২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এবার ব্যানা হুদার নতুন দল তৃণমূল বিএনপি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ তৃণমূল বিএনপি নামে নতুন একটি রাজনৈতিক দলের ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল এ্যালায়েন্সের চেয়ারম্যান ও সাবেক বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা। তিনি নিজেই নতুন দলটির আহ্বায়ক। শুক্রবার সকালে রাজধানীর গুলশানে হোটেল ওয়েস্টিনে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি নতুন এ দলের নাম ঘোষণা করেন। নতুন রাজনৈতিক দল ঘোষণা করে তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি একটি ব্যর্থ দলে পরিণত হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তৃণমূল বিএনপির দলীয় প্রতীক চাইব ধানের ছড়া। আইনী জটিলতা তৈরি হলে আইনজীবী হিসেবে নিজেই লড়াই করে যাব। প্রয়োজনে হাইকোর্টে যাব। ধানের ছড়া না পেলে সোনালী আঁশ পাট দলীয় প্রতীক হিসেবে চাইবেন বলেও জানান তিনি। বিএনপির কেউ আপনার দলে যোগ দিচ্ছেন কি না জানাতে চাইলে তিনি বলেন, আমি নিজেই তো পুরনো বিএনপি নেতা। নতুন বোতলে পুরনো মদ এমনটা করে লাভ কী। যদি বিএনপির কেউ তৃণমূল বিএনপিতে আসতে চান তাহলে তাদের ওয়ার্ড পর্যায় থেকে সদস্য পদ নিয়ে শীর্ষ পর্যায়ে আসতে হবে। নেতা-নেত্রীর কারণে কোটি কোটি মানুষের সমর্থনপুষ্ট বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন হতে দেয়া যাবে না। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি ‘র’ ও ‘আইএসআই’র দালাল নই। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারের মদদে দল গঠন করিনি। যদি সরকার মদদ দিতে চায়, কেউ দলে আসতে চায় আসবে, দল বড় হবে।

নাজমুল হুদা বলেন, ৫ জানুয়ারি নির্বাচন বর্জন করায় বিএনপি এখন সরকারে কিংবা সংসদে নেই। আর হরতাল-অবরোধের মতো কঠিন কর্মসূচীতে ব্যর্থ হয়ে অনেকটা পরাজয়ের গ্লানি নিয়েই দলটি এখন নিষ্ক্রিয় ও নিশ্চিহ্ন প্রায়। তার ওপর বিএনপিকে অস্তিত্বহীন করতে একদলীয় শাসনে বিশ্বাসী শাসক দলের আগ্রাসী ভূমিকা তো রয়েছেই। মামলা, হামলা কোনটি থেকে দলের নেতাকর্মীরা রেহাই পাচ্ছে না। দলের নেতৃত্বে অরাজনৈতিক ব্যক্তিদের প্রভাব, সিদ্ধান্তহীনতা, দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ও বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচিত কমিটি গঠনে ব্যর্থ হয়ে দলটি আজ মুখ থুবড়ে পড়েছে।

নাজমুল হুদা বলেন, মাঠ পর্যায়ে বিএনপির এখন ত্রাহী অবস্থা। দল পরিচালিত হচ্ছে উত্তরাধিকার সূত্রে লন্ডন থেকে নির্দেশিত পথে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনীতিতে স্বজনবিরোধী কঠোর অবস্থান বিএনপিকে সম্পূর্ণভাবে শাসকগোষ্ঠীর আত্মীয়দের প্রভাবমুক্ত রেখেছিল। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, খালেদা জিয়ার রাজনীতি তার ঠিক বিপরীত। কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের ক্ষেত্রেই নয়, সরকারের মন্ত্রী গঠন এমনকি সেনাবাহিনী প্রধান নিয়োগেও খালেদা জিয়ার সিদ্ধান্তে নিকট আত্মীয়দের প্রচ- প্রভাব প্রতফলিত হতে দেখা গেছে। বিএনপির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে দলটির সঙ্গে ছিলাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাতীয় সমস্যা সমাধানে সংলাপের প্রশ্নে খালেদা জিয়াকে আল্টিমেটাম দিয়ে বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেছি।

নাজমুল হুদা বলেন, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপির ব্যর্থতার জন্য আমি দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব, প্রবাসী নেতৃত্ব, দলের স্থায়ী কমিটি এবং নির্বাহী কমিটিকে সরাসরি দায়ী করছি। তাদের কারোরই বিএনপির নেতৃত্বে থাকার নৈতিক অধিকার নেই। নেতৃত্ব পরিবর্তন ছাড়া বিএনপির ঘুরে দাঁড়ানোর কোন উপায় নেই। উপায় নেই উত্তরাধিকার সূত্রে প্রতিষ্ঠিত নেতৃত্ব পরিহারেরও। তিনি বলেন, বিএনপির নিবেদিত কর্মী হিসেবে দলটিকে নিশ্চিহ্ন হতে দিতে পারি না, দেয়া যাবে না। বিএনপির যাত্রা নতুন করে শুরু করতে হবে নতুন নামে এবং এ বিএনপিকে নেতৃত্ব দেবে তৃণমূল পর্যায়ের নির্বাচিত নেতারা। যারা দলের মাঠ পর্যায়ের ওয়ার্ড কাউন্সিলে নির্বাচিত হয়ে পর্যায়ক্রমে ইউনিয়ন, থানা, জেলা হয়ে সর্বোচ্চ জাতীয় কাউন্সিলে নির্বাচিত হয়ে জাতীয় নির্বাহী কমিটিতে নেতৃত্ব দেবেন।

নাজমুল হুদা বলেন, সারাদেশে ওয়ার্ড কাউন্সিলের মধ্য দিয়ে দল গঠন করা হবে। প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হবে ২০১৬ সালের ৩১ জানুয়ারি। একই বছরে জাতীয় নির্বাহী কমিটির প্রথম সভার মধ্য দিয়ে ১ অক্টোবর ২১ সদস্য বিশিষ্ট তৃণমূল বিএনপি গঠন করা হবে।

নাজমুল হুদা বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও জনপ্রশাসন সম্পূর্ণ দলীয়করণ মুক্ত, নির্বাচন কমিশন, সরকারী কর্মকমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন ইত্যাদি সম্পূর্ণ স্বাধীন থাকবে। একটি মানবাধিকার সম্মত সুশাসন প্রতিষ্ঠাই হবে তৃণমূল বিএনপির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। সুস্থ রাজনীতির ধারা বজায় রেখে রাজপথের উত্তপ্ত রাজনীতি থেকে জনগণকে রেহাই দিয়ে একটি অবাধ জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটানোই হচ্ছে তৃণমূল বিএনপির প্রয়াস।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা নাজিমউদ্দিন আল আজাদ, বাংলাদেশ পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি মোঃ জালাল উদ্দিন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের চেয়ারম্যান এ আর এম জাফরুল্লাহ চৌধুরী. লেবার পার্টির চেয়ারম্যান সেকান্দার আলী মনি প্রমুখ। এ ছাড়াও ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ান দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব ক্রিস্টিনা বয়কোও উপস্থিত ছিলেন।