১৫ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রক-মেটাল সঙ্গীত

  • কামরুল হাসান

Music is the Mother of an Arts- সকল শিল্পের প্রাণ সঙ্গীত, যা শিল্পের একটি শক্তিশালী মাধ্যম। সুরের কোন সীমানা নেই, ভাষা নেই, কাল নেই। তা দিগন্তজুড়ে বিস্তৃত। প্রকৃতির মাঝেই সুরের উৎপত্তি। পাখির গেয়ে ওঠা, নদীর বয়ে চলা, মেঘের ঘনঘটা সর্বত্র সুরের মূর্ছনা। মানুষমাত্রই সুরকে ধারণ করেন, লালন করেন এমনকি কখনও আনমনে গেয়ে ওঠেন।

সুর সকলকে বিমোহিত করে। তবে এ সুরের ছন্দ-লয়-তালের তারতম্যে গড়ে ওঠে একেকজনের ভালো ও মন্দ লাগা। সম্ভবত এ কারণেই গানের এত প্রকৃতি ও ধারা। উদাহরণ হিসেবে ঢাকার প্রসঙ্গ টেনে আনা যায়। বিগত দু’সপ্তাহের ব্যবধানেই ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়ে গেল দুই ধারার দুটি মিউজিক ফেস্টিভ্যাল। অবশ্য দুটি উৎসবের মূল শ্রোতা-দর্শক ছিল তরুণসমাজ। কারণ তরুণ বয়সে সকলেই বৈচিত্র্যময় সঙ্গীত ও গান শুনতে অভ্যস্ত। ব্লুজ ও জ্যাজ ফেস্টিভ্যাল উপভোগ করা অধিকাংশ তরুণকে দেখা যায় ফোক উৎসবে সমবেত হতে। লোকসঙ্গীতে তারুণ্যের এ আগ্রহ দেশীয় সংস্কৃতির প্রতি গভীর এক আত্মার টান। আর ব্লুজ ও জ্যাজের এ আসক্তি পাশ্চাত্য সঙ্গীতের প্রতি অনুরাগ।

জ্যাজ ও ব্লুজ থেকেই রকসঙ্গীতের উৎপত্তি। ষাটের দশকে ‘বিটলস’ সঙ্গীতের এ ধারা বিশ্বময় জনপ্রিয় করে তোলেন। ব্রিটিশ এ ব্যান্ডের কথা ও সুর আটলান্টিক প্যাসিফিক ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়ে গোটা বিশ্বে। শুরু হয় সঙ্গীতের নতুন জাগরণ রক মিউজিক। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধপরবর্তী সময়ে বিশ্বের তরুণদের মাঝে প্রত্যাশার যে অপূর্ণতা ও শূন্যতা তার আঙ্গিকেই জন্ম সঙ্গীতের এই ধারা। বিশ্বায়নের বহু আগেই রকসঙ্গীত গোটা তরুণসমাজকে এক কাতারে দাঁড় করায়। এক স্বপ্ন ও এক ভাবনায় মিলিত করে, যার মূল সেøাগান ছিল শান্তি, সমৃদ্ধি ও জীবনের জয়গান। উদাহরণ হিসেবে জন লেননের ওসধমরহব গানটির কথা উল্লেখ করা যায়। এ গানের কথা ও সুর পৃথিবীর সব তরুণকে স্বপ্নচারী করে তুলেছিল। সত্তর দশকের তরুণরা এ গানের মতোই এমন এক পৃথিবীর স্বপ্ন দেখত যেখানে সীমান্ত নেই, যুদ্ধ নেই, হানাহানি নেই, বৈষম্য নেই। জন লেননের ওসধমরহব গানটি সম্প্রতি প্যারিসের ব্লাতাকাঁ কনর্সাট হলে হামলার পরদিন একজন শান্তিকামী মানুষ পিয়ানো বাজিয়ে গেয়ে শোনান। জন লেনন ছাড়াও বব ডিলান ও বব মার্লি ছিলেন তরুণদের অন্যতম আইকন। যুদ্ধবিরোধী মনোভাব তরুণদের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার কারণে এসব শিল্পী মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাদেরও চক্ষুশূল ছিলেন। জন লেনন ও বব মার্লির হত্যাকা-ের জন্য অনেকেই সিআইএকে দায়ী করেন। রকসঙ্গীত তৎকালীন তরুণদের মাঝে কতটা যুদ্ধবিরোধী মনোভাব তৈরি করতে সক্ষম হয়Ñ ভিয়েতনাম যুদ্ধ এর অন্যতম উদাহরণ। মার্কিন তরুণরাই তখন ভিয়েতনাম যুদ্ধের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি সরব ছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় এসব তরুণের মাঝে খোদ মার্কিন সরকার নিজ উদ্যোগে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মাধ্যমে অবাধে ড্রাগস বিলি করে। রাজনৈতিক সচেতন শান্তিকামী তরুণরা পরবর্তী সময় হয়ে যায়- মাদকাসক্ত হিপ্পি। সোভিয়েত-মার্কিন দুই মেরুর শীতল যুদ্ধও তরুণদের এমন হতাশার অন্যতম কারণ। স্বপ্নচারী তরুণরা যখন হতাশার আঁধারে ডুবতে থাকে ঠিক তখন উদিত হয় মিউজিকের নতুন ধারা- সঙ্গীতের নতুন সূর্য হেভি মেটাল। মাত্র এক দশকের ব্যবধানেই রকসঙ্গীতের ভিন্ন ভিন্ন ধারা গড়ে উঠেছিল। হার্ড, পাঙ্ক, সাইকেডেলিক রকসহ নানান ধারায় ছড়িয়ে পড়ে। গড়ে ওঠে নিত্যনতুন সব ব্যান্ড, যাদের অনবদ্য সব সুর জনপ্রিয়তার বিচারে পূর্ববর্তীদেরও ছাড়িয়ে যায়। ষাটের দশকে জন্ম নেয়া রক মিউজিক মাত্র এক যুগের ব্যবধানেই নতুন এক প্ল্যাটফর্ম ও ধারায় রূপান্তরিত হয়, যার কথা ও সুর ছিল রক মিউজিক হতে অপেক্ষাকৃত বলিষ্ঠ ও প্রবল। ‘হেড ব্যাঙ’ করা এ সঙ্গীত রক ধারা হতে ভিন্ন হলেও মূলত তা রকসঙ্গীতের নামান্তর, যা মেটাল কিংবা হেভি মেটাল নামে বেশি জনপ্রিয়। সত্তর দশকের জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘ডিপ পার্পেল’, ‘ব্লাক সাবাথ’, ‘লেড জেপলিন’ মূলত এ ধারার মূল প্রবক্তা। মেটাল সঙ্গীতের অগ্রজ হিসেবে যদি কারও নাম স্মরণ করতে হয় তবে অবশ্যই রনি জেমস ডিওকে উল্লেখ করতে হয়। কারণ রনি জেমস ডিও সর্বপ্রথম তার গায়কী ও ‘ডেভিল হর্ন’ (যা মেটাল সাইন হিসেবে বিশ্বব্যাপী পরিচিত) মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের কাছে তা জনপ্রিয় করেন। ‘ডিপ পার্পেল’ ছাড়াও ডিও ‘রেইনবো’ ও তাঁর নিজ নামে একটি ব্যান্ডের ভোকাল ছিলেন। বছর পাঁচেক আগে জনপ্রিয় এ শিল্পী মারা যান। কিন্তু আজও তাঁর গায়কী ও বিখ্যাত ‘ডেভিল হর্ন’ মেটাল সঙ্গীতের অপরিহার্য এক অংশে পরিণত। রক মিউজিকের মতোই মেটালের ভিন্ন ভিন্ন ধারা রয়েছে। থ্রাশ মেটাল, হেভি মেটাল, ডেথ মেটাল, ন্যু মেটাল, ব্লাক মেটাল ইত্যাদি।

মেটাল সঙ্গীতের সবচেয়ে সোনালী সময় আশি ও নব্বই দশক। এই সময়ের মধ্যেই বিশ্বের সব জনপ্রিয় ব্যান্ডের জন্ম। ইংল্যান্ড-আমেরিকা ছাড়াও এ ধারার ব্যান্ড অন্যান্য মহাদেশে গড়ে ওঠে। অনেকে দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিদেশে পাড়ি দিলেও বেশিরভাগ ব্যান্ড নিজ অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থকে। পাশ্চাত্য জনপ্রিয় ব্যান্ডের আদলেই তারা নিজেদের গড়ে তুলেছিল।

বাংলাদেশে রকসঙ্গীতর আবির্ভাব, জনপ্রিয়তা বেশ পুরনো। স্বাধীনতার পূর্বেই সে সময়কার তরুণসমাজ রকসঙ্গীতের প্রতি দুর্বল ছিল। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর অত্যন্ত সীমিত গ-িতে এ ধারার গানের চর্চা হতো। পাঁচতারকা হোটেল কিংবা অভিজাত এলাকায় গান গাওয়ার মাধ্যমেই সীমিত থাকত নিজেদের সঙ্গীতসাধনা। আশির দশকে ধীরে ধীরে রকসঙ্গীত বাংলার তরুণদের মাঝে নতুন জাগরণ সৃষ্টি করে। লোকজ সঙ্গীত, নজরুলগীতি, রবীন্দ্রসঙ্গীতের বাইরে দেশীয় তরুণদের মাঝে তা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তৈরি হয় নিত্যনতুন সব ব্যান্ড- সোলস, রেনেসাঁ, ইন ঢাকা, এলআরবি, মাইলস, নোভা, প্রমিথিউসসহ অসংখ্য নাম। নব্বই দশকের শুরু থেকেই এসব ব্যান্ড তরুণদের মাঝে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বাংলাদেশের রকসঙ্গীত জনপ্রিয় করতে যেসব শিল্পীর নাম আজও ভোলার নয় তারা হলেনÑ হ্যাপী আখন্দ, আজম খান, লাখী আখন্দ ও নিলয়।

রকসঙ্গীতের কাছে বাংলাদেশ ঋণী। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন ‘ঈড়হপবৎঃ ভড়ৎ ইধহমষধফবংয’ বিশ্বব্যাপী আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলনকে সমর্থন আদায়ে ভূমিকা পালন করে। রকসঙ্গীত জগতের তৎকালীন সব রথী-মহারথী এ কনসার্টে হাজির হন। বিটলস্্ ব্যান্ডের জর্জ হ্যারিসনের অনুরোধে মেডিসন স্কোয়ারের এ কনসার্টে উপস্থিত ছিলেন বব ডিলান, এরিক ক্লেপটন, রিঙ্গো স্টারসহ আরও অনেকে। কনসার্টে জর্জ হ্যারিসন বাংলাদেশ নিয়ে একটি গানও পরিবেশন করেন। সে যাই হোক, রকসঙ্গীত নব্বই দশকের গোড়া থেকেই বাংলাদেশের তরুণদের মাঝে বেশ গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে। প্রেম-ভালোবাসা ছাড়াও যে অন্যান্য ব্যাপার গানের বিষয়বস্তু হতে পারে তা অনুধাবন করতে থাকে দেশের তরুণসমাজ। রক মিউজিকে সুরের পাশাপাশি কথা বা লিরিকস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের রক ব্যান্ডগুলোর এ ঘাটতি পূরণ করেন বেশ ক’জন গীতিকার। এক্ষেত্রে শিবলী, কাওসার চৌধুরী, দেহলোভী, মারজুক রাসেলের নাম উল্লেখযোগ্য। রকসঙ্গীতের প্রধান আকর্ষণ ছিল কনসার্ট। ফলে এ্যালবাম রিলিজের পাশাপাশি দেশীয় ব্যান্ডগুলো ধীরে ধীরে কনসার্টের দিকে মনোনিবেশ করতে থাকে। খোলা মাঠে ড্রামের বাদ্য ও গিটারের ঝঙ্কারে মাতোয়ারা হয়ে পড়ে তরুণদল। কনসার্টের রেওয়াজ ছড়িয়ে পড়ে দেশের প্রধান প্রধান শহরে। কনসার্টের ফলে রকসঙ্গীত তরুণদের মাঝে আরও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। রকস্টাররা হয়ে ওঠে তরুণ আইকন। ‘গুরু’ নামে সম্বোধন এক্ষেত্রে এক মজার উদাহরণ। বাংলাদেশের রক কিংবা মেটাল ভুবনে যে দু’জন শিল্পীকে ‘গুরু’ নামে তরুণরা সম্বোধন করতেন তারা হলেন আজম খান ও জেমস। এ দুই শিল্পী তাদের গায়কী ও ভঙ্গির কারণে তরুণদের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয় ছিলেন। নব্বই দশকের শুরুর দিকে নতুন একটি ব্যান্ড রকসঙ্গীতের গণ্ডি ছাড়িয়ে কিছুটা মেটাল আদলে তাদের প্রথম এ্যালবাম বাজারে রিলিজ করে। স্বনামে ব্যান্ডটি নিজেদের প্রথম এ্যালবাম রের্কড করে। নাম- ‘ওয়ারফেইজ’।

বাংলাদেশের মূলধারার সঙ্গীতে প্রথম মেটাল ব্যান্ড ওয়ারফেইজ। যদিও এ ধারার সঙ্গীত বেশ আগে থেকেই আন্ডারগ্রাউন্ডের বহু ব্যান্ড পরিবেশনা করত। বিদেশী ব্যান্ডের গান কাভার করার মধ্যেই তাদের মেটাল অনুশীলন সীমিত থাকত। বাংলায় গান করা কিংবা এ্যালবাম রিলিজ করার প্রতি তাদের আগ্রহ ছিল কম। তাই অফিসিয়ালি ওয়ারফেইজ বাংলাদেশের প্রথম মেটাল হেড ব্যান্ড। ওয়ারফেইজ তাদের প্রথম এ্যালবাম দিয়ে মেটাল শ্রোতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। সঞ্জয়, বাবনা, রাসেল, কমল, টিপু ছিলেন এই ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। ওয়ারফেইজ ব্যান্ডের দ্বিতীয় এ্যালবাম ‘অবাক ভালবাসা’ রিলিজ হয় ১৯৯৪ সালে। সে বছর বাজারে আরও দুটি জনপ্রিয় এ্যালবাম রিলিজ হয়। সেগুলো হলোÑ ফিলিংস ব্যান্ডের ‘জেল থেকে বলছি’ ও জেমসের একক এ্যালবাম ‘পালাবে কোথায়’। যদিও এ্যালবাম দুটি ছিল রক ধাঁচের। ‘অবাক ভালবাসা’ এ্যালবামের বেশকিছু গানে শ্রোতারা মেটাল গানের ছোঁয়া পায়। সঞ্জয়ের গায়কী ও রাসেলের অনবদ্য বাজনা এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য। ওয়ারফেইজ ব্যান্ডের গায়ক সঞ্জয় পরবর্তী সময় ব্যান্ড ছেড়ে অন্য পেশায় যোগ দেন, বাবনা পাড়ি দেন যুক্তরাষ্ট্রে। ওয়ারফেইজ ব্যান্ডের গিটারিস্ট রাসেল সম্ভবত বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রতিভাবান সুরকার, যিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সারির ব্যান্ডে গিটারিস্ট হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। রাসেল বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। ওয়ারফেইজ ছাড়া বাংলাদেশের প্রথম সারির কোন ব্যান্ড মেটাল গান করত না। হার্ড রক কিংবা ব্লুজের প্রতিই তাদের অনুরাগটা বেশি ছিল। ওয়ারফেইজ ব্যান্ডের বাইরে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বেশকিছু তরুণ মেটাল ব্যান্ড গড়ে তোলে। সীমিত শ্রোতা-দর্শকের মাঝেই ছিল তাদের গান পরিবেশনা। এখনও বাংলাদেশে অসংখ্য ব্যান্ড মেটাল সঙ্গীতচর্চা করে, যারা কিনা আন্ডারগ্রাউন্ড মেটাল ব্যান্ড হিসেবেই পরিচিত। ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভাগীয় শহরে প্রায়শ এসব আন্ডারগ্রাউন্ড মেটাল ব্যান্ডের কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয়। মূলধারার রকসঙ্গীতের সঙ্গে এসব ব্যান্ডের সংশ্লিষ্টতা কম থাকায় তারা পাদপ্রদীপের আলোয় কম আসে। গণমাধ্যমগুলোয় এসব ব্যান্ডের খবরও কম পাওয়া যায়। তবে থেমে নেই তাদের মেটাল যুদ্ধ। বিগত বছরগুলোয় এ ধারার বেশকিছু এ্যালবাম বাজারে রিলিজ হয়। মিক্সড এ্যালবাম ‘হাতিয়ার’ এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য। ঈসা খান দূরে সম্পাদিত এই মিক্সড এ্যালবাম চারটি সিডিতে রিলিজ করা হয়। জি সিরিজের ব্যানারে এই এ্যালবামে মোট ৬৪টি ব্যান্ডের গান রয়েছে। ভাবতে অবাক লাগে, দূরের সম্পাদিত এ্যালবামের জন্য ৩০০টি মেটাল ব্যান্ড তাদের গান পাঠায়। এরমধ্যে ৬৪টি গান মনোনীত হয়। বাংলাদেশে বর্তমানে মেটাল গানের প্রসার ব্যাপক। বিগত দশকে বেশকিছু মেটাল ব্যান্ড ধীরে ধীরে নিজেদের মূল ধারায় সম্পৃক্ত করেছে।

মূলধারায় মেটাল ব্যান্ডগুলো পরিচিত করতে অবদান রাখে ডি-রকস্টার। এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বেশকিছু ব্যান্ড নিজেদের মেটাল গান দিয়ে শ্রোতা-দর্শকদের মনে আসীন হয়। ডি-রকস্টারের মাধ্যমে পরিচিতি লাভ করা এসব ব্যান্ডের পূর্বে যে ব্যান্ড মেটাল সঙ্গীতকে সমৃদ্ধ করেছে তার নাম অৎঃপবষষ. আর্টসেল ছাড়াও সুমনের ‘অর্থহীন’ মেটাল ধাঁচের সঙ্গীত পরিবেশন করত। আর্টসেল সম্ভবত ওয়ারফেইজ পরবর্তী অন্যতম মেটাল ব্যান্ড, যারা এতটা জনপ্রিয়তা অর্জন করে। বর্তমানে রক-মেটাল ব্যান্ডের শীর্ষ তালিকায় তাদের নাম প্রথম দিকেই স্থান পায়। আর্টসেল ব্যান্ডের ভোকাল লিংকন ও গিটারিস্ট এরশাদ তরুণ প্রজন্মের মিউজিশিয়ানের কাছে অন্যতম আইকন।

বর্তমানে বাংলাদেশে রক ও মেটাল সঙ্গীতের প্রসার ব্যাপক। কিন্তু পাইরেসিগত সমস্যার কারণে রিলিজ হওয়া এ্যালবামের বিক্রি কম। এই সমস্যার কারণেও মেটাল সুরকার এ্যালবাম করতে কিছুটা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। বর্তমানে আর্টসেল, ওয়ারফেইজ, অর্থহীন ছাড়া যেসব ব্যান্ড মেটাল জগতে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে তারা হলো- পাওয়ার সার্জ, ডি-ইলুমিনেশন, স্টেনটোরিয়ান, ভাইভ, সাটানিক, এভরোভাইরাসসহ অনেক নিত্য নতুন নাম। তবে এসব ব্যান্ডের গান থেকে জীবনের নির্দেশনা, অনুপ্রেরণা কতটুকু পাওয়া যায় তা তরুণরটি ভালো জানেন।

মেটাল-রক সঙ্গীত বিকাশে ভূমিকা রাখছে। দেশের অসংখ্য রেডিও স্টেশন। বর্তমানে বাংলাদেশের রেডিও স্টেশনগুলোয় দিনের কোন একটি সময়ে রক মেটালের প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়। ফলে তরুণ মিউজিশিয়ানরা খুব সহজে নিজেদের উপস্থাপনের সুযোগ পান যা তাদের সঙ্গীত জীবনের পথচলায় অনেক বড় অনুপ্রেরণা।

অদ্ভুত এক আঁধার আজ তরুণ মনে, জীবনের প্রতিটি ক্ষণে। কোথাও জীবনের স্বপ্ন নেই। আছে কেবল জীবনকে সাফল্যে আষ্টেপৃস্টে বাঁধার পরিকল্পনা। এমন পরিস্থিতি ঘোচাতে প্রয়োজন উত্তাল কোন সুর, বাদ্যময় কোন গান; যা আবারও তরুণদের স্বপ্নচারী করবে গেয়ে উঠতে জীবনের জয়গান আমরা সেই প্রতীক্ষায়।