২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রেলে আগুন নেভানোর নিজস্ব ব্যবস্থা নাজুক

  • নাশকতায় ক্ষতির পরিমাণ এ জন্যই বেশি

সমুদ্র হক ॥ দেশের রেলপথে ট্রেনে ও স্টেশনের অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা খুবই দুর্বল। তিন হাজার কিলোমিটার রেলপথে প্রতিদিন আন্তঃনগর এক্সপ্রেস মেল লোকাল ও কমিউটার মিলে তিন শ’ ১১টি ট্রেন চালু রয়েছে। এর সঙ্গে মালবাহী রেলগাড়ি চলাচল করে। বর্তমানে রেল স্টেশন চালু রয়েছে ৪২টি। কোথাও কোন অঘটনে আগুন লাগলে তা দ্রুত নেভানোর অগ্নি নির্বাপকের ভাল ব্যবস্থা নেই। রেলের স্থাপনাগুলোতেও আগুন নেভানোর ব্যবস্থা নেই। হাতে গোনা কয়েকটি স্টেশনে ফায়ার এক্সটিগুইসার আছে ঠিকই, তবে তার প্রায় সবই অকেজো। অনেক মেয়াদ শেষ। নিয়মিত সার্ভিসিং করা হয় না।

দুর্ঘটনা লাইনচ্যুত যান্ত্রিক ত্রুটিসহ নানা কারণে ট্রেনে রেললাইনে ইঞ্জিনে কম্পার্টমেন্টে কখনও স্টেশনেও আগুনের ঘটনা ঘটছে। এ বছরের প্রথম তিন মাসে কথিত আন্দোলনের নামে নাশকতা ধ্বংসাত্বক ও সন্ত্রাসী কর্মকা-ে রেলে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করে রেল লাইনের কাঠের স্লিপারে কোন স্টেশনে কখনও ট্রেনে আগুন দেয়া হয়েছে। সূত্র জানায়, এভাবে পাঁচটি রেল ইঞ্জিন ও ২৩টি প্যাসেঞ্জার কম্পার্টমেন্ট (রেল বগি) ও ১১টি রেল স্টেশনে আগুন দেয়া হয়। এর মধ্যে ঢাকা কমলাপুর রেল স্টেশনেই ২টি ইঞ্জিন ও ৫টি বগিতে আগুন দেয়া হয়। ক্ষতি হয় অন্তত আড়াই শ’ কোটি টাকা। প্রতিটি ইঞ্জিন কেনা হয় ২৭ থেকে ৩৪ কোটি টাকা করে। আন্তঃনগর ট্রেনের একেকটি কম্পার্টমেন্টের দাম আড়াই থেকে ৩ কোটি টাকা। রেলের নিজস্ব আধুনিক অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা থাকলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমত, এমন মন্তব্য একজন প্রকৌশলীর। বর্তমানে আন্তঃনগর ট্রেনে মাঝারি ফায়ার এক্সটিংগুইসশার আছে। তবে তা দিয়ে অভ্যন্তরীণ কোন অল্প আগুন নেভানো সম্ভব। এ ছাড়া সাধারণ আগুনেও নির্ভর করতে হয় ফায়ার সার্ভিসের ওপর। জেলা পর্যায়ে এবং কয়েকটি উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস আছে। দূরত্ব ভেদে আগুন লাগলে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস পৌঁছতে পৌঁছতেই বড় ধরনের ক্ষতি হয়েই যায়। দেশের গুরুত্বপূর্ণ রেল স্টেশন ও রেলের বড় স্থাপনাতেও আগুন নেভানোর ভাল ব্যবস্থা না থাকায় সম্পূর্ণ ফায়ার সার্ভিসের ওপর নির্ভর করতে হয়। ফায়ার সার্ভিসকে আগুন নেভানোর প্যাসেজ বের করে দিতেও অনেকটা সময় লাগে।

একটা সময় যখন স্টিম ইঞ্জিনে (কয়লার আগুন ও পানিতে) ট্রেন চলাচল করত তখন বড় ও মাঝারি স্টেশনগুলোতে ইঞ্জিনে পানি নেয়ার ওভারহেড ব্যবস্থা ছিল। স্টেশনে এবং স্টেশনে দাঁড়ানো ট্রেনে কোন কারণে আগুন লাগলে এই পানি আগুন নেভানোর কাজে ব্যবহার হতো। বর্তমানে সবই ডিজেল ইঞ্জিন হওয়ায় স্টেশনে থেমে পানি নেয়ার প্রয়োজন হয় না। স্টেশনে পানির এই আধার আর নেই। ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের পর যে বড় ইঁদারায় রাখা হতো তাও ভরাট হয়ে গেছে। স্টেশনে আগুন নেভানোর পানি স্টোরেজেও ব্যবস্থাও নেই। সব মিলিয়ে রেলগাড়ি ও স্টেশন অগ্নি ঝুঁকিতে রয়ে গেছে।

এদিকে নাশকতা রোধে রেলের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য সংখ্যাও কম। সারা দেশে যেখানে অন্তত থেকে ৮ হাজার রেল পুলিশ দরকার সেখানে রয়েছে মাত্র এক হাজার ৬শ’জন। রেলের এক সূত্র জানায় বর্তমানে রেলের আধুনিকায়ন ও উন্নয়ন কর্মসূচী বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কোথাও রিমডেলিং করা হচ্ছে। এই কর্মসূচীতে রেলের নিজস্ব অগ্নি নির্বাপণের ব্যবস্থা রাখা হয়নি। একবিংশ শতকে বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে রেল যোগাযোগকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে রেলের সম্পদ রক্ষার ওপর জোর দেয়া হয়। দেশে তা অনুপস্থিত। রেলের উর্ধতন সূত্র জানায়, আগুন নেভানোর আধুনিক ব্যবস্থা থাকার বিষয়টি নিয়ে ওপর মহলে আলোচনা চলছে।