২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জঙ্গী তৎপরতা চালাতে সক্রিয় আরএসও ক্যাডাররা

  • রোহিঙ্গা আস্তানায় গভীর রাতে গোপন বৈঠক

এইচএম এরশাদ, কক্সবাজার ॥ শহরের জেল গেটের বিপরীতে সরকারী জায়গায় বসবাসকারী সন্ত্রাসী রোহিঙ্গাদের আস্তানায় গভীর রাতে আসা-যাওয়াকারী ওরা কারা? সিএনজি-ট্যাক্সিতে করে এসে সপ্তাহে কমপক্ষে একবার রাতের বেলায় গোপন বৈঠকে বসে ওরা। শহরের বাস টার্মিনাল থেকে কলাতলী মোড় পর্যন্ত নিষিদ্ধ সংগঠন আরএসও’র ক্যাডাররা জঙ্গী কার্যক্রম চালাতে পর্যটন শহরের কলাতলীতে একাধিক স্থাপনা গড়ে তুলছে। রোহিঙ্গা জঙ্গী মৌলভী আমান উল্লাহ নামে মিয়ানমার নাগরিকের নেতৃত্বে শহরের জেল গেটের বিপরীতে সরকারী জায়গায় সন্ত্রাসী রোহিঙ্গাদের অভয়ারণ্য গড়ে তোলা হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেসরকারী সংস্থায় চাকরিরত স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, বিচ্ছিন্নতাবাদী কিছু সন্ত্রাসী ও রোহিঙ্গা জঙ্গী রহমতপুর এলাকার পাহাড়ের পাদদেশে রাতে প্রায় সময় গোপন বৈঠকে বসে। সেখানে অচেনা একাধিক ব্যক্তিকে যাওয়া-আসা করতে দেখা গেছে। ইতোপূর্বে সরকারবিরোধী বিভিন্ন মিছিল মিটিং ও নাশকতায় অংশগ্রহণ করেছে রহমতপুর পাহাড়ে বসবাসকারী বেশিরভাগ রোহিঙ্গারা। সরকারের অনুমতি না নিয়ে মসজিদ, এতিমখানা ও মাদ্রাসা নির্মাণের নামে বনভূমি ও খাস জায়গা দখল করছে রোহিঙ্গারা। আরএসও, ওয়ামীসহ বিভিন্ন সংস্থার ব্যানারে রোহিঙ্গাদের মধ্যে প্রায় সময় নগদ টাকা, চাল-ডাল, গভীর নলকূপসহ কোরবানিতেও গরু বিতরণ করা হয়ে থাকে। সূত্র জানিয়েছে, কক্সবাজার শহরের কলাতলী পাল্স স্কুলের পেছনে রহমতপুর এলাকায় সরকারী জমিতে মিয়ানমার নাগরিক মৌলভী আমান উল্লাহর বাড়িতে রোহিঙ্গাদের গোপন বৈঠকের জন্য হলরুমও বানানো হয়েছে। বাইপাস সড়কে রাতের বেলায় জনসাধারণ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের যাতায়াত কিছুটা কম বলেই রোহিঙ্গা প্রথমসারির আরএসও নেতা জঙ্গী হাফেজ ছালাহুল, মৌলভী আবু ছালেহ, মৌলভী আনিস, আয়ুব গাজী, মোঃ ওয়াছের, মৌলভী শফিক ও হাফেজ জাবেরসহ বহু চিহ্নিত রোহিঙ্গা জঙ্গী ওই এলাকায় রাতে যাতায়াত করে থাকে বলে জানা গেছে।

সূত্র আরও জানায়, টেকনাফে রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প ত্যাগ করে আমান উল্লাহ আরএসও জঙ্গীগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়। পাশাপাশি নিজেকে টেকনাফের নাগরিক দাবি করে সদর উপজেলা ঈদগাঁও গজালিয়া পাহাড়ী এলাকায় বসতি গেঁড়ে জামায়াত নেতাদের সঙ্গে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়ে। ওই সময় মৌলভী আমান উল্লাহকে নিয়ে ঈদগাঁওয়ে বসবাসকারী রোহিঙ্গা জঙ্গী আয়ুব গাজী ও মোঃ ওয়াছের শক্তি সঞ্চার বৃদ্ধি করে। পরে জেলার বিভিন্ন স্থানে ঘাপটি মেরে থাকা জঙ্গীরা ট্রেনিংপ্রাপ্ত মৌলভী আমান উল্লাহকে জেল গেটের রহমতপুর এলাকায় নিয়ে আসে। সেখানে অসংখ্য রোহিঙ্গাদের অবৈধ বসতি স্থাপন করিয়ে দিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে রোহিঙ্গা পল্লী। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের চোখে ফাঁকি দিয়ে বেআইনী কর্মকা- চালিয়ে যাচ্ছে রোহিঙ্গা জঙ্গীরা। এসব রোহিঙ্গাদের অনৈতিক কর্মকা-ে স্থানীয় অধিবাসীরা আতঙ্কে রয়েছে বলে জানা গেছে। টেকনাফ ও উখিয়ার দুটি শরণার্থী ক্যাম্প ও অবৈধ বস্তিতে (স্থানীয় ভাষায় রোহিঙ্গার টাল) বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের অনেকে জানায়, পুরিক্যাদের (আরএসও) অনৈতিক কর্মকা-ের দায়ে সাধারণ রোহিঙ্গারা বদনামের ভাগি হচ্ছে বিভিন্ন স্থানে। অন্যায় করে আরএসও আর দুর্নাম রটে সকল রোহিঙ্গার। তারা আরও জানায়, নিজের দেশ মিয়ানমারেও ওই সব আরএসও ক্যাডারদের (তাদের ভাষায় পুরিক্যা) জন্য সে দেশের সরকার রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর অত্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে। রামুর বৌদ্ধবিহারে নারকীয় হামলা ঘটনায় আরাকান বিদ্রোহী গ্রুপ আরএসও’র সন্ত্রাসী রোহিঙ্গা জঙ্গীদের ধরপাকড়ে নিরীহ রোহিঙ্গা শরণার্থীরা বেজায় খুশি হয়েছিল। কেননা ওইসব বিদ্রোহী গ্রুপের জন্য মিয়ানমার সরকারের চাপের মুখে বহু সাধারণ রোহিঙ্গা পরিবারকে নিজ মাতৃভূমি মিয়ানমার রাজ্য ত্যাগ করে বাংলাদেশে শরণার্থী হয়ে আশ্রয় নিতে হয়েছে। একাধিক মৌলবাদী সশস্ত্র গ্রুপের সঙ্গে সখ্য থাকায় বেপরোয়া হয়ে উঠছে আরাকান বিদ্রোহী গ্রুপ আরএস ক্যাডাররা। সাধারণ রোহিঙ্গারা জানায়, বাংলাদেশে শরণার্থী হয়ে এসেও ওইসব আরএসও ক্যাডারদের জন্য শান্তিতে বসবাস করা যাচ্ছে না। তারা যেখানে ইচ্ছে শরণার্থী ক্যাম্প ও বস্তি থেকে রোহিঙ্গা যুবকদের ডেকে নিয়ে যায়।

তাদের ডাকে সাড়া না দিলে বিভিন্ন মুসিবত এসে পড়ে তাদের ওপর। তাই সাধারণ রোহিঙ্গারা আরএসও নামধারী জঙ্গীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের দাবি জানিয়েছে। এদিকে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ ও প্রত্যাবাসন আন্দোলন নিয়ে কাজ করা এমন কয়েক ব্যক্তি জানান, কতিপয় জনপ্রতিনিধির পৃষ্ঠপোষকতায় এসব জঙ্গীগোষ্ঠীর অনেকে এখন কক্সবাজারের বাসিন্দা বনে গেছে। জাতীয় পরিচয়পত্রও পেয়েছে অনেকে।