১৫ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিশ্বসাহিত্যের টুকরো খবর

লন্ডন সাহিত্য উৎসব অনুষ্ঠিত

সাউথ ব্যাংকের বেভেডিয়ার রোডের সাউথ ব্যাংক সেন্টারে শেষ হলো লন্ডন সাহিত্য উৎসব ২০১৫। এ বছরের লন্ডন সাহিত্য উৎসব মূলত চেষ্টা করেছে অভিযানমূলক প্রাণপ্রাচুর্যকে ধরার। কথার মাধ্যমে উপস্থিত দর্শক-পাঠককে মুগ্ধ করে রাখার ব্রত থাকে এবারের আয়োজনে। কবিতা, উপন্যাস, নাটকসহ সাহিত্যের বিভিন্ন শাখার গুণীজন উপস্থিত থাকেন উৎসবে। অতীতের বড় বড় লেখকের রচনা নিয়ে যেমন আলোচনা থাকে, তেমনি নতুন লেখকদের রচনা সম্পর্কে, তাঁদের উঠে আসার প্রতিচ্ছবিও তুলে ধরা হয় এ উৎসবে। হারমান মেলভিলের ‘মবি ডিক’ থেকে পাঠ হয় চার দিন ধরে। এ ছাড়া সল বেলো, এ্যাঞ্জেলা কার্টার, কেই মিলারসহ অনেকের লেখা থেকে পড়া হয়। পৃথিবীর বিভিন্ন এলাকার লেখক, কবি ও শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সেখানে উপস্থিত হন। স্টিফেন ফ্রাই, জন কুপার ক্লার্ক, জেরেমি পাঙ্গম্যান, আলি স্মিথসহ অনেক ব্যস্ত লেখক ও কবি থাকেন এ সাহিত্য আসরে।

টলকেইনের অসমাপ্ত সৃষ্টির প্রকাশ

জেআরআর টলকেইন, পুরো নাম জন রোনাল্ড রুয়েল টলকেইন। বিখ্যাত ক্ল্যাসিক হাই-ফ্যান্টাসি গ্রন্থ ‘দ্য হবিট’, ‘দ্য লর্ড অব দ্য রিংস’-এর জনক এই কল্পলেখকের নানা সৃষ্টি ইতোমধ্যে বেশ পরিচিত পাঠক মহলে। তাঁর এই দুই মহাকাব্য নিয়ে নির্মিত হয়েছে সিনেমাও। টলকেইন-পাঠকদের জন্য আনন্দের সংবাদ হলো, তার শুরুর দিকের অসমাপ্ত একটি গল্প আগস্ট মাসের শেষ নাগাদ প্রকাশ হলো। ‘দ্য স্টোরি অব কুলেরভো’ শিরোনামের এই গল্পটি লেখক ফিনিশীয় মহাকাব্য কালেভালা পাঠের মাধ্যমে লিখতে উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন। ১৯১৪ সালের দিকে কালো জাদু আর প্রতিশোধের এই মহাগল্পটির লেখক লেখা শুরু করেন তার তরুণ বয়সে ছাত্রাবস্থায়। পরে সে গল্প আর শেষ করা হয়ে ওঠেনি তার পক্ষে। এরই মধ্যে ‘দ্য লর্ড অব দ্য রিংস’-এর তিনটি খ-সহ অনেক বিখ্যাত গ্রন্থ লেখেন তিনি। ২০১০ সালে টলকেইন স্টাডিজের সপ্তম ভাগে অর্ধসমাপ্ত গল্পটি স্থান পায়। আলাদা গ্রন্থ হিসেবে গল্পটি নতুন করে প্রকাশ পেল সাধারণ পাঠকদের জন্য।

নাট্যকার ব্রায়ান ফ্রিয়েলের প্রয়াণ

আইরিশ নাট্যকার, লেখক এবং ফিল্ড ডে থিয়েটার কোম্পানির নির্দেশক ব্রায়ান ফ্রিয়েল আর নেই। নাট্যামোদী ও সমালোচকদের কাছে তিনি ইংরেজীভাষী চেখভ বলে পরিচিত। সাহিত্যাঙ্গনে তিনি আয়ারল্যান্ডের নিজস্ব কণ্ঠস্বর হিসেবে স্বীকৃত। তিনি পড়াশোনা করেন ডেরির সেইন্ট কলামস কলেজে। সিমাস হিনি প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ডেথ অব আ ন্যার্চালিস্ট’ প্রকাশের পর মুগ্ধ পাঠক হিসেবে ফ্রিয়েল নবীন কবিকে প্রশংসা করে একটি চিঠি লিখেছিলেন। তারপর থেকে ফিল্ড ডে থিয়েটার কোম্পানির জন্য দুজন কাজ করেছেন একসঙ্গে। ছয় দশকের নাট্যজীবনে তিনি নাটক লিখেছেন ত্রিশের অধিক। ফিলাডেলফিয়া, হেয়ার আই কাম, ডান্সিং এ্যাট লাগনাসা, আ সোর্ট অব ফ্রিডম, টু দিস হার্ড হাউস, দ্য জেন্টল আইল্যান্ড, দ্য ফ্রিডম অব দ্য সিটি, ওয়ান্ডারফুল টেনেসি, মলি সুইনি ইত্যাদি তাঁর বিখ্যাত নাটকের অন্যতম। এ ছাড়া চেখভ, তুর্গেনেভ, ম্যাকলিনসহ বেশ কয়েকজন কালজয়ী লেখকের রচনাও নাট্যরূপ দিয়েছেন তিনি। নাট্যকীর্তির স্বীকৃতি হিসেবে তিনি দেশী-বিদেশী পুরস্কার ও সম্মান লাভ করেন বহুবার।

অঞ্জন আচার্য