১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শীতের সবজি বদলে দিয়েছে কৃষকের ভাগ্যের চাকা

শীতের সবজি বদলে দিয়েছে কৃষকের ভাগ্যের চাকা
  • শীতকালীন চাষাবাদ

শেখ আব্দুল আওয়াল

শীতকালীন সবজি চাষ বদলে দিয়েছে ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার ১৫ ইউনিয়নের সাড়ে ৯ হাজার কৃষকের ভাগ্য। চলতি মৌসুমে এ যাবত ১০ লাখ টাকার লাউ, বেগুন, ফুলকপি ও বাঁধাকপি বিক্রি করে তারা নিজেদের ভাগ্য বদলে হয়েছেন লাখপতি। এভাবে এক সময়ের প্রান্তিক কৃষকও এখন ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছেন। স্বপ্ন দেখছেন সুখের। আর গরিব কৃষকদের জীবনে এমনি সফলতা এনে দিয়েছে সরকারের কৃষিবান্ধব নানামুখী উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ।

উপজেলার চরআলগী, দত্তেরবাজার, টাঙ্গাব ও পাঁচবাগ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে লাউ, গোল ও লম্বা বেগুন, বাঁধাকপি ও ফুলকপি চাষ করে কৃষকরা বদলে ফেলেছে তাদের ভাগ্যের চাকা। এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় শীতকালীন লাউ, বেগুন ও কপির বাম্পার ফলন হয়েছে। ওই ১৫ ইউনিয়নে উৎপাদিত লাউ, বেগুন, কপি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রফতানি করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, সারাদেশে গফরগাঁওয়ের বেগুনের চাহিদা ও সুনাম দুটোই রয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, এবার ১১৯০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন শাকসবজি চাষাবাদ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি। এর মধ্যে শীতকালীন লাউ ২৪০ হেক্টর জমিতে, বেগুন ২৬০ হেক্টর জমিতে এবং কপি ১৯০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। আর বাদবাকি ৫শ’ হেক্টর জমিতে অন্যান্য শীতকালীন সবজির চায় হয়। উর্বর দোআঁশ মাটির প্রাচুর্যের কারণে উপজেলার চরআলগী, দত্তেরবাজার, টাঙ্গাব, রসূলপুর, সালটিয়া, গফরগাঁও ও পাঁচবাগ এই সাত ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ধানের চেয়ে রবিশস্য ও সবজি আবাদ বেশি হয়। বর্তমানে উপজেলার চরআলগী ইউনিয়নের নয়াপাড়া, চরমছলন্দ জিরাতিপাড়া, কাচারীপাড়া, নিধিয়ারচর ভাটিপাড়া, চরকামারিয়া, চরমছলন্দ উত্তর নয়াপাড়া ও চরআলগী গ্রামে; টাঙ্গাব ইউনিয়নের ব্রাহ্মণখালী, বাশিয়া ও টাঙ্গাব গ্রামে; পাঁচবাগ ইউনিয়নের চরশাঁখচূড়া, খুরশিদ মহল, গাভীশিমুল গ্রামে; গফরগাঁও ইউনিয়নের দুগাছিয়া, পাঁচপাই, তেতুঁলিয়া, উথুরী গ্রামে এবং দত্তেরবাজার ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্যাপকভাবে শীতকালীন লাউ, বেগুন, কপি উৎপাদিত হচ্ছে। রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের উপজেলার লাউ, বেগুন, কপি ব্যবসায়ীদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে এতদাঞ্চলের রবিশস্যের অন্যতম গোল ও লম্বা বেগুন, শীতকালীন লাউ ও কপি। কৃষক মাহবুল হোসেন ও আব্দুল জলিল বলেন, উপজেলার চরআলগী এ এলাকার সবজিভা-ার হলেও আমাদের গফরগাঁওয়ে কোন হিমাগার নেই। আমরা এ উপজেলায় একটি হিমাগার নির্মাণের জোর দাবি জানাচ্ছি। কৃষকরা জানান, প্রতি একর জমিতে বেগুন চাষ করতে খরচ পড়ে ৪৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা। এই ফলন বাজার দর অনুযায়ী প্রতি একর জমির বেগুন সাড়ে ৪ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করতে পারেন তারা। প্রতি একর জমিতে ২০ হাজার টাকা খরচ করে ১ লাখ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা যায়। চরমছলন্দ কুড়তলীপাড়া গ্রামের শীতকালীন লাউচাষী আব্দুল জলিল জানান, এবার তিনি এক একর জমিতে শীতকালীন লাউ চাষ করেছেন। এতে তার সাকুল্যে খরচ হয়েছে ২০ হাজার টাকা। এ পর্যন্ত তিনি ক্ষেত থেকে তুলে পাইকারের কাছে প্রায় ৬০ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করেছেন। একই গ্রামের মাহবুল হোসেন এবার দুই একর জমিতে লাউ চাষ করেছেন। তিনি লাউ বাজারে এনে খুচরা ও পাইকারদের কাছে বিক্রি করেছেন প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। আরও ১ থেকে দেড় লাখ টাকার লাউ বিক্রি করতে পারবেন বলে তিনি জানান।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, আশা করছি চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার সবজি বিক্রি করবেন কৃষকরা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিদ্ধার্থ শংকর কু-ু বলেন, কৃষকদের হিমাগার নির্মাণের দাবির বিষয়টি স্থানীয় এমপির সঙ্গে আলোচনা করে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলে জানানো হবে।