২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আবার আক্রান্ত বিদেশী

পর পর তিন মাসে তিন বিদেশী নাগরিকের ওপর আক্রমণ হলো। এবার সুপরিকল্পিত এ সন্ত্রাসের শিকার হলেন ইতালীয় ডা. পিয়েরো পিচম। ঘটনাস্থল দিনাজপুর। বলা যায় ভাগ্যগুণেই বেঁচে গেছেন তিনি। সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলি তার মাথায় না লেগে কাঁধে লেগেছিল। তার উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য ঢাকায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পিচমের স্বদেশী সিজার তাভেলা সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত হন রাজধানীতে গত অক্টোবরে। এরপর নবেম্বরে একইভাবে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়ে রংপুরে নিহত হন জাপানের নাগরিক হোশি কুনিও। ইতালীয় মানবতাবাদী, মানবসেবক ফাদার ডাঃ পিয়েরো পিচম ৩০ বছর ধরে দিনাজপুরের সুইহারি ক্যাথলিক মিশন চার্চে কাজ করছেন। স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাঁওতালদের মধ্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করে আসছেন তিনি। মানবতার দিশারী এমন ব্যক্তিও শেষ পর্যন্ত হলেন বর্বর-দুর্বৃৃত্তদের হামলার শিকার!

অতিথিপরায়ণতার জন্য বাঙালীর সুনাম সুবিদিত। বিদেশী অতিথি হলে তো কথাই নেই। সাধারণ পর্যটক থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের কর্ণধার পর্যন্ত বাংলাদেশের মানুষের আন্তরিক আতিথেয়তার সুনাম করে গেছেন। এমন একটি দেশে পর পর তিন মাসে তিন তিনজন বিদেশী নাগরিককে হত্যার লক্ষ্যে তাদের ওপর হামলার ঘটনা উদ্বেগজনক। এতে সরকারের পাশাপাশি দেশের সাধারণ মানুষও মর্মাহত। অর্থনীতির সব সূচক যখন ভাল অবস্থানে রয়েছে, এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ; তখন একটা ইস্যু তৈরি করে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের সুনাম নষ্টের চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে একটি চিহ্নিত মহলÑ তা ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অপপ্রচার চালানো হচ্ছে যাতে বিদেশী নাগরিকদের মাঝে উদ্বেগ তৈরি হয় এবং বাংলাদেশ ভ্রমণে তারা বিরত থাকেন।

বাংলাদেশ জঙ্গী রাষ্ট্র নয়। এ দেশের সমাজ ব্যবস্থায় গোত্র বা সম্প্রদায়গত এমন বিভেদ অনুপস্থিত যা রক্তাক্ত অধ্যায়ের উদাহরণ সৃষ্টি করবে। তারপরও এই দেশটির ললাটে কারা এঁটে দিতে চায় জঙ্গী রাষ্ট্রের তকমা? বলাবাহুল্য, যারা মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতাকে ব্যর্থ করে দেয়ার প্রয়াসী, যারা দেশটির অগ্রযাত্রায় ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়ে, যারা চায় না যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ কালিমামুক্ত হোক; যারা চায় না দেশটিতে স্থিতিশীলতা বজায় থাকুকÑ সেই প্রতিক্রিয়াশীল, স্বাধীনতাবিরোধী, গণতন্ত্র নস্যাতকারী চক্রই আজ বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বিনষ্টে ব্যস্ত। এদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। এ কাজে তাদের সঙ্গে বাইরের কোন দেশ বা জঙ্গী সংগঠনের সম্পৃক্ততা রয়েছে কিনা, তাও অনুসন্ধান করে দেখা চাই।

বিদেশী নাগরিকদের নিরাপত্তা বাড়ানোর পরও ডাঃ পিচমের ওপর সন্ত্রাসী হামলা কিভাবে ঘটলÑ তা খতিয়ে দেখতে হবে। বিদেশী নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে আরও তৎপর হতে হবে। বিশেষ করে গোয়েন্দা সংস্থার আরও সক্রিয়তা জরুরী। এছাড়া নিরাপত্তা সংক্রান্ত নির্দেশনা মানার জন্য বিদেশী নাগরিকদের বিশেষ অনুরোধও জানাতে হবে। সাকা চৌধুরী-মুজাহিদ দুই যুদ্ধাপরাধীর দ- কার্যকরের পর সন্ত্রাসী চক্রটি আবারও মরণছোবল দিতে পারে। তাই বাড়তি সতর্কতা কাম্য। বিদেশীদের ওপর প্রতিটি আক্রমণের মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাতে হবে। ঢাকার বাইরে অবস্থানরত জনসম্পৃক্ত বিদেশী নাগরিকদের নিরাপত্তা বিধানে স্থানীয় নাগরিকদেরও ভূমিকা রাখার বিষয়টি ভেবে দেখতে হবে।