১৫ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কেশবপুরে রাতের আঁধারে সাবাড় হচ্ছে সরকারী গাছ

নিজস্ব সংবাদদাতা, কেশবপুর, ২০ নবেম্বর ॥ শ্রী নদীর তীরে বেড়িবাঁধের সরকারী বাবলা গাছ রাতের আঁধারে কেটে নেয়া হচ্ছে। চিহ্নিত প্রভাবশালী বাহিনী দীর্ঘদিন যাবত গাছ কেটে সাবাড় করলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় না। এলাকাবাসী ওই সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে ভয়ে টু শব্দটি পর্যন্ত করতে পারে না। কিছুকাল আগে পুলিশ কেটে নেয়া গাছ উদ্ধার করলেও তাদের বিরুদ্ধে কোন আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৫ বছর আগে গৌরিঘোনা ইউনিয়নের আগরহাটি, ভায়না, কাশিমপুর এলাকার পাশ দিয়ে প্রবাহিত শ্রী নদীর তীর দিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধের দু’পাশে সারিবদ্ধ বাবলা গাছ লাগানো হয়। যশোর-খুলনা পানি নিষ্কাশন ও পুনর্বাসন প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের নিয়ে গঠিত সমিতির লোকজনের জন্য এই বাবলা গাছ লাগানো হয়। গাছের একটি অংশ সরকার আর বাকি অংশ সুবিধাভোগীদের পাবার কথা। এলাকাবাসী জানিয়েছে, দু’তিন বছর আগেও বাঁধের দু’ধারে এত গাছ ছিল যে উপর দিয়ে কোন যানবাহন চলাচলা করলে দূর থেকে তা দেখা যেত না। গৌরিঘোনা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সিদ্দিকুর রহমান জানান, আমি চেয়ারম্যান থাকাকালে বন বিভাগ এই গাছ লাগায়। প্রতিটি গাছের মূল্য ১০/১৫ হাজার টাকা। ওই এলাকায় সুবিধাভোগীদের নিয়ে গঠিত সমিতির এখন কোন কার্যক্রম নেই। গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এলাকার সাংসদ হুইপ আব্দুল ওহাবের তৈরি করা ইদ্রিস বাহিনী রাতের অন্ধকারে সব গাছ কেটে নিয়েছে। হাতে গোনা দু’একটি গাছ রয়েছে। পুলিশ তিন মাস আগেও কেটে নেয়া গাছ জব্দ করে থানায় নিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু আস্তে আস্তে সব ভস্ম হয়ে গেছে। যারা গাছ কেটেছে তাদের কিছুই হয়নি। আগরহাটি থেকে কাশিমপুর পর্যন্ত গিয়ে দেখা যায়, বেড়িবাঁধের দু’পাশ থেকে করাত দিয়ে মাটির গা থেকে গাছ কেটে নেয়া হয়েছে। সারি সারি গাছের ভেতর থেকে কেটে নেয়া গাছের গোড়া দেখা যাচ্ছে। কোন কোন জায়গায় পরপর ২/৩ টা গাছ কাটা হয়েছে। কোন কোন জায়গায় ১/২ শ’ হাত গাছ কেটে নেয়ায় ফাঁকা হয়ে গেছে। কোন জায়গায় বাঁধের এক পাশে দুই একটি গাছ থাকলে অপর পাশে কোন গাছ নেই। এলাকার অনেকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা ভয়ে কারো নাম বলতে চায় না। এলাকাবাসী জানিয়েছে, ৩/৪ বছর ধরে এভাবে গাছ কাটা হচ্ছে। ভেরচি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এ এস আই জাকির হোসেন বলেন, গত আগস্টে খবর পেয়ে কাশিমপুর থেকে ৬ পিস কাঠসহ আলমসাধু গাড়ি উদ্ধার করে কেশবপুর থানার ওসির কাছে জমা দেয়। কাঠের সাথে কোন লোক পাইনি।