২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে যুক্ত হচ্ছে ১৭ ইউনিয়ন

  • গণশুনানির নির্দেশ

তপন বিশ্বাস ॥ ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনেরই আয়তন বাড়ছে। সঙ্গে বাড়ছে জনসংখ্যাও। সিটি কর্পোরেশন দুটি সংলগ্ন ও আশপাশের ১৭টি ইউনিয়ন যুক্ত হচ্ছে এই সিটি কর্পোরেশনে। প্রধানমন্ত্রীর মৌখিক নির্দেশের পর গণশুনানির জন্য জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। গণশুনানির পর নতুন ম্যাপ তৈরি করে জেলা প্রশাসনের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে গেজেট জারি করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, জেলা প্রশাসনকে দ্রুত করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ থাকলেও গণশুনানিতে বেশ কিছুটা সময় লেগে যাবে। এ ক্ষেত্রে অনেকের দ্বিমত থাকবে। সৃষ্টি হবে নানাবিধ জটিলতা। জেলা প্রশাসন এ সকল জটিলতা নিরসন করে সুনির্দিষ্ট ম্যাপ তৈরি করে স্থানীয় সরকারের কাছে প্রস্তাব দেবে। এ প্রক্রিয়ায় কতদিন সময় লাগতে পারে সে বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এটি সম্পূর্ণ নির্ভর করছে জেলা প্রশাসনের ওপর। তারা যত তাড়াতাড়ি প্রস্তাব দেবে, ততো তাড়াতাড়ি এ সংক্রান্ত গেজেট জারি করা হবে। জেলা প্রশাসনের পজেটিভ প্রস্তাব আসলে মন্ত্রণালয় দুই/এক দিনের মধ্যে গেজেট জারি করবে। সিটি করপোরেশনে নতুন যুক্ত হওয়ার জন্য তালিকাভুক্ত ১৭টি ইউনিয়ন হচ্ছে সুলতানগঞ্জ, ডেমরা, দনিয়া, দক্ষিণগাঁও, উত্তরখান, দক্ষিণখান, নাসিরাবাদ, হরিরামপুর, ডুমনি, বাড্ডা, বেরাইদ, মাতুয়াইল, মা-া, ভাটারা, শ্যামপুর, সাঁতারকুল ও সারুলিয়া। দীর্ঘদিন ধরে এসব ইউনিয়নের বাসিন্দারা নগরের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করলেও কাগজে-কলমে গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। এ বিষয়ে স্থানীয় মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জনকণ্ঠকে বলেন, হরিরামপুর থেকে দনিয়া পর্যন্ত এলাকাটি ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনে অন্তর্ভুক্ত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে আমরা প্রধানমন্ত্রীর মৌখিক নির্দেশ পেয়েছি। সেই আলোকে জেলা প্রশাসনকে গণশুনানির নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এর আগে গত ৭ অক্টোবর সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও সাতটি ইউনিয়নকে সিটি কর্পোরেশনে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছিল। তবে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন অনুযায়ী স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ঢাকা জেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে ১৭টি ইউনিয়নকে সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত করার আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

এ ব্যাপারে নগর গবেষকদের বক্তব্য হলোÑওই ইউনিয়নগুলো রাজউকের কাছে শহুরে, বিবিএসের কাছে শহুরে, কিন্তু আসলে গ্রামীণ চরিত্র নিয়ে আছে। তাদের মতে, শহুরে আবহের ভেতর গ্রামীণ চরিত্রে থাকা মোটেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই সিটি কর্পোরেশন এটা নিয়ে নিতে পারে, অথবা আলাদা সিটি করপোরেশন বা পৌরসভা গঠন হতে পারে।

ঢাকা জেলা প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা জানান, সামগ্রিক ঢাকার আয়তন বাড়ানো নিয়ে বিভিন্ন রকম হিসাব-নিকাশ রয়েছে। পূর্বাচল ও ঝিলমিল সম্প্রসারিত ঢাকায় পড়বে কি না, সেই আলোচনা আছে। এগুলো নিয়ে রাজউকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা কাজ করছে। কিন্তু ঢাকা জেলা প্রশাসন এই মুহূর্তে ১৭টি ইউনিয়ন দুই সিটি কর্পোরেশনে অন্তর্ভুক্ত করার আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া চলছে। সরকারের শীর্ষ পর্যায় এটা চূড়ান্ত করবে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সংবিধানের ৫ অনুচ্ছেদে বলা আছে, প্রজাতন্ত্রের রাজধানী ঢাকার সীমানা আইনের দ্বারা নির্ধারিত হবে। তবে স্বাধীনতার ৪৪ বছরেও এমন কোন আইন হয়নি। ফলে নির্ধারণ করা যায়নি রাজধানীর সীমানাও। একেক সংস্থা একেকভাবে এর সীমানা ধরে নিচ্ছে। এতে রাজধানীকে নিয়ে পরিকল্পনা প্রণয়ন ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছেন নগর বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ আদমশুমারি বলছে, ঢাকার আয়তন ১ হাজার ৪৬০ বর্গকিলোমিটার। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) অধিভুক্ত ঢাকার আয়তন আবার ১ হাজার ৬৮৩ দশমিক ৫ বর্গকিলোমিটার। কিন্তু সিটি কর্পোরেশনের হিসাবে ঢাকা এখনও অনেক ছোট। কামরাঙ্গীরচরের কয়েকটি ইউনিয়ন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর দুই সিটি কর্পোরেশনের আয়তন দাঁড়িয়েছে ৩৮০ বর্গকিলোমিটার।

১৭টি ইউনিয়ন অন্তর্ভুক্ত হলে দুই সিটি কর্পোরেশনের আয়তন কতটা বাড়বে এবং কোন ইউনিয়ন কোন সিটি করপোরেশনের আওতায় পড়বে, তা এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত হয়নি। জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেন, এ নিয়ে কয়েকটি বিকল্প প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে, যা থেকে সরকার একটি চূড়ান্ত করবে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ওই সব ইউনিয়েনের বাসিন্দারা সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত হতে চায়। কিন্তু কিছুসংখ্যক জনপ্রতিনিধি এটা চায় না। তিনি বলেন, ঢাকার আশপাশে ইউনিয়ন পরিষদ হিসেবে এই বিশাল এলাকা থাকায় সেখানে ১০তলা ভবন হচ্ছে বা পরিকল্পনাহীন আবাসন হচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদের অনুমোদন নিয়ে। সেখানকার নাগরিকদের অনেকে শহরের সুবিধা পেলেও কর দিচ্ছেন না বা খুব কম কর দিচ্ছেন।

রাজধানী ও আশপাশের জেলার যানজট নিরসনে ১০ বছর আগে প্রণয়ন করা হয় কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা (এসটিপি)। এটি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে ঢাকা যানবাহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)।