১৯ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পাকিস্তানের সিরিজ বাঁচানোর লড়াই

  • সিরিজ জয়ে দৃষ্টি ইংলিশদের, সিরিজের চতুর্থ ও শেষ ওয়ানডে আজ

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ শুরু থেকেই দারুণ জমে উঠেছে ওয়ানডে সিরিজটা। প্রথম ম্যাচ জিতে এগিয়ে গেলেও পরে টানা দুই ম্যাচ পরাজয়ের স্বাদ পেয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট দল। সে কারণে ইংল্যান্ড এগিয়ে আছে চার ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ২-১ ব্যবধানে। এবার সিরিজের শেষ ম্যাচটি তাই পাকিস্তানের জন্য ডু অর ডাই। এ ম্যাচে জিততে না পারলে সিরিজ হারাবে তারা। আর আগেভাগে এগিয়ে থাকার কারণে ইংল্যান্ড সুবিধাজনক অবস্থানে থেকে বেশ উজ্জীবিত আছে। এবার টেস্ট সিরিজে পাকদের বিরুদ্ধে তেমন সুবিধা করতে না পারলেও ওয়ানডে সিরিজে দারুণ খেলেছে ইংলিশরা। এবার দুবাইয়ে আজ সিরিজের চতুর্থ ও শেষ ওয়ানডে জিতে সিরিজ নিশ্চিত করতে চায় তারা।

টেস্ট সিরিজ জয়ের পর শুরুটা কিন্তু দারুণ করেছিল পাকিস্তান। প্রথম ওয়ানডেতেই ইংল্যান্ডকে ৬ উইকেটে হারিয়ে দিয়ে এগিয়ে যায়। সে সময় মনে হয়েছিল ওয়ানডে সিরিজেও একতরফাভাবে জিতে যাবে পাকরা। কিন্তু এরপরই ঘুরে দাঁড়িয়েছে ইংল্যান্ড। তেমন কোন প্রতিদ্বন্দ্বিতাই গড়ে তুলতে পারেনি পাকিস্তান। টানা দুই ম্যাচে ৯৫ রান ও ৬ উইকেটে জিতেছে ইংল্যান্ড। ব্যাটে-বলে দারুণ ব্যর্থতা দেখিয়েছে পাকিস্তান। সেদিক থেকে তেমন কোন সমস্যাই নেই ইংলিশদের। ব্যাটে-বলে দারুণ ফর্মে আছেন দলের ক্রিকেটাররা। আর জয়ের ধারায় ফেরার পর দলগতভাবেও বেশ অনুপ্রাণিত ইংল্যান্ড। কিন্তু সিরিজ বাঁচানোর জন্য পাক ব্যাটসম্যানদের দারুণ কিছু করতে হবে। মূলত ব্যাটিং ব্যর্থতার কারণেই আগের দুই ম্যাচে হেরেছে তারা কোন প্রতিরোধ ছাড়াই। তবে দলের বোলাররা বেশ ভাল বোলিং করেছে। তাদের যথাযোগ্য সমর্থন দেয়ার জন্য হলেও ব্যাটসম্যানদের কিছুটা এগিয়ে আসতে হবে। বিশেষ করে প্রথম দুই ওয়ানডেতে পাক টপঅর্ডারদের ব্যর্থতাই ছিল অনেক বড় বিপদের কারণ। প্রথম ওয়ানডেতে ৪১ রানে তিনটি এবং দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৮০ রানে ৬ উইকেট হারায় পাকরা। তৃতীয় ওয়ানডেতে অবশ্য ব্যাটসম্যানরা দারুণ করেছেন, তবে লড়াকু সংগ্রহ গড়তে ব্যর্থ হয়েছে। এবার এই ব্যর্থতাই কাটিয়ে উঠতে হবে পাকদের।

কিন্তু অন্যদিকে পুরো ওয়ানডে সিরিজেই ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা দারুণ করেছেন। বোলাররাও তাদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভাল বোলিং করে পাকদের চাপে রেখেছেন। ইয়ন মরগানের অধীনে ইংলিশদের কিছুটা ভিন্নরকম মনে হচ্ছে। দলের বেশ কয়েকজন তরুণ উদীয়মান তারকা দারুণ পারফর্মেন্স দেখিয়ে চলেছেন। আর সে কারণেই দলগতভাবে আরও সংঘবদ্ধ হয়ে উঠেছে তারা। দলের পেস বিভাগ দারুণ করছে প্রায় নতুন বোলারদের নিয়ে।

ক্রিস ওকস এবং রিস টপলি দু’জন নিয়েছেন যথাক্রমে ৮ ও ৫ উইকেট। বোলারদের নৈপুণ্যের কারণে পাক ব্যাটসম্যানরা বেশি ভাল করতে পারেনি। অপরদিকে ব্যাটসম্যানরাও নিজেদের মেলে ধরেছেন। অধিনায়ক মরগান যেমন রানের মধ্যে আছেন তেমনি ওপেনিং ব্যাটসম্যান এ্যালেক্স হেলস একটি ম্যাচজয়ী শতক হাঁকিয়েছেন এবং আরেক তরুণ জেমস টেইলরও বেশ সাবলীলভাবেই মোকাবেলা করেছেন পাক বোলিং। সবদিক থেকে বেশ আত্মবিশ্বাসী ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে আজকের লড়াইটা সহজ হবে না পাকিস্তানের জন্য। ধারবাহিকতার অভাব আছে অভিজ্ঞ মোহাম্মদ হাফিজ, শোয়েব মালিকদের। তারা ঠিকমতো জ্বলে উঠতে পারলে অনেক কিছুই সম্ভব। আর পেস আক্রমণে ওয়াহাব রিয়াজ যদি নিজেকে ফিরে পান সেটা পাকিস্তানের ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখবে।