২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রৌমারীতে মাদ্রাসায় শিবির বানানোর অভিনব কৌশল

স্টাফ রিপোর্টার, কুড়িগ্রাম ॥ শিবির করলে পনের শ’ আর না করলে ৩ হাজার টাকা। এ ঘোষণা দিয়ে দাখিল পরীক্ষার ফরম পূরণ করাচ্ছেন এক মাদ্রসা সুপার। অতিরিক্ত টাকা আদায়ের এ ঘটনাটি ঘটছে, রৌমারী উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ফুলজান বছিরিয়া দাখিল মাদ্রাসায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকার অভিভাবক মহলে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। অভিযোগ উঠেছে, ওই মাদ্রাসাটির সুপার মাওলানা রফিকুল ইসলাম দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির হওয়ায় ছাত্রদের শিবিরে যোগদানে বাধ্য করার অভিনব কৌশল অবলম্বন করছেন। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর জসিম উদ্দিন নামের এক ছাত্র লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছে।

অভিযোগকারী ছাত্র জানায়, ‘আমি শিবির সমর্থন না করায় আমার দাখিল পরীক্ষার ফরম পূরণের ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার টাকা। আমি দরিদ্র পরিবারের সন্তান হয়ে ফরম পূরণে টাকা কম নেয়ার জন্য অনেক কান্নাকাটি করেছি কিন্তু সুপারের মন গলাতে পারিনি। শিবির সমর্থন করে না এমন ছাত্রদের ফরম পূরণে ৩ হাজার টাকা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। অথচ প্রকাশ্যেই মাত্র পনের শ’ টাকায় ছাত্র শিবির সমর্থনকারীদের ফরম পূরণ করাচ্ছেন ওই সুপার।

ছাত্র জসিম আরও জানান, ‘আমাকে সুপার রুমে ডেকে নিয়ে বলেন, তোমার বাড়ি কাউনিয়ারচর গ্রাামে। ওই গ্রামের সবাই জামায়াত শিবির করে তুমি একা ছাত্রলীগ কর কেন?’ মাদ্রাসায় কর্মরত এক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সুপার নিজেই জামায়াতের নেতা। মাদ্রাসায় যারা শিবির করবে তাদের জন্য সব ধরনের সুযোগ সুবিধা দেন তিনি। যারা ছাত্রলীগ সমর্থন করে তাদের নানাভাবে হয়রানি করা হয়। এমনকি আর্থিকভাবেও নাজেহাল করা হয়। অভিযোগকারী জসিম উদ্দিন কাউনিয়ার চর গ্রামের কৃষক আইয়ুব আলীর পুত্র। অনুসন্ধানে জানা যায়, সামনে পরীক্ষা এ ভয়ে অধিকাংশ ছাত্র প্রকাশ্যে মুখ খুলতে রাজি হয়নি। তবে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ওই মাদ্রাসার ছাত্রী আরজিনা খাতুন বলেন, ‘আমার বাবা আ’লীগ করে জন্য আমারও ৩ হাজার টাকা ফি নির্ধারণ করেছিল, কিন্তু আমি অনেক অনুরোধের মাধ্যমে ২৭০০ টাকায় ফরম পূরণ করেছি।’ এভাবেই এরশাদুল হক ৩২০০, জসিম ২৭০০ ও তৌহিদুল হককে ২৬০০ টাকায় ফরম পূরণ করতে বাধ্য করা হয়েছে। এ টাকার সঙ্গে বোর্ড ফি’র পার্থক্য আকাশ-পাতাল। মাদ্রাসার সুপার মাওলানা রফিকুল ইসলাম জানান, এ সব মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শংকর কুমার বিশ্বাস অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, একজন শিক্ষক এমন কাজ করতে পারে না, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।