১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

প্রয়াণবার্ষিকীতে জননী সাহসিকাকে ছায়ানটের শ্রদ্ধাঞ্জলি

  • সংস্কৃতি সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ শুধু কবি হিসেবে আপন পরিচয়কে সীমাবদ্ধ রাখেননি সুফিয়া কামাল। সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি দেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে রেখেছেন অগ্রণীর ভূমিকা। জননী সাহসিকা কবি হিসেবে বলেছেন নারী জাগরণের কথা। একইভাবে সংস্কৃতিচর্চায় রেখেছেন অনন্য অবদান। সেই সূত্রে পালন করেছেন ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানটের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির দায়িত্ব। শুক্রবার এই মহীয়সী নারীর প্রয়াণবার্ষিকীতে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হলো শ্রদ্ধাঞ্জলি। হেমন্তের সন্ধ্যায় সুফিয়া কামালকে নিবেদিত স্মারক বক্তৃতা এবং একক ও সম্মেলক গানে স্নিগ্ধ হয়ে ধানম-ির ছায়ানট সংস্কৃতি ভবন মিলনায়তন। কবির প্রতি ভালবাসার বার্তায় মিলনাতনজুড়ে ভেসে বেড়ায় দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, রজনীকান্ত সেন ও অতুল প্রসাদ সেনের সুর।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই ছিল সুফিয়া কামালকে নিবেদিত সংক্ষিপ্ত বক্তৃতা পর্ব। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদক খায়রুল আনাম শাকিল। সুফিয়া কামাল স্মারক বক্তৃতা দেন আয়েশা খানম। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সংগঠনের সহ-সভাপতি ডা. সারওয়ার আলী।

সুফিয়া কামাল স্মারক বক্তৃতায বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম বলেন, নারীমুক্তি, গণতন্ত্র ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তি ছিলেন কবি বেগম সুফিয়াা কামাল। সুফিয়া কামাল যখন জন্মগ্রহণ করেন, তখন নারীশিক্ষা অনেকটা নিষিদ্ধ ছিল। তিনি নিজ উদ্যোগে নিজেকে শিক্ষিত করেছেন এবং নিজে শিক্ষিত হয়েই ক্ষান্ত হননি, পিছিয়ে পড়া নারী সমাজকে শিক্ষিত করে তোলার দায়িত্বও কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। নারীর অধিকার আদায়ের আন্দোলনকে এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে গড়ে তোলেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদসহ নানা সংগঠন। নারী অন্দোলনের সঙ্গে সুফিয়া কামালের যেন একটা আত্মিক যোগাযোগ ছিল জীবনের সূচনালগ্ন থেকে। তিনি আরও বলেন, সুফিয়া কামাল ছিলেন একাধারে কবি, নারী আন্দোলনের অগ্রণী নেত্রী, ধর্মান্ধতা ও অসাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে অকুতোভয় যোদ্ধা।

সঙ্গীতানুষ্ঠানের সূচনা হয় সম্মেলক পরিবেশনার মাধ্যমে। অনেক কণ্ঠ মিলে যায় এক সুরে। গীত হয়Ñ আপন কাজে অচল হলে চলবে না রে চলবে না/অলস স্তুতিগানে তাঁর আসন টলবে না রে টলবে না...। সম্মেলক পরিবেশনা শেষে একক কণ্ঠে গান শোনান সুমন চৌধুরী। পরিবেশিত গানটির শিরোনাম ছিলÑ ঐ মহাসিন্ধুর ওপার হতে কি সঙ্গীত ভেসে আসে, কে ডাকে কাতর প্রাণে, মধুর তানে...। তৃপ্তি খান পরিবেশন করেন ‘সে কেন দেখা দিলো রে’। অদিতি মহসিনের কণ্ঠে গীত হয় ‘আজি তোমার কাছে’। ‘আমি অকৃতি অধম’ শীর্ষক সঙ্গীত পরিবেশন করেন কল্পনা আনাম। এছাড়াও একক কণ্ঠে গান শোনান লাইসা আহমদ লিসা, কাঞ্চন মোস্তফা, নীলোৎপল সাধ্য, ফারহানা আক্তার শ্যার্লি, আজিজুর রহমান তুহিন ও ইফ্্ফাত আরা দেওয়ান। তাঁদের পরিবেশিত কয়েকটি গানের শিরোনাম ছিলÑ প্রেমে জলে হয়ে যাও গলে, তারে ধরবি কেমন করে ও আমি তো তোমায় চাহিনি। একক গানের মাঝে পরিবেশিত হয় আমরা এমনি এসে ভেসে যাই ও তুমি নির্মল করো শীর্ষক সম্মেলক গান। কবিগুরু রবীন্দ্র ঠাকুর রচিত জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনার মাধ্যমে শেষ হয় সুফিয়া কামাল স্মরণানুষ্ঠান।

শিল্পকলায় দুই দিনের বাউল উৎসব ॥ গানের সুরে সুরে মানবতার কথা বলেছেন ফকির লালন সাঁই। সুরের স্রোতে ঘুচিয়ে দিয়েছেন জাত-পাত ও ধর্মের বিভেদ রেখা। মানবতার বার্তাবহ সেই সব গানের সুর শুক্রবার ভেসে বেড়ালো শিল্পকলা একাডেমির উন্মুক্ত মঞ্চে। এখানে শুরু হলো দুই দিনব্যাপী বাউল উৎসব। ‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’ প্রতিপাদ্যে উৎসবের আয়োজন করেছে লালন রিসার্চ ফাউন্ডেশন।

উৎসবের উদ্বোধনী আয়োজনে অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন বাউল গবেষক অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল করিম, সাধক ফকির নহির শাহ ও বদরুল আলম। স্বাগত বক্তৃতা করেন উৎসব উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব জি এম জোয়ারদার। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি আবু ইসহাক হোসেন। আজ শনিবার শেষ হবে দুই দিনব্যাপী এই বাউল উৎসব।

কাহাল আন্তর্জাতিক আর্ট ফেয়ার ॥ বাংলাদেশ ও জাপানের চিত্রশিল্পীদের সমন্বয়ে গঠিত কাহাল আর্ট গ্রুপ ও শিল্পকলা একাডেমির যৌথ উদ্যোগে শুরু হলো সপ্তম আন্তর্জাতিক কাহাল আর্ট ফেয়ার। একাডেমির চিত্রশালায় অনুষ্ঠিত এই শিল্প-মেলার উদ্বোধন করা হয় শুক্রবার বিকেলে। জাতীয় সংসদের সংস্কৃতি বিষয়ক সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান সিমিন হোসেন রিমি প্রধান অতিথি হিসেবে আর্ট ফেয়ারের উদ্বোধন করেন। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন খ্যাতিমান শিল্পী অধ্যাপক সমরজিৎ রায় চৌধুরী ও ঢাকায় নিযুক্ত জাপান দূতাবাসের কাউন্সিলর মিৎশুতাকা নুমাহাতা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সম্মাননা প্রদান করা হয় জাপানের বিখ্যাত মৃৎশিল্পী কোওইচি তাকিতাকে। এই মহান মৃৎশিল্পীর হাত ধরেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের মৃৎশিল্প বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয়। এবারের প্রদর্শনীতে কোওইচি তাকিতারও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিল্পকর্ম প্রদর্শিত হচ্ছে।

২০১৫ সালের কাহাল আন্তর্জাতিক আর্ট ফেয়ারে এশিয়া মহাদেশের আট দেশের শিল্পীরা অংশগ্রহণ করছেন। অংশগ্রহণকারী দেশগুলো হলো- বাংলাদেশ, জাপান, ভারত, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, উত্তর কোরিয়া ও শ্রীলঙ্কা। জাতীয় চিত্রশালার ৩য় তলার গ্যালারিতে উপস্থাপিত হয়েছে ৩৫০ জন শিল্পীর ৫৫০টি শিল্পকর্ম ।

২৬ নবেম্বর পর্যন্ত চলবে এই প্রদর্শনী। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত আটটা এবং শুক্রবার বেলা ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

‘সেথায় এক পড়শী বসত করে’ ॥ শিল্পকল্প একাডেমি প্রাঙ্গণে চলছে সম্প্রীতি নাট্যোৎসব পর্ষদ আয়োজিত প্রথম আন্তর্জাতিক মৃত্তিকালগ্ন নাট্যোৎসব। শনিবার ছিল উৎসবের দ্বিতীয় দিন। এদিন সকালে উৎসবের অংশ হিসেবে একাডেমির সেমিনার কক্ষে ‘সেথায় এক পড়শী বসত করে’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশের সকল সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীকে পূর্ণাঙ্গ জাতিসত্তা পরিচয়ের স্বীকৃতি দেয়ার আহ্বকান জানানো হয়।

প্রবন্ধে বাংলাদেশের সকল সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীকে পূর্ণাঙ্গ জাতি পরিচয়ের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেয়ার প্রস্তাব করা হয়। বহুজাতিক বাংলাদেশের সকল জাতিসত্তার বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতিকে যাথাযথ পৃষ্টপোষকতা প্রদান করে তাদের সংস্কৃতির মূল ধারার পাশাপাশি বিকশিত করার উদ্যাগ নেয়ার আহবান জানানো হয়।

টিএসসিতে সঙ্গীতানুষ্ঠান ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ॥ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন এ্যালামনাই এসাসিয়েশনের উদ্যোগে শুক্রবার বিকেলে টি.এস.সি প্রাঙ্গণে পায়রা চত্বরে বিশ্বজুড়ে চলা অসহিষ্ণুতা, সংঘাত, সংঘর্ষ, যুদ্ধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ড. ডালেম চন্দ্র বর্মণ। প্রদর্শনীর উদ্বোধন শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহণে শান্তির পক্ষে গান ও কবিতা আবৃত্তি, যুদ্ধবিরোধী চলাচ্চত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।