২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দীর্ঘদিনেও সিলেটে চালু হয়নি টাউন বাস সার্ভিস

সালাম মশরুর সিলেট অফিস ॥ দীর্ঘদিনেও নগরবাসীর টাউন বাস সার্ভিস চালুর দাবি পূরণ হয়নি। প্রাথমিকভাবে ২০০৮ সালে ‘টাউন বাস সার্ভিস’ চালু হলেও পূর্ণাঙ্গ রূপ লাভের পূর্বেই নানান অনিয়ম অব্যবস্থার কারণে ভেস্তে যেতে বসেছে নাগরিক সুবিধার সেই ক্ষুদ্র ব্যবস্থাটিও। যাতায়াত ক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে। নগরীর অভ্যন্তরীণ সড়কে রিক্সা, অটোরিক্সার ভাড়ার নির্ধারিত কোন তালিকা নেই। সিটি কর্পোরেশন এলাকায় অনিয়ন্ত্রিতভাবে চলছে রিক্সা ও সিএনজি অটোরিক্সা। মনগড়া নিয়মে ভাড়া আদায়ের ফলে যাত্রীদের বিড়ম্বনার শেষ নেই। ভাড়া নিয়ে যাত্রী চালকের মধ্যে বচসা লেগেই আছে। রিক্সা, অটোরিক্সা চালকদের কাছে জিম্মি হয়ে আছেন নগরবাসী। নগরীর কোট পয়েন্ট থেকে তালতলা -শেখঘাট- লামাবাজার রিকাবীবাজার-মেডিক্যাল বাগবাড়ী হয়ে টুকেরবাজার এবং কোট পয়েন্ট থেকে চৌহাট্টা-আম্বরখানা হয়ে টুকেরবাজার। কোট পয়েন্ট থেকে মালনীচড়া ও কোট পয়েন্ট থেকে শাহী ঈদগাহ হয়ে বালুচর এবং কোট পয়েন্ট থেকে মিরাবাজার- শিবগঞ্জ হয়ে শাহপরাণ। কোট পয়েন্ট থেকে দক্ষিণ সুরমার বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতের জন্য টাউন বাস সার্ভিস অত্যন্ত জরুরী। সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এসব রোডে লোকজনের যাতায়াত অব্যাহত থাকে। অফিস আদালত ব্যবসা বাণিজ্যসহ নানান কাজে শহরে চলাফেরার জন্য এখন সবাইকে রিক্সা, অটোরিক্সা ব্যবহার করতে হয়।

জানা যায়, সিলেট নগরীতে গণপরিবহন না থাকায় ওয়ান ইলেভেন সরকারের আমলে ২০০৮ সালের ২৬ মার্চ চালু হয় ‘টাউন বাস সার্ভিস’। ছোট আকারের ৩৫টি বাস নিয়ে বেসরকারী উদ্যোগে এ সেবা চালু হয়। যানবাহন সঙ্কট ও ভাড়া অপেক্ষাকৃত কম থাকায় যাত্রা শুরুর পরপরই নগরবাসীর কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠে টাউন বাস সার্ভিস। বিশেষত নিম্নবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণীর নাগরিকদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে প্রথম পছন্দ হয়ে উঠে এ বাসগুলো। নগরীর ভেতরে পর্যায়ক্রমে এই বাস সার্ভিস চালুর উদ্দেশ্য সামনে রেখে শহর-শহরতলীর কয়েকটি সড়কে প্রথমে যাতায়াত শুরু করে। নগরীর ১০টি রুটে প্রথমে যাত্রা শুরু হয়। এই টাউন বাসগুলোই ছিল নগরবাসীর একমাত্র গণপরিবহন। সম্প্রসারিত হওয়ার পরিবর্তে অনিয়ম অব্যবস্থার কারণে ব্যাপক চাহিদা সত্ত্বেও যাত্রা শুরুর মাত্র ৬ বছরের মাথায় টাউন বাস সার্ভিস বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। আর গণপরিবহনের সঙ্কটে নগরবাসীকে পোহাতে হচ্ছে দুর্ভোগ। ৩৫টি বাস নিয়ে প্রথমে যাত্রা শুরু হলেও এখনও চলাচল করছে মাত্র ১৯টি। তাও সবগুলোই ভাঙ্গাচোরা। যাত্রা শুরুতে চলাচল করত নগরীর ১০টি রুটে। এখনও সঙ্কুচিত হয়ে মাত্র দুটি রুটে চলাচল করছে।

যাত্রীদের অভিযোগ, শুরুতেই যাত্রীরা হুমড়ি খেয়ে পড়ায় টাউন বাস মালিকরা সেবার দিকে উদাসীন হয়ে পড়েন। এতে যত্রতত্র ব্যবহারের ফলে সেবার মান দিন দিন নিম্নগামী হতে থাকে। এছাড়া ভাঙ্গাচোরা বাস, ধারাবাহিকভাবে ভাড়া বাড়িয়ে চলা ও গন্তব্যে পৌঁছতে অপেক্ষাকৃত বেশি সময় লাগার কারণে যাত্রীরা টাউন বাস থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।

আর টাউস বাস মালিক সমিতির অভিযোগ, নগরীতে বাসের জন্য পার্কিং প্লেস ও যাত্রী উঠানামার জন্য যাত্রী ছাউনি না থাকা, যানজটের কারণে নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছতে না পারাসহ নানা কারণে দিন দিন যাত্রী কমতে থাকে। ফলে লোকসানে পড়তে হয় টাউন বাসের ব্যবসায়ীদের। তাই ব্যবসা অনেকটাই গুটিয়ে নিতে হচ্ছে তাদের। ফলে ৩৫টি বাস নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও ছয় বছর পর বাস বাড়ানোর বদলে বরং ১৬টি বাস উঠিয়ে নেয়া হয়েছে। এই বাসগুলো এখন আন্তঃজেলা সড়কে চলাচল করছে। আর যাত্রার শুরুতে নগরীর বন্দরবাজার থেকে জালালপুর, হেতিমগঞ্জ, হাজীগঞ্জ, বটেশ্বর, টুকেরবাজার, এয়ারপোর্ট, লালাবাজার, কামালবাজার, বোরহান উদ্দিন সড়ক, মেডিক্যাল সড়ক- এই দশটি সড়কে চলাচল করলেও এখন সঙ্কুচিত হয়ে বন্দরবাজার থেকে মোগলাবাজার ও হেতিমগঞ্জ এই দুটি সড়কে চলাচল করছে টাউন বাস। এদিকে গণপরিবহন ক্ষেত্রে অব্যবস্থার কারণে যাত্রীদের বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে রিক্সা অটোরিক্সা ও ঝুঁকিপূর্ণ টমটমে চলাচল করতে হচ্ছে।

মোগলবাজারের বাসিন্দা কাপড় ব্যবসায়ী সিরাজ বলেন, আগে টাউন বাসে করে মোগলাবাজার থেকে বন্দরবাজার যেতে ভাড়া ছিল ৬ টাকা। এখন ভাড়া ১৫ টাকা হয়ে গেছে। ভাড়া বাড়লেও সেবার মান একেবারে তলানীতে। পুরনো বাসগুলো ভাঙ্গাচোরা হয়ে পড়েছে। পথের মাঝখানে থেমে যায়। সিটগুলো বসার অনুপোযোগী। এগুলো সংস্কারও করা হচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়েই যাত্রীদের বেশি ভাড়া দিয়ে অটোরিক্সায় যাতায়াত করতে হচ্ছে।

এ ব্যাপারে সিলেট টাউন বাস মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ বলেন, আমাদের ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও যথেষ্ট সুযোগ সুবিধা না থাকার কারণে আমরা লোকসানের কবলে পড়ায় ব্যবসা গুটিয়ে নিতে হচ্ছে। নগরীর বিভিন্ন রুট থেকে বাস উঠিয়ে নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, নগরীর সড়কগুলোতে যাত্রী উঠানামার জন্য যাত্রী ছাউনি না থাকা ও পার্কিংয়ের ব্যবস্থা না থাকায় টাউন বাসগুলো সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এছাড়া যানজটের কারণেও নির্ধরিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছতে পারছে না। ফলে যাত্রীরা রুষ্ট হচ্ছেন। সিলেট নগরীতে গণপরিবহন সার্ভিস চালু প্রসঙ্গে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান বলেন, নাগরিকদের সেবার কথা বিবেচনা করে সিটি কর্পোরেশন ও নিটোল টাটার উদ্যোগে নগরীতে ১শ’টি বাস চালুর ব্যাপারে আলোচনা চলছে। তবে এটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।