২১ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

হিমেল হাওয়ায় তারুণ্যের ফ্যাশন

  • তৌফিক অপু

হেমন্তের মৃদু মন্দ বাতাসকে পাশ কাটিয়ে বইতে শুরু করেছে হিমেল হাওয়া। বিশেষ করে সকাল এবং সন্ধায় এর তীব্রতা যেন বেড়ে যায়। এমন অবস্থায় গরম পোশাক ছাড়া ঘর থেকে বাইরে পা ফেলা বোকামি। উপযুক্ত পোশাক পরে বের না হলে, রাস্তায় নেমে বিপাকে পড়তে হবে। তাই একবারেই প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্র গায়ে চেপে যাত্রা শুরু করা শ্রেয়। ফলে, স্বাচ্ছন্দ্যে কর্মস্থলের উদ্দেশে পাড়ি দেয়া যাবে। পথিমধ্যে শীতের প্রকৃতি বেশ উপভোগ্য হবে। শীত এখন আর গরমের পোশাকের মাধ্যমে নিজেকে জড়িয়ে রাখার ঋতু নয়। ফ্যাশনেবল একটি ঋতুও বটে। এখন গ্রামে-গঞ্জে শীতের তীব্রতা লক্ষ্য করা যায়। আমাদের নগর জীবনে নয়। তবে কিছুদিন পরেই চলে আসবে সকলের কাছেই। দেশের অধিকাংশ গ্রামেই শীতের বুড়ি হানা দিয়েছে। এখন অপেক্ষায় আছে নগরীতে আক্রমণের উপযুক্ত ক্ষণেই দেখা মিলবে তার। শহরের তরুণ-তরুণীরা শীতের পোশাক না পড়লেও গ্রামের মানুষ পুরোদমেই গায়ে চাপিয়েছে। আমাদের নগরীতেও মৃদু শীত পড়তে শুরু করছে, যার মাত্রা ব্যাপক নয়। এ সময় সকলের গায়ে গরম পোশাক লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। কিন্তু সংগ্রহ করতে দেখা যায়। হাল্কা শীত বিরাজ করলেই শহরে গরম পোশাক ক্রয়ের হিড়িক পড়ে যায়। অবশ্য এ বস্ত্রটি হতে হবে ফ্যাশনেবল এবং আকর্ষণীয়। শীতকালের পোশাকের মধ্যে জ্যাকেট, সোয়েটার, ব্লেজার, স্যুট, ফুলসিøভ টি-শার্ট, হুডি ইত্যাদি ব্যাপক জনপ্রিয়। চাহিদার প্রতি লক্ষ্য রেখে পোশাক তৈরি প্রতিষ্ঠান ও শো-রুমসমূহ বিভিন্ন ডিজাইন উন্নতমানের ড্রেসগুলোই সকলের নিকট তুলে ধরেন। বিশাল এ আয়োজন হতে অতি সহজেই মানানসই শীতবস্ত্র সংগ্রহ করা সম্ভব হয়। হাল্কা শীতের আগমনেই দেশের তরুণ-তরুণীদের জ্যাকেট ও সোয়েটার ক্রয় করতে বেশ লক্ষ্য করা যায়। জ্যাকেট হালের ফ্যাশনে স্টাইলিস শীত পোশাকের মধ্যে জ্যাকেটের প্রচলন অত্যধিত। এর দরুন ব্যবসায়ীরা দেশীয় জ্যাকেটের পাশাপাশি বিদেশী জ্যাকেটও নিয়ে আসে। এতে তাদের শো-রুমে জাঁকজমক ফুটে ওঠে। বিভিন্ন ডিজাইনের এ জ্যাকেটগুলো প্যারাসুট কাপড়, মোটা ব্যানবাস ফেব্রিক্স, উল, ফ্ল্যানেল, ডেনিম এবং চামড়া দিয়ে তৈরি অধিক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। মোটা ক্যানভাস ফেব্রিক্স ও চামড়ার জ্যাকেটগুলোই বেশি বিক্রি হয়। লেদারের তৈরি জ্যাকেট মূলত স্থায়িত্ব, রং, আরামদায়ক ও ডিজাইনের জন্য বর্তমান ফ্যাশনে আকাশচুম্বী গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। এ সকল জ্যাকেট বেশ স্টাইলিশ এবং প্রতিনিয়ত নতুনত্ব আনা হয়। বেশ জনপ্রিয় কিছু স্টাইলের মধ্যে পুলিশ জ্যাকেট, রকস্টার, ভেলেন্ট লেদার রাইডিং জ্যাকেট, ইলাস্টিকসহ বোম্বার স্টাইল জ্যাকেট, বেসিক ওয়েস্টলেস জিন্স ফ্রন্ট জ্যাকেট, ক্ল্যাসিক লেন্থ চিপ ফ্রন্ট কিংবা টু বাটন, ফোর বাটন জ্যাকেট অন্যতম। বিভিন্ন ফেবিক্সের মাধ্যমে তৈরি জ্যাকেটসমূহে বেশ কাজ ও মেটিভ লক্ষ্য করা যায়। কাফে জিপার, ওয়েল্টেট, পকেট, ল্যাভেন ট্রাইপ, এমব্রয়ডারি, এ্যাপ্লিক, মেটাল, বাকল ইত্যাদি ব্যবহার অত্যাধিক। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আসছে কিছু পরিবর্তন, যা পড়েছে জ্যাকেটের বেলায়। তারই ধারাবাহিকতায়, ডেনিম, ক্যানভাস ফেবিক্স ও চামড়ার জ্যাকেটের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বেড়েছে টাকিস্ ফেবিক্সের হুডির চাহিদাও। এ হুডিগুলোতেও বিভিন্ন আকর্ষণীয় ডিজাইন দেখা মেলে। দেশের অধিকাংশ মার্কেটে শীতবস্ত্রের দোকানি ও শো-রুম হতে নিজের পছন্ত মতো জ্যাকেট সংগ্রহ করা যাবে। এ ক্ষেত্রে মূল্য পরিশোধে ডিজাইন ও মানের ভিত্তিতে প্রয়োজন হবে ৫০০ টাকা থেকে ১৫,০০০ টাকা। বিদেশী জ্যাকেট ক্রয়ে গুনতে হবে তুলনামূলক বেশি অর্থ।

সোয়েটার : অতীত সময়ের তুলনায় বর্তমানে সোয়েটার ব্যবহার কিছুটা কমেছে। সায়েটার ব্যবহারকারীর সংখ্যা কিছুটা কম হলেও এখনও চাহিদা রয়েছ। আর সে চাহিদা ও রুচি অনুসারে সোয়েটার বাজারে স্থান করে নেয়। হালের ফ্যাশনে বেসিক উলের সোয়েটারের তুলনায় মিক্সড উলের সোয়েটারের চাহিদা অধিক। বর্তমানে সোয়েটারেও জ্যাকেটের আদলে জিপার এ হুডির ডিজাইন হয়। এগুলোর সঙ্গে এক রঙের ও স্টাইপের গোলগাল সোয়েটারের চাহিদাও বেশ। পাশাপাশি সোয়েটারে আকর্ষণীয় এ্যাপ্লিকের কাজও লক্ষ্য করা যায়। নানা ডিজাইনে ও দামে এ সোয়েটারগুলো দেশের অধিকাংশ মার্কেটসহ রাজধানীর বঙ্গবাজার হকার্স মার্কেট, গুলিস্তান মার্কেট, নিউমার্কেট, রাজধানী সুপার মার্কেট, পলোওয়েল মার্কেট, মৌচাক মার্কেট, বসুন্ধরা শপিং মল, মেট্রো শপিং মল, শাহ আলী মার্কেটেও মিলবে সাধারণত সোয়েটার ভিন্নতায় মূল্য পড়বে ৫০০ টাকা থেকে ২,৫০০০ টাকা। দেশের স্কুল ও কলেজে শীতবস্ত্রের মধ্যে সোয়েটার হলো ড্রেস কোড। সুতরাং, বর্তমানে এ পোশাকটি অনেক চাহিদা দেখা যায়।

নগরীতে এখন শীতের তীব্রতা লক্ষ্য করা যায়নি। তবে বেশিদিন বাকিও নেই। কিছু দিনের মধ্যে সকলের সঙ্গে সাক্ষাত করবে শীতের বুড়ি। আর তাই সাক্ষাত পর্বটি যেন আনন্দঘন এবং সফলতার সঙ্গে হয় এ উদ্দেশ্যে এখনই সময় প্রয়োজনীয় শীতের পোশাক ক্রয় করা। এতে পছন্দ মতো আকর্ষণীয় ডিজাইনের সুলভ মূল্যে শীতের পোশাকটি ক্রয় করা যাবে। সঙ্গে হালের তারুণ্যের ফ্যাশন এ ব্যাপারটি তো রয়েছেই।

ছবি : আরিফ আহমেদ

মডেল : ইমন ও নীলা

ড্রেস : ব্যাঙ