২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পাউবোর শত কোটি টাকার সম্পত্তি ফ্রি স্টাইলে দখল

  • কুয়াকাটার বেড়িবাঁধের ভেতরে এ জমির অবস্থান

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলাপাড়া, ২০ নবেম্বর ॥ দুই বছর আগেও তালগাছটির সঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাইনবোর্ড লাগানো ছিল। যেখানে লেখা ছিলÑ পানি উন্নয়ন বোর্ড অধিগ্রহণকৃত সরকারী সম্পত্তি। মৌজার নাম লতাচাপলী। জে এল নং ৩৪। খতিয়ান নং ১ ও ১২২৭। দাগ নম্বর ৫১৭৮। জমির পরিমাণ ১২ একর ৯৬ শতক। অথচ এখন তালগাছটি দাঁড়িয়ে আছে। সাইনবোর্ড উধাও। জমির চারদিকসহ ভেতরে তোলা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা। দেয়া হচ্ছে দেয়াল। স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েকদিন পরে তালগাছও কেটে ফেলা হবে। কুয়াকাটার প্রাণকেন্দ্রে শূন্য পয়েন্টের পশ্চিম দিকে বেড়িবাঁধের ভেতরে এ জমির অবস্থান। এক শতক জমির দাম কমপক্ষে দশ লাখ টাকা। সেখানে প্রায় ১৩ একর জমির মালিকানার সাইনবোর্ড উধাও হয়ে গেল। বছরের পর বছর গড়িয়ে গেছে, কারও কোন মাথাব্যথা নেই। একই দৃশ্য কুয়াকাটা শূন্য পয়েন্টের পুবদিকের। মূল খতিয়ান ৬৬২ থাকলেও ১২০৩ নম্বর একটি ভুয়া খতিয়ান খুলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রায় দুই একর জমি দিঘিসহ ভরাট করে দখল করে নিয়েছে। একই দৃশ্য খাজুরা এলাকায় বেড়িবাঁধের স্লোপসহ মাইলের পর মাইল এলাকা কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে দখল করা হয়েছে। মহিপুরে অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে প্রায় ছয় একর জমি। ফাঁসিপাড়া স্লুইস সংলগ্ন আশপাশের প্রায় তিন একর জমি জবরদখল করে সেখানে স্থাপনা তুলেছে কয়েকটি মহল। একটি হাউজিং কোম্পানি দখল করেছে পাউবোর প্রায় ৭৫ শতক জমি। এভাবে কুয়াকাটা পর্যটন এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের শত শত কোটি টাকার সম্পতি দেদার দখল করা হয়েছে। এমনকি বন্যানিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধের স্লোপসহ অধিগ্রহণ করা জমিতে গড়ে তোলা হয়েছে হোটেল। স্কাই প্যালেস নামের একটি হোটেল নির্মাণে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব জমির সরকারী খাজনা পর্যন্ত প্রতি বছর পাউবো পরিশোধ করে আসছে। অথচ সরকারের এ সম্পত্তি রক্ষায় কার্যকর কোন ভূমিকা নেই। উল্টো মাছচাষসহ নানা অজুহাতে একসনা থেকে তিন/চার বছরের ইজারা নিয়ে সেখানে তোলা হচ্ছে বহুতল স্থাপনা। খোদ কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্বাহী প্রকৌশলী অফিসের পেছনে তোলা হয়েছে পাকা স্থাপনা। এসব কারণে পানি উন্নয়ন বোর্ডের শত কোটি টাকার সম্পত্তি স্থায়ীভাবে বেহাত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে বহু জায়গায় বহুতল স্থাপনা তোলা হয়েছে। অভিজ্ঞ মহলের অভিমত এই মুহূর্তে পরিকল্পিতভাবে পর্যটন এলাকার উন্নয়নে এসব জমি উদ্ধার করা প্রয়োজন। পানি উন্নয়ন বোর্ড কলাপাড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়ের জানান, কলাপাড়া নতুন ডিভিশন হওয়ায় ল্যান্ড একুইজিশনের কাগজপত্র পূর্ণাঙ্গভাবে ছিল না। এখন পর্যাপ্ত কাগজপত্র সংগ্রহ করে পর্যটন এলাকার স্বার্থসহ দুর্যোগের ঝুঁকি থেকে সম্পদ ও মানুষকে রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধিগ্রহণ করা জমি উদ্ধার করা হবে। রক্ষা করা হবে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ।