২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মালির হোটেলে কমান্ডো অভিযান॥ ৮০ জিম্মি উদ্ধার, নিহত ৩

জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ মালির রাজধানী বামাকোর একটি বিলাসবহুল হোটেলে বন্দুকধারীরা ১৭০ জনকে জিম্মি করার পর তাদের মুক্ত করতে কমান্ডো অভিযান চালিয়েছে বিশেষ বাহিনী। অভিযানে ৮০ জিম্মি উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছে মালির রাষ্ট্রীয় টিভি। ফরাসী ল্য মঁদে পত্রিকা মালির নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হওয়ার খবর জানায়। মালির প্রেসিডেন্ট শাদে তার সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কাতারি আল জাজিরা টিভি জানায়, র‌্যাডিসন ব্লু হোটেলে হামলার পেছনে ‘আনসার আল দ্বীন’ (ধর্মের সমর্থক) জঙ্গীগোষ্ঠী জড়িত। খবর বিবিসি, টাইমস অব ইন্ডিয়া ও আলজাজিরা অনলাইনের।

এয়ার ফ্রান্স জানায়, উদ্ধার অভিযানে তাদের ১২ ক্রু উদ্ধার পেয়েছে। হোটেলে অবস্থানরত অন্যদের মধ্যে আছে তুরস্ক এয়ারলাইন্সের ছয়কর্মী, ২০ ভারতীয় এবং ১০ চীনা নাগরিক। ২০ ভারতীয় নাগরিক নিরাপদ আছে বলে জানিয়েছে দেশটির দূতাবাস। আর তুরস্ক এয়ারলাইন্সের তিনকর্মী পালিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে। তবে কিভাবে তারা পালিয়ে এসেছে তা জানা যায়নি। চীনের চার নাগরিককে উদ্ধার করেছে বিশেষ বাহিনী। এক খবরে বলা হয়, জিম্মিদের মধ্যে যারা কোরান পড়তে পেরেছে তাদের মুক্তি দেয়া হয়। জিম্মিদের মধ্যে গিনির জনপ্রিয় গায়িকা সেকুউবা বাম্বিনোও রয়েছে বলে জানায় বিবিসির মালির সংবাদদাতা আফ্রিকস আলাউ দিয়ারা।

শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল সাতটায় হোটেলে হামলা হয়। প্যারিসে জঙ্গী হামলায় ১২৯ জন নিহতের ঘটনার রেশ না কাটতেই মালির ‘র‌্যাডিসন ব্লু’ নামে হোটেলে এ হামলা হলো। সরকারী বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং কূটনৈতিক অফিসগুলোর কাছে শহরের কেন্দ্রস্থলের পশ্চিমে হোটেলটি অবস্থিত।

নিরাপত্তা সূত্র জানায়, ১০ বন্দুকধারী ‘আল্লাহু আকবর’ সেøাগান দিয়ে গুলি চালাতে চালাতে হোটেল ভবনে ঢোকে। তবে হোটেল পরিচালনাকারী কোম্পানি রেজিদর গ্রুপ বন্দুকধারীর সংখ্যা দু’জন বলে উল্লেখ করে। বিবিসি’তে এক বিবৃতিতে তারা জানায়, তাদের পাওয়া তথ্যমতে, দুজন মানুষ হোটেলের ১৪০ অতিথি এবং ৩০ কর্মচারীকে জিম্মি করে।

বন্দুকধারীরা হোটেলে প্রবেশ করার সময় দুই নিরাপত্তারক্ষী আহত হয় বলে প্রাথমিক খবরে জানান হোটেলটির এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা। নিরাপত্তা বাহিনী পুরো হোটেল ঘিরে রেখেছে। বন্দুকধারী কারা এবং কোন গ্রুপের সদস্য তা জানা যায়নি।

মালির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালিফ ট্রারো হোটেলের বাইরে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, জিম্মিকারীরা কেউই পালাতে পারবে না। তিনি বলেন, আমাদের বিশেষ বাহিনী হোটেলে অভিযান চালাচ্ছে। আমি বাইরে আপনাদের সঙ্গে কথা বলছি, আর আমাদের বাহিনী হোটেলের ভেতরে প্রতিটি রুম তল্লাশি করছে। তারা ৩০ জিম্মিকে নিরাপদে মুক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু তিন জিম্মি নিহত এবং বিশেষ বাহিনীর দুজন আহত হয়েছে, তবে তারা আশঙ্কামুক্ত।

তিনি আরও বলেন, হোটেলের সব বহির্গমন পথ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তাই নিশ্চিত করে বলতে পারি, কোন জিম্মিকারীই পালাতে পারবে না।

মালির সাংবাদিক মুসা কোন্ডাকে নিরাপত্তা বাহিনী জানায়, তারা হোটেল থেকে জিম্মিদের নিরাপদে বের করে আনতে সক্ষম হচ্ছেন, কারণ জিম্মিকারীরা হোটেলটি সম্পর্কে খুব একটা অবগত নয়।

এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বন্দুকধারীরা কূটনৈতিক লাইসেন্স প্লেট লাগানো একটি গাড়িতে করে আসে। তারা মুখোশ পরা ছিল। হোটেলের প্রবেশপথে নিরাপত্তারক্ষীরা তাদের থামানো মাত্র তারা গুলি শুরু করে।

হামলাকারীরা কয়জন ছিল তা ঠিক করে বলা মুশকিল বলে জানায় আরেক প্রত্যক্ষদর্শী। তিনি হামলাকারীর সংখ্যা ৫ থেকে ১৩ হতে পারে বলে জানান।

বিবিসি’র এক সংবাদদাতা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন এ হোটেলটি মালিতে কর্মরত প্রবাসীদের কাছে খুবই জনপ্রিয়।

২০১২ সালে মালির উত্তরাঞ্চল দখল করেছিল জঙ্গীরা। এদের কারও কারও সঙ্গে আল কায়েদারও যোগ ছিল। ফরাসী বাহিনী সামরিক অভিযান চালিয়ে তাদের উৎখাত করলেও মাঝে মধ্যেই সহিংসতার ঘটনা ঘটে।

গত অগাস্টে সন্দেভাজন জঙ্গীরা মালির কেন্দ্রস্থলের এক শহরের একটি হোটেলে লোকজনকে জিম্মি করে জাতিসংঘের পাঁচকর্মীসহ ১৩ জনকে হত্যা করে।

মালিতে আল কায়েদা সংশ্লিষ্ট জঙ্গীরা দেশের উত্তরাঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রাজধানী বামাকো দখলের হুমকি দেয়ার পর ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে সেখানে সেনা মোতায়েন করে ফ্রান্স। শুক্রবারের এ হামলার পর মালির সেনা, পুলিশ এবং বিশেষ বাহিনীসহ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী ও ফরাসী সেনারা ঘটনাস্থলে যায়।