২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঢাকা জেলের চারদিকে এক কিমি জুড়ে কড়া নিরাপত্তা বলয়

ঢাকা জেলের চারদিকে এক কিমি জুড়ে কড়া নিরাপত্তা বলয়
  • নতুন করে বসানো হয়েছে আরও সিসি ক্যামেরা;###;মোতায়েন করা হয়েছে এপিসি ও জলকামান

স্টাফ রিপোর্টার ॥ দুই যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির রায় কার্যকর উপলক্ষে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। কারাগারের আশপাশের বাসাবাড়ি ও বাণিজ্যিক ভবনগুলোতে নতুন করে বসানো হয়েছে আরও সিসি ক্যামেরা। সন্তোষজনক পরিচয় ব্যতীত ৩-৪ জনকে একত্রে চলাফেরার ওপর বিধি নিষেধ জারি করা হয়েছে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার ও তার আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অস্ত্রগোলাবারুদ ব্যতীত সব ধরনের অস্ত্রগোলাবারুদ বহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কারাগারের আশপাশের বাসাবাড়িতে আগত অতিথিদের সম্পর্কে আগাম তথ্য সরবরাহ করতে অলিখিত নির্দেশনা জারি করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কারাগারের সামনে, আশপাশের রাস্তা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে এপিসি (আর্মার পার্সোনাল কেরিয়ার) ও জলকামান। কারাগারের দিকে যাওয়ার সব রাস্তায় কাঁটাতারের ব্যারিকেড ফেলে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। যানবাহন ও মানুষের চলাচলের ওপর আরোপ করা হয়েছে কড়া বিধিনিষেধ।

শুক্রবার ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার ও তার আশপাশ ঘুরে এমন নিরাপত্তার চিত্রই চোখে পড়েছে। কারাগারের চারদিকে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা বলয়। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের দিকে যাওয়ার প্রায় সব পথ অনেকটাই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কারাগারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শাহবাগ থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা শুরু হয়েছে। শাহবাগে বসানো হয়েছে নিরাপত্তা চৌকি। গণজাগরণ মঞ্চের অবস্থানকে কেন্দ্র করে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন করা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দোয়েল চত্বর-চাঁনখারপুল হয়ে কারাগারের দিকে যাওয়ার সড়কটিই সবচেয়ে বড়। এছাড়া কারাগারের সামনে যাওয়ার আর কোন বড় রাস্তা নেই। শুক্রবার দুপুরের পর দোয়েল চত্বরের তিন নেতার মাজারের সামনের সেই বড় সড়কটি কাঁটাতারের ব্যারিকেড ফেলে বন্ধ করে দেয়া হয়। সেখানে মোতায়েন করা হয়েছে এপিসি ও জলকামান। এছাড়া চাঁনখারপুলেই দুই স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা হয়েছে। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, পলাশী মোড়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের সামনে, বকশীবাজার মোড়, পলাশী মোড়, ঢাকেশ্বরী মন্দির, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সামনে ও কারাগারের মাঠে যাওয়ার রাস্তার মুখে ব্যারিকেড ফেলা হয়েছে। প্রতিটি পয়েন্টে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ ও র‌্যাব।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের মাঠ ও কারা অধিদফতরের দিকে যাওয়ার রাস্তাটি বেগম বদরুন্নেসা সরকারী মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সামনে থেকেই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সরকারী যানবাহন ব্যতীত অন্য কোন যানবাহন তেমন একটা চলাচল করতে দেয়া হচ্ছে না। সরকারী যানবাহনের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে। অন্যান্য সরকারী যানবাহন চলাচল করতে পারলেও তাদের বার বার তল্লাশির মুখে পড়তে হচ্ছে।

কারা অধিদফতরের সামনের সব গেট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ওদিকে হোসেনী দালান, কারাগারের পেছনে চকবাজার, ওয়াটার ওয়ার্কস রোড, রহমতগঞ্জসহ আশপাশের সব রাস্তায় বন্ধ করে দেয়া হয়েছে যানবাহন ও জনসাধারণের চলাচল। নিতান্তই প্রয়োজন ব্যতীত তেমন কাউকে যাতায়াত করতে দেয়া হচ্ছে না। তারপরও তাদের চেকপোস্টে তল্লাশি করা হচ্ছে।

কারাগারের চারদিকে থাকা ওয়াচ টাওয়ারগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন করা হয়েছে। সেখানে শক্তিশালী স্নাইপার রাইফেল আর বাইনোকুলার হাতে দায়িত্ব পালন করছেন পুলিশ ও র‌্যাব। কারাগারের আশপাশের বহুতল বাড়ি ও উঁচু ভবনগুলোর ছাদে অবস্থান নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুরো এলাকা ঝকঝকে আলোকিত রাখতে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সার্চ লাইট লাগানো হয়েছে। কারাগারের সামনে পুরো এলাকা কাঁটাতারের ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে দেয়া হয়েছে। যাতে সহজেই কারাগারের মূল ফটকের কাছে কেউ প্রবেশ করতে না পারে।

জেলখানার মূলগেটে বিপুলসংখ্যক পুলিশ, র‌্যাব ও কারারক্ষী মোতায়েন করা হয়েছে। তাদের অত্যাধুনিক শক্তিশালী আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। কারাগারের সামনে, চকবাজার এলাকা, বকশীবাজার এলাকায় এপিসি ও জলকামান মোতায়েন করা হয়েছে। যে কোন ধরনের নাশকতা এড়াতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে র‌্যাবের হেলিকপ্টার, ডগ স্কোয়াড, আমেরিকা থেকে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বিশেষায়িত বাহিনী সোয়াত, বম্ব ডিসপোজাল টিম, ক্রাইসিস রেসপন্স টিম (সিআরটি), পুলিশ ও র‌্যাবের সাদা পোশাক এবং পোশাকধারী মোটরসাইকেল টহল পার্টি। কারাগারের চারদিকে অবস্থান নিয়েছে বিপুলসংখ্যক পুলিশ, র‌্যাব আর কারারক্ষী। তাদের অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র হাতে সতর্ক অবস্থায় দেখা গেছে। যুদ্ধাপরাধ মামলায় জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহম্মদ মুজাহিদ ও বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসির রায় কার্যকর করতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারসহ আশপাশের এলাকায় এমনই নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। ইতোপূর্বে এমন নিরাপত্তা ব্যবস্থা বঙ্গবন্ধুর খুনী ও কোন যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি কার্যকরের ক্ষেত্রে দেখা যায়নি।

বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কারাগারের চারদিকে আধা কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা চোখে পড়েছে। শুক্রবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও বেড়ে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃতি লাভ করেছে। যে কোন ধরনের নাশকতা এড়াতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারসহ আশপাশের প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায়জুড়েই অলিখিত ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে। দুই যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত এমন নিরাপত্তা বলবত থাকছে। নতুন করে কারাগারের চারদিকে বিভিন্ন ভবন ও বাসাবাড়িতে বসানো হয়েছে অতিরিক্ত সিসি ক্যামেরা। সন্তোষজনক পরিচয় ব্যতীত ৩-৪ জনকে একত্রে চলাফেরার ওপর বিধি নিষেধ জারি করা হয়েছে। ফাঁসি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার ও তার আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অস্ত্রগোলাবারুদ ব্যতীত যে কোন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ বহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কারাগারের আশপাশের সব রাস্তার অলিতে গলিতে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ, র‌্যাব ও গোয়েন্দাদের। এক সপ্তাহ ধরে কারাগারের প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বাণিজ্যিক ও আবাসিক বাসাবাড়িতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে। বাসাবাড়িতে আগত অতিথিদের সম্পর্কে আগাম তথ্য সরবরাহ করার অলিখিত নির্দেশ জারি করা হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তরফ থেকে।

নির্বাচিত সংবাদ