১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্রে ফারজানা ছবি

মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্রে ফারজানা ছবি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘বৈঠা’র শূটিং শেষ করেছেন অভিনেত্রী ফারজানা ছবি। চলচ্চিত্রটির গল্প রচনা করেছেন প্রসুন রহমান। পরিচালনা করেছেন যৌথভাবে রাজারাজ ও শাহাদাত সাহেব। এ প্রসঙ্গে ফারজানা ছবি বলেন, বহুদিন পর একটি প্রতিবাদী চরিত্রে অভিনয় করলাম। এতে আমার চরিত্রের নাম পারুল। এই চলচ্চিত্রটির আর দুটি প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন অভিনেতা মামুনুর রশিদ ও শতাব্দী ওয়াদুদ। চলচ্চিত্রের বিষয়বস্তু সম্পর্কে তিনি বলেন, স্বাধীনতার চেতনা এবং জীবনের টানাপড়েন, সেই সঙ্গে আবহমানকালের রুঢ় বাস্তবতার একটি খ- চিত্রের বিশ্লেষণাত্মক রূপ ফুটে উঠেছে এই গল্পে। গেন্দু মাঝি নদীতে খেয়া পারাপারের কাজ করেন ষাটের দশক থেকে। ৭১ এ বৈঠা হাতেই নেমেছিলেন যুদ্ধে। নদী তার জীবনকে দিয়েছে সময়ের সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা; সেই সঙ্গে দিয়েছে বেঁচে থাকার আশ্বাস। কালের বিবর্তনে নদীর ওপর তৈরি হয়েছে দীর্ঘ সেতু। যোগাযোগের এবং নদী পারাপারের মাধ্যম এখন সেই সেতু, সঙ্গত কারণেই গেন্দু মাঝির নৌকার আরোহী কমে শূন্যের কোঠায় গিয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু তাঁর জীবনের সঙ্গে এখন যে জড়িয়ে আছে আরো দুটি জীবনের গল্প; তার দুই মেয়ে পারুল এবং শিউলী। আবার শুরু হয় তার এক নতুন যুদ্ধ। এবারের যুদ্ধে সহযোদ্ধা তাঁর বিধবা কন্যা পারুল, যার জীবন নিয়ে গ্রামের লোকের মাঝে রয়েছে নানান সংশয়। দারিদ্র্যতার বিপক্ষে টিকে থাকার সমস্ত চেষ্টা শুরু করেন গেন্দু মাঝি। কখনও রিক্সা চালানো, কখনও ইটের ভাটায় কাজ, কখনও বা কারও গোমস্তা। কিন্তু সব ক’টি কর্মস্থলে কর্তৃত্বস্থানীয় জায়গায় রয়েছে ’৭১-এর স্বাধীনতা বিরোধীদের শক্তিশালী প্রভাব। একজন যোদ্ধা হয়ে ঘৃন্য এই নরপিশাচদের সঙ্গে সমঝোতা কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলেন না গেন্দু মাঝি। বাবার বিশ্বাস এবং জীবনবোধের এই বিপর্যস্ততা মানতে চায় না মেয়ে পারুল। দীর্ঘ অভাবময় জীবন কখনই পারুলের দৃঢ়তাকে ভাঙ্গতে পারেনি। কিন্তু বাবার পরাজয়ের সম্মুখীনতা আঘাত হানেপারুলের চেতনায় এবং জীবন ধারায়। অদৃশ্য এক দ্বন্দ্ব শুরু হয় জীবনের প্রয়োজন এবং মূল্যবোধের মাঝে। নীরব এক প্রতিবাদে সোচ্চার হয়ে ওঠে পারুল। অন্ধকার এক মধ্য রাতে স্বর্গীয় আলোর পথে শুরু হয় পারুলের অনির্দিষ্ট যাত্রা। ছবি আরও বলেন, অনেক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে মানিকগঞ্জের কালীগঙ্গা নদীর তীরে কড়ইতলায় এর শূটিং হয়েছে। বিজয় দিবসে এ চলচ্চিত্রটি একটি চ্যানেলে প্রচার হবে।