১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

হরতালের প্রভাব নেই চট্টগ্রামে

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ মানবতাবিরোধী অপরাধে আলী আহসান মুজাহিদের ফাঁসির রায় বহাল রাখার প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামী আহূত বৃহস্পতিবারের হরতালে চট্টগ্রামে সাড়া মেলেনি। হরতালের কোন প্রভাব দেখা যায়নি রাজপথে। কোথাও কোন ধরনের মিছিল, সমাবেশ বা পিকেটিংয়ের খবর পাওয়া যায়নি। জনজীবন ছিল স্বাভাবিক। এদিকে, হরতালকারীদের দেখা না গেলেও যথারীতি নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর হরতালবিরোধী মিছিল সমাবেশ হয়েছে। এ সকল সমাবেশ থেকে যত দ্রুত সম্ভব যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির রায় কার্যকরের দাবি জানানো হয়।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বন্দরনগরীর সড়কগুলোতে যানবাহন চলাচল অনেকটা স্বাভাবিক দেখা যায়। ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল কম থাকলেও গণপরিবহনগুলো ছিল অন্যান্য দিনের মতোই। সময় গড়িয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচলও স্বাভাবিক হয়ে যায়। নগরীর কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। জামায়াত শিবিরের কোন পিকেটিংয়ের খবরও পাওয়া যায়নি।

নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (গোয়েন্দা) নাজমুল হাসান জানান, হরতালের সমর্থনে কোন কর্মসূচীর তথ্য তাদের কাছে নেই। নিরাপত্তা বাহিনী সর্বত্রই সজাগ রয়েছে। যে কোন ধরনের শান্তি ভঙ্গের ঘটনা প্রতিহত করা হবে। এরপরও ঝটিকা মিছিল হওয়ার ঘটনা রয়েছে কিনা এ প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, অনেক সময় নগরীর কোন শাখা সড়কে মাত্র কয়েক মিনিটের জন্য ব্যানার নিয়ে মিছিলের ভঙ্গিতে ছবি উঠিয়ে তা পত্রপত্রিকায় প্রেরণ করা হয়। কোন কোন পত্রিকায় ছবিটি বড় করে ছাপাও হয়। প্রকৃতপক্ষে হরতালকারীদের কোন তৎপরতা নেই বলে তিনি দাবি করেন।

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম বন্দর, কাস্টমস, শিল্প এলাকা, অফিসপাড়া ও বাণিজ্যিক এলাকায় সবকিছুই ছিল স্বাভাবিক। বন্দরে পণ্য ওঠানামা ও ডেলিভারি হয়েছে স্বাভাবিক কর্মদিবসের মতোই। ব্যাংকগুলোতে লেনদেন ছিল অন্যান্য দিনের মতোই। বিমানবন্দরে ফ্লাইট ওঠানামা ও চট্টগ্রাম রেল স্টেশন থেকে সব ট্রেন সময়মতো আসা যাওয়া করেছে। তবে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল।

আওয়ামী লীগের হরতালবিরোধী মিছিল ॥ হরতাল চলাকালে জামায়াত শিবিরের কোন তৎপরতা দেখা না গেলেও হরতালের বিরুদ্ধে মিছিল ও সমাবেশ করেছে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলো। নগরীর ২৩টি পয়েন্টে অবস্থান নেন কর্মী সমর্থকরা। সেখানে মাইকে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ প্রচার করা হয়। এছাড়া নেতারা বক্তব্য রাখেন।

নগরীর দারুল ফজল মার্কেট চত্বরে অনুষ্ঠিত হরতালবিরোধী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন ও আওয়ামী লীগের নেতারা। সমাবেশে মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির রায় ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। এ রায়ের বিরুদ্ধে যারাই অবস্থান নেবে তারাই ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবে। বাঙালী বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে একাত্তরে ঐক্যবদ্ধ হয়ে যে স্বাধীনতার সূর্যকে ছিনিয়ে এনেছে তা কখনও অস্তমিত হবে না।

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও রায় কার্যকর নিয়ে উপহাস করেছিল তাদের মুখে চুনকালি পড়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রমাণ করেছেন তাঁর নির্বাচনী অঙ্গীকার কখনও অপূর্ণ থাকবে না। যত কঠিনই হোক তিনি দেশকে যুদ্ধাপরাধীমুক্ত করার জন্য সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়ে একাত্তরের ঘাতকদের দ- কার্যকর করছেন। চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক এ্যাডভোকেট শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সহ-সভাপতি নঈম উদ্দিন চৌধুরী, এ্যাডভোকেট সুনীল কুমার সরকার, আওয়ামী লীগ নেতা বদিউল আলম, ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সভাপতি এ্যাডভোকেট আবু হানিফ, সাম্যবাদী দলের অমূল্য বড়ুয়া, গণআজাদী লীগের আহ্বায়ক মাওলানা নজরুল ইসলাম আশরাফী, মহানগর আওয়ামী লীগের নোমান আল মাহমুদ, শফিক আদনান, শফিকুল ইসলাম ফারুক, মশিউর রহমান চৌধুরী, মহানগর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোজাফ্ফর আহমদ প্রমুখ।