২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কক্সবাজারে পাহাড় কেটে আবাসন-সড়ক

  • জড়িতদের বিরুদ্ধে দুই মামলা

স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার ॥ উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে নির্বিচারে পাহাড় কেটে অবৈধভাবে ‘বিএনপি পল্লী’ নামে আবাসন প্রকল্প তৈরি ও বেসরকারী সংস্থা ব্র্যাক কর্তৃক পাহাড় কেটে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগে ৪১ জনের বিরুদ্ধে পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করেছে কক্সবাজারে পরিবেশ অধিদফতর। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাদী হয়ে পরিবেশ অধিদফতর কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সরদার শরিফুল ইসলাম ও পরিদর্শক জাহানারা ইয়াসমিন কক্সবাজার সদর মডেল থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন।

থানায় দায়েরকৃত এজাহারে বলা হয়েছে, কক্সবাজার শহরের ঝিলংজা মৌজার ২০৩০৪ দাগে কলাতলীর হোটেল-মোটেল জোনের পূর্ব পাশে সুউচ্চ বিশাল আকৃতির পাহাড় কেটে দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র আবাসন প্রকল্প তৈরির কাজ করছিল। স্থানীয় পরিবেশবাদীদের বাধার মুখে গত বছর তা কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদফতর যৌথ অভিযান চালিয়ে পাহাড় কাটা বন্ধ করে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে। ওই সময় কর্তব্যরত ম্যাজিস্ট্রেট পাহাড় কাটার অভিযোগে আবাসন প্রকল্পে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার জন্য মৌখিক নির্দেশ দেন। কিন্তু গত এক বছরেও কোন মামলা দায়ের হয়নি। ফলে পাহাড় খেকোরা দ্বিগুণ উৎসাহে ফের পাহাড় কাটার মহোৎসবে মেতে ওঠে। গত এক সপ্তাহ ধরে সেখানে সু-উচ্চ পাহাড়ের বুক চিরে রাস্তা তৈরির কাজ অব্যাহত রাখে। প্রায় পাঁচ একরের মত পাহাড় দখল করে তা কেটে অবৈধভাবে প্লট তৈরি করে ইতোমধ্যেই বেশ কিছু প্লট বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়েও নিয়েছে পাহাড়খেকোরা। ইতোপূর্বে উচ্ছেদকৃত অর্ধশত অবৈধ স্থাপনা ফের গড়ে তোলা ও অবৈধভাবে নেয়া বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলেও তা আবারও লাগানো হয়। দখলদাররা অধিকাংশই বিএনপি’র রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকায় তা ‘বিএনপি পল্লী’ হিসেবে এলাকায় পরিচিতি পেয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।

এসব অভিযোগের ভিত্তিতে পরিবেশ অধিদফতর কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সরদার শরিফুল ইসলাম ও পরিদর্শক জাহানারা ইয়াসমিন বাদী হয়ে পৃথক দু’টি মামলায় ২১ জনের নাম উল্লেখ করে ৪১ জনের বিরুদ্ধে বৃস্পতিবার মামলা দায়ের করেন। মামলায় আসামিরা হলেন, আমির হোছন মাস্টার, আহমদ মিয়া, কামরুল, নাছির, জসিম, বাবুল, কামাল, শামশু, শহীদ, জয়নাল আবেদিন, রহমত আলী, ফনী বাবু, ভুট্টো, জাফর আলম, ফরিদ আলম, মিনা, মোশাররফ, জাফর আলম ও সুলতান আহমদ।

এদিকে প্রায় এক বছর আগে কক্সবাজার শহরের কলাতলী বাইপাস সড়কের দক্ষিণ পাশে উত্তরণ হাউজিংয়ের পশ্চিম পাশে বেসরকারী সংস্থা ব্র্যাক পাহাড় কেটে রাস্তা ও ট্রেনিং সেন্টার নির্মাণের কাজ শুরু করে। পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে স্থানীয় পরিবেশবাদীদের বাধার মুখে পরিবেশ অধিদফতর পাহাড় কাটা বন্ধ করে দেয়। কিন্তু গত ১০-১৫ দিন ধরে প্রকাশ্যে দিনে-রাতে শ্রমিক দিয়ে পাহাড় কেটে রাস্তা ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজ চালিয়ে যায় ব্র্যাক। এ ঘটনায় জড়িত ব্র্যাকের স্থানীয় কর্মকর্তা অজিত নন্দী ও ফরহাদের নাম উল্লেখ করে ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। পরিবেশ অধিদফতর কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সরদার শরিফুল ইসলাম বলেন, আসামীরা বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) এর ৬খ ধারা লংঘন করে দ-নীয় অপরাধ করেছেন।

তিনি বলেন একদিকে সাগর অপরদিকে সুউচ্চ পাহাড় দেখিয়ে দেশী-বিদেশী পর্যটকদের কক্সবাজারে আকৃষ্ট করার প্রাণপন চেষ্টা করছে সরকার। কিন্তু আবাসন প্রকল্প তৈরীর নামে কক্সবাজার শহরের কলাতলীর হোটেল-মোটেল জোনের পূর্ব পাশের নয়নাভিরাম পাহাড় কাটায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।