২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এগিয়ে গিয়েও দুর্ভাগ্যের হার বাংলাদেশের!

  • বাংলাদেশ ২ : ৩ হানথারওয়াদি ইউনাইটেড এফসি (মিয়ানমার)

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ বিদ্যা অর্জনের জন্য যেমন সুদূর চীনে যাওয়া যায়, তেমনি ফুটবলীয় অভিজ্ঞতা-প্রস্তুতির জন্যও চীনে যাওয়া যায়। বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের পরবর্তী মিশন ডিসেম্বরে ভারতের কেরালায় অনুষ্ঠেয় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। তারা চীনের ইউনান প্রদেশে ‘ইউনান আসফান আন্তর্জাতিক ফুটবল ওপেন টুর্নামেন্ট’-এ অংশ নিয়েছে। তবে নিজেদের প্রথম ম্যাচে প্রত্যাশিত শুভসূচনা করতে পারেনি ‘বেঙ্গল টাইগার্স’রা। হেরে গেছে মায়ানমারের হানথারওয়াদি ইউনাইটেড এফসির কাছে ৩-২ গোলে। এই হারটি মামুনুলদের জন্য অনেক আক্ষেপের, কেননা ম্যাচে দু-দু’বার গোল করে এগিয়ে গেলেও খেলা শেষ হবার ১০ মিনিট আগে তৃতীয় গোলটি হজম করে পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ পেতে হয় তাদের!

বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় বাংলাদেশ দল মাংশিতে পৌঁছে। সাড়ে ৯টায় গ্রুপিং ড্র এবং ফিক্সার অনুষ্ঠানের পর দলকে জানানো হয় শুক্রবার সকাল ১০টায় বাংলাদেশের ম্যাচ এবং সকাল ৮টায় স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। ফলে ম্যাচের জন্য প্রস্তুতই ছিলেন না মামুনুলরা। তাই কোনও প্রস্তুতি ছাড়াই এ ম্যাচটি খেলতে হয়েছে তাদের। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে যে একাদশ খেলিয়েছিলেন, তাদেরই মাঠে নামান লোপেজ। প্রথম ১৫ মিনিট বল নিজেদের দখলেই রেখেছেন মামুনুলরা। মায়ানমার কিছুটা রক্ষণাত্মক খেলতে থাকে শুরুর দিকে। তবে শেষ পর্যন্ত মায়ানমারের রক্ষণ ভাঙ্গতে সক্ষম হয় বাংলাদেশের আক্রমণভাগ। খেলার ৩৫ মিনিটে ডিফেন্ডার রায়হান হাসানের লম্বা থ্রো-ইনে ফ্লিক করে দলকে এগিয়ে দেন ফরোয়ার্ড নাবিব নেওয়াজ জীবন। প্রথমার্ধের শেষ মিনিটে গোলরক্ষক সোহেল একটি ব্যাকপাস ধরতে ভুল করলে অং মে টিয়া সমতা আনেন। ৫৬ মিনিটে অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম আবারো দলকে এগিয়ে দেন। পরের মিনিটেই কাউন্টার এ্যাটাকে যায় মায়ানমার। ৭১ মিনিটে আবারও মায়নমারের ক্লাবটির পক্ষে সমতা আনেন অং অং দো। ৮০ মিনিটে থিহা অং করেন জয়সূচক গোলটি।

৭০ ও ৭৫ মিনিটে মাশুক মিয়া জনি ও ফরোয়ার্ড আমিনুর রহমান সজীব মাঠে নামেন যথাক্রমে জামাল ভুঁইয়া ও ডিফেন্ডার রায়হান হাসানের বদলি হিসেবে। শেষদিকে তাই বাংলাদেশের ডিফেন্স হয়ে পড়ে দুর্বল। বাংলাদেশ তাদের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলবে রবিবার চীনের লিজান ফুটবল দলের বিরুদ্ধে। বাংলাদেশে আছে গ্রুপ ‘এফ’-এ। মায়ানমারের ক্লাবটি ছাড়াও তাদের সঙ্গে আছে চীনের হেবেই এবং লিজান ক্লাব। উল্লেখ্য, সাফ ফুটবলের প্রস্তুতি হিসেবে এই টুর্নামেন্টে খেলতে চীনে গেছে বাংলাদেশ দল। চীনের ইউনান প্রদেশে অনুষ্ঠিতব্য এই টুর্নামেন্টটি শেষ হবে ৩০ নবেম্বর। এই আসরে অংশ নিচ্ছে ৯ দেশের ১১ দল। টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন, রানার্সআপ, তৃতীয় ও চতুর্থ স্থান অধিকারী দলগুলো প্রাইজমানি হিসেবে পাবে যথাক্রমে দেড় লাখ, এক লাখ, ৮০ হাজার এবং ৫০ হাজার ইউয়ান (চীনা মুদ্রা)। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ দল চীনে গিয়ে ভাষাগত সমস্যায় পড়েছে। সেখানকার কেউই ইংরেজি জানে না। কেবল ‘বডি ল্যাঙ্গুয়েজ’ দিয়েই কোনমতে কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হচ্ছে বাংলাদেশ দলকে।

এই টুর্নামেন্টে অন্তত সেমিফাইনালে খেলার অভিপ্রায় নিয়ে দেশ ছেড়েছে বাংলাদেশ জাতীয় দল। কিন্তু সেই লক্ষ্যে শুরুতেই খেতে হয়েছে ধাক্কা! এখন দেখার বিষয় পরের ম্যাচে চীনের ক্লাবটিকে হারিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয় কি না ‘বেঙ্গল টাইগার্স’ দল।