২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সৌদিতে শ্রমবাজার খুলে যাচ্ছে, দক্ষ জনশক্তি নিতে বিশেষ আগ্রহ

  • যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের বৈঠক ॥ ওমরা ভিসার সিদ্ধান্ত হয়নি

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশ থেকে দক্ষ শ্রমশক্তি নিতে বিশেষ আগ্রহ দেখিয়েছে সৌদি আরব। এক্ষেত্রে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষক ও নার্স নেয়ার ওপর জোর দেয়া হয়েছে দেশটির পক্ষ থেকে। তবে অদক্ষ শ্রমিকও শীঘ্রই নেয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। আমদানি-রফতানি ও ব্যবসা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বাড়াতে সম্মত হয়েছে উভয় দেশ। বৃহস্পতিবার দুই দিনের যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব বিষয়ে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। তাছাড়া দুই দেশের ধর্ম মন্ত্রণালয়ের একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন ও সৌদি আরবের সফররত প্রতিনিধি দলের প্রধান শ্রম উপমন্ত্রী ড. আহমেদ বিন ফাহাদ আল ফুয়াইদসহ অন্য সদস্যরা।

বুধবার শুরু হওয়া ১১তম এ যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের বৈঠকে পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। এতে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে ডাক্তার, নার্স, ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষকসহ বিভিন্ন পেশার দক্ষদের তারা নিতে আগ্রহী। অদক্ষসহ সকল শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারকে আরও কঠোর ও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে শ্রমিক যাওয়ার আগেই তার পূর্বের অবস্থা এবং তার সকল রেকর্ড পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে যুক্ত করে আরও ভালভাবে পর্যবেক্ষণ করার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের কল্যাণ ও তাদের অধিকার রক্ষার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। এক্ষেত্রে সৌদি আরব এখন থেকে শ্রমিকদের কল্যাণ ও অধিকার যাতে আরও বেশি সংরক্ষিত হয় সে বিষয়টি দেখবে। তবে এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিক্ষিপ্তভাবে চিঠি চালাচালি না করে এ কমিটি যাতে এসব ইস্যু নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারে। ওমরা ভিসায় সৌদি আরবে গিয়ে অনেকেই আর ফিরে আসে না। এ বিষয়ে ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছেন সৌদি প্রতিনিধিরা। এ ভিসা চালুর বিষয়টি তারা ভেবে দেখবে। এখনও কোন সিদ্ধান্ত হয়নি বলে বৈঠকে জানানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন বলেন, সৌদি আরবকে বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিণিয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে। তারা চাইলে তাদের জন্য আলাদা জোন করে দেয়া হবে। শীঘ্রই সৌদি শ্রমবাজার উন্মুক্ত হবে। বাণিজ্য সম্প্রসারণে ট্রেডশোসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হবে। বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে সৌদি আরবে টেক্সটাইল পণ্য, তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য, ওষুধ এবং কৃষি প্রক্রিয়াকরণ শিল্পপণ্যের ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত বাজারের সুবিধা চাওয়া হয়েছে। রফতানি বাড়াতে উভয় দেশ বাংলাদেশের বিএসটিআই এবং সৌদি আরবের এসএএসও এর মধ্যে কারিগরি সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কৃষি প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে যৌথ বিনিয়োগের ওপর জোর দেয়া হয়েছে। ওমরা ভিসা চালুর বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে ধর্ম সচিব জানান, ইতোমধ্যেই সরকার ব্যবস্থা নিয়েছে। ১০৪টি ট্রাভেল এজেন্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, সেখান থেকে তদন্ত করে ৬৯টি এজেন্টের লাইসেন্স ও জামানত বাতিল করা হয়েছে। আবার কোন কোনটির বিরুদ্ধে জরিমানাসহ বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আমরা আশা করছি দ্রুত সৌদি আরবে ওমরা ভিসা চালু হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে শ্রম উপমন্ত্রী ড. আহমেদ বিন ফাহাদ আল ফুয়াইদ বলেন, সৌদি আরবে অর্থনৈতিক মন্দা নেই। আমাদের রিজার্ভ অনেক ভাল অবস্থানে রয়েছে। সেখানে ব্যাপক উন্নয়ন কার্যক্রম চলছে। শ্রমিকের এখনও ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশ কোনভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। সৌদি বাজারে বাংলাদেশী শ্রমিকের চাহিদা রয়েছে। তবে ব্রান্ডিং বাংলাদেশ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটা যতটা ভালভাবে করা যাবে সৌদিতে শ্রমশক্তি ততটাই বেশি সংখ্যায় যাবে। আমরা আশা করছি বাংলাদেশীদের জন্য দ্রুত সৌদি শ্রমবাজার উন্মুক্ত হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে ইআরডির সিনিয়র সচিব বলেন, সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা ও এসডিজি বাস্তবায়নে সৌদি আরব বাংলাদেশের পাশে থাকার দৃঢ়প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। উভয় দেশের মধ্যে পারস্পরিক জ্ঞান, মেধা, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বই, প্রকাশনা ও গবেষণাপত্র বিনিময়ে সম্মত হওয়া গেছে।