২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লীগ শুরু ২৬ নবেম্বর

  • উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি বারিধারা-পুলিশ

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ বিলম্বে হলেও অবশেষে শুরু (আগামী ২৬ নবেম্বর থেকে) হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লীগের চতুর্থ আসর। লীগের টাইটেল স্পন্সর হচ্ছে ‘মিনিস্টার ফ্রিজ।’ এছাড়া কো-স্পন্সর হচ্ছে প্রগতি ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড, ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড, নভো এয়ার এবং ট্রেজার সিকিউরিটিজ লিমিটেড। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম এবং বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামÑ এই দুই ভেন্যুতে লীগের খেলাগুলো অনুষ্ঠিত হবে। উদ্বোধনী দিনের ম্যাচে মুখোমুখি হবে উত্তর বারিধারা ক্লাব বনাম পুলিশ এ্যাথলেটিক ক্লাব।

এই লীগের পয়েন্ট টেবিলের প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী দল ‘বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ ২০১৫-১৬’-তে উত্তীর্ণ হবে এবং পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে থাকা দলটি অবনমিত হবে।

এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বাফুফে ভবনে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন বাফুফের সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী, সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগ এবং স্পন্সর প্রতিষ্ঠানের উর্ধতন কর্মকর্তারা। সংবাদ সম্মেলনে লীগের লোগো উন্মোচন, স্পন্সর প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পরিচিতি এবং এক বছরের জন্য চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়। লীগ হবে ডবল লেগে। চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দল পাবে যথাক্রমে ৫ লাখ ও ৩ লাখ টাকা করে। লীগ আয়োজনে বাফুফের ব্যয় হবে ৭০ লাখ টাকা। প্রতিটি ম্যাচের সেরা ফুটবলারকে দেয়া হবে আকর্ষণীয় পুরস্কার। আরও জানান হয়, লীগের পাতানো ম্যাচ রোধ করতে বাফুফে কঠোর অবস্থানে থাকবে এবং প্রয়োজনে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে। পাতানো ম্যাচ মনিটরিং করতে প্রতিটি ম্যাচই ভিডিও করা হবে। এর আগে কথা ছিল ৩০ অক্টোবর থেকে কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে লীগ। তবে কমলাপুর স্টেডিয়ামে টার্ফ স্থাপনের কাজ শেষ না হওয়ায় আরও কয়েকদিন পিছিয়ে যায় লীগ। এবারের লীগে অংশ নেবে আট দল, যার মধ্যে তিনটি দল নতুন। দলগুলো হলোÑ পুুলিশ এ্যাথলেটিক ক্লাব, মতিঝিল টি এ্যান্ড টি ক্লাব এবং ইয়ংমেন্স ফকিরেরপুল ক্লাব। অপর ক্লাবগুলো হলোÑ উত্তর বারিধারা ক্লাব, ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাব, ওয়ারী ক্লাব, আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ ও অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড স্পোর্টস ক্লাব। বাসাবো তরুণ সংঘ আর্থিক কারণে নাম প্রত্যাহার করে নেয়। লীগে অংশ নেয়ার জন্য প্রতিটি দলকে পার্টিসিপেশন মানি দেয়া হবে ৫ লাখ টাকা করে (মোট ৪০ লাখ টাকা)। গত আগস্টে বাফুফের ফুটবল একাডেমি দলকে প্রিমিয়ার লীগের দ্বিতীয় স্তর চ্যাম্পিয়নশিপ লীগে খেলার ব্যাপারে অনুমোদন দিয়েছিল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) নির্বাহী সভা। বলা হয়েছিল চ্যাম্পিয়নশিপ লীগে একাডেমি দল অন্য দলগুলোর মতো পয়েন্টের ভিত্তিতে রেলিগেশন ও প্রমোশন পাবে। তবে পরে অংশ নেয়া অপর ক্লাবগুলোর তীব্র আপত্তি ও বিরোধিতার মুখে এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে বাধ্য হয় দেশীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ এই সংস্থাটি। গত ১-১৬ অক্টোবর (আগের নির্ধারিত তারিখ ছিল ১-১৬ আগস্ট) পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় ‘বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লীগ’-এর মধ্যবর্তী দলবদল। আর গত জুলাইয়েই বাফুফে একাডেমি দলকে নিয়ে জোর আপত্তি তুলেছিল অংশগ্রহণকারী ক্লাবগুলো। বাফুফের ডেভেলপমেন্ট কমিটি চেয়েছিল বাফুফে একাডেমির অনুর্ধ-১৮ দলটিকে চ্যাম্পিয়নশিপ লীগ খেলানোর। এতে ফুটবলারদের অভিজ্ঞতা বাড়বে। একাডেমি দলটির কোন অবনমন ও উন্নতি কোনটাই হবে নাÑ এমন পরিকল্পনা ছিল বাফুফের। পরে লীগ কমিটির সভায় চ্যাম্পিয়নশিপ লীগের অন্য ক্লাবগুলো এতে দ্বিমত জানায়। তাদের যুক্তিÑ এতে পাতানো খেলা হবে। তবে বাফুফে চেয়েছিল চ্যাম্পিয়নশিপ লীগে রেলিগেশনের আওতায় এনেই একাডেমি দলকে খেলানো হবে। লীগের নতুন তিনটি ক্লাবের জন্য একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে বাফুফে। সেটা হলোÑ এই তিনটি নতুন ক্লাবের পক্ষে সর্বশেষ লীগে অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়রা যারা বাইন্ডিংয়ের আওতায আছেন, তাদের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ক্লাবের চাহিদা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১০ খেলোয়াড়ের জন্য উল্লেখিত বাইন্ডিং প্রথা বর্তমান চ্যাম্পিয়নশিপ লীগ মৌসুমের জন্যও বহাল থাকবে। তবে সংশ্লিষ্ট বাইন্ডিং খেলোয়াড়গণ স্ব-স্ব ক্লাব থেকে সমঝোতামূলক ছাড়পত্র সংগ্রহ করে অন্য যে কোন লীগে যে কোন ক্লাবের পক্ষে নির্ধারিত রেজিস্ট্রেশন উইন্ডোতে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবে।

নির্বাচিত সংবাদ