে সাধারণ মানুষও এগুলোর ব্যবহার প্রক্রিয়া শিখে যায়। এর আগেও দেশে ফেসবুক বন্ধ করা হয়েছিল। তখনও মানুষ সহজেই ফেসবুক ব্যবহার করেছেন। তথ্য প্রযুক্তিতে অভিজ্ঞরা তো বন্ধ করার ৫ মিনিটের মাথায় সব সাইটেই ভিজিট করেছে।

বাংলাদেশ এ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার এ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসের (বেসিস) সাবেক সভাপতি তথ্য প্রযুক্তিবিদ হাবিবুল্লাহ এন করিম বলেন, সামাজিক যোগাযোগসহ অন্যান্য কোন সাইটই বন্ধ করা সম্ভব নয়। যদি শক্তিশালী ইন্টারনেট সিকিউরিটি সফটওয়ার ব্যবহার করা না হয়, তাহলে অপারেটরদের নির্দেশ দিয়ে বন্ধ করা যাবে। যেসব এ্যাপলিকেশন বন্ধ করা হয়েছে, সেগুলোর কোন সার্ভারই বাংলাদেশে নেই। আমাদের দেশে এসব ব্যবহার হচ্ছে প্রক্সি সার্ভারের মাধ্যমে। যার একটা বন্ধ করলে আরও বহু প্রক্সি সার্ভার উন্মুক্ত থাকছে। উন্মুক্ত ওই সার্ভারগুলোর মাধ্যমে একটার সঙ্গে আরেকটার লিংকআপ তৈরি করে সহজেই যে কোন সাইটে যাওয়া যাচ্ছে।

ফাইবার এট হোমের চীফ ইস্ট্র্যাজিক অফিসার তথ্য প্রযুক্তিবিদ সুমন আহমেদ সাব্বির বলেন, আমরা বিটিআরসির নির্দেশ পাওয়ার পর বুধবার দুপুর ১২টার পর থেকে তিন দফা সাইটগুলো বন্ধ করেছি। কিন্তু কোনভাবেই বন্ধ করে রাখতে পারছি না। যতবার বন্ধ করছি ততবারই এগুলো খুলে ফেলছে ব্যবহারকারীরা। ইন্টারনেট চালু থাকলে এসব এ্যাপলিকেশন কোনভাবেই বন্ধ করা যাবে না। একেবারে বন্ধ করতে হলে আইআইজি (ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে) বন্ধ করতে হবে।

যুদ্ধাপরাধী সাকা ও মুজাহিদের ফাঁসির দ- দেশের সর্বোচ্চ আদালত বহাল রাখার পর সরকার তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো বন্ধ করে দেয়। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ব্যবহার করে দাঙ্গা ও লুটতরাজ সহিংস হানাহানির ঘটনা থেকে জনগণকে নিরাপদ রাখার চেষ্টা করেছে। আর এগুলো বন্ধ করতে গিয়ে দেশে দেড় ঘণ্টার ওপরে ইন্টারনেট বন্ধ ছিল।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ বলেন, সরকারের নির্দেশে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুক, ম্যাসেঞ্জার, ভাইবার ও হোয়াটসঅ্যাপ সার্ভিসসহ ১২টি এ্যাপলিকেশন বন্ধ রাখা হয়েছে। সরকার যখন চাইবে তখনই এগুলো খুলে দেয়া হবে। দেশের নিরাপত্তা যাতে বিঘœ না হয় সেজন্য সরকার আমাদের ওপর এমন নির্দেশ দিয়েছে। এটা কোন নতুন কিছু না। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা চিন্তা করে ইন্টারনেটভিত্তিক নানা মাধ্যম বন্ধ করে দেয়া হয়। আবার সরকার যখন মনে করে নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই-তখন আবার সংশ্লিষ্ট সাইট খুলে দেয়। ব্রিটেন, চীন, ভারত, আমেরিকায় মাঝে মাঝেই সামাজিক যোগাযোগের নানা মাধ্যম বন্ধ করা হয়। আবার তারা সময় বুঝে সেগুলো খুলেও দেয়। এটা কোন নতুন ঘটনা না। এতে সাময়িকভাবে মানুষজন অসুবিধায় পড়তে পারে। তবে দীর্ঘ মেয়াদে কোন অসুবিধা হয় না। তথ্য প্রযুক্তির যুগে এসব সাইট চিরস্থায়ীভাবে বন্ধ করে রাখা যাবে না। তবে কিছু কিছু খারাপ সাইট যাতে দেখা না যায় সেজন্য ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে, সম্প্রতি ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব ফাউন্ডেশন নামের একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনে বলা হয়, গোটা বিশ্বেই ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু তা করা যাচ্ছে না। ইন্টারনেটে নজরদারি চলছে বিশ্বের ৮৪ শতাংশ দেশেই।

তথ্য প্রযুক্তিবিদ হাবিবুল্লাহ এন করিম বলেন, ইন্টারনেটের কোনভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না। এই একটি মাত্র আবিষ্কার যার বিস্তৃতি আকাশের সমান। রয়েছে হাজারো উইন্ডো। একটা বন্ধ করলে আরেকটা খুলে যাচ্ছে। এরপরও নিয়ন্ত্রণ করে সাময়িক বাধার সৃষ্টি করা যেতে পারে। ইন্টারনেটের এতগুলো জানালা কোনভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। বর্তমানে দেশেও ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু তাতে কোন লাভ হচ্ছে না। দেশে দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের সংখ্যা যে হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে এখানেও নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না।