২০ নভেম্বর ২০১৫

জৌলুস হারাচ্ছে রাজশাহীর পদ্মাতীরের লালন শাহ পার্ক

মামুন-অর-রশিদ, রাজশাহী ॥ পদ্মা নদীর চারপাশে এখনও সিটি কর্পোরেশনের সীমানা খুঁটি। ইজারা দিয়ে রাজশাহীর পদ্মা নদীর পাড়ে অবস্থিত লালন শাহ পার্কটি দর্শনার্থীদের জন্য মূল্য নির্ধারণের চেষ্টা জনরোষে ব্যর্থ হলেও এখনও লোহার খুঁটিতে আবদ্ধ রয়েছে। ফলে যৌলুস হারিয়ে ফেলেছে পার্কটি।

রাজশাহীর পদ্মা নদীর কূলঘেঁষে চারদিকে সবুজ গাছপালার সমারোহ। চকচকে রঙিন টাইলসের ওপর সূর্যের তীর্যক আলোকছটা। ওপর থেকে নেমে যাওয়া আঁকা-বাঁকা সিঁড়ি আর সুপরিসর পাকা লেন। এসবই লালন শাহ পার্কের আকর্ষণ। কিন্তু প্রতিষ্ঠার পর অবহেলা আর অযতেœ মাত্র দুই বছরের মধ্যেই জৌলুস হারিয়েছে পদ্মাপাড়ে চিত্ত বিনোদনের এই পার্কটি।

সরেজমিন মহানগরীর পাঠানপাড়ায় পদ্মা নদীর পাড়ে নির্মিত লালন শাহ পার্কে গিয়ে চোখে পড়ে বেহাল চিত্র। পার্কটিকে ঘিরে বিনোদন ছাড়াও নদী তীরের নান্দনিক সৌন্দর্য বাড়ানোর যে নিরন্তর চেষ্টা ছিল তা ম্নান হতে বসেছে। পার্কের প্রবেশ মুখ দিয়ে নামতেই দেখা গেল সিঁড়ির ওপর বসানো সিমেন্টের সøাবগুলোর প্রায় অর্ধেকই খুলে নিয়ে গেছে। খুলে নিয়ে গেছে বসার জন্য তৈরি করা বেঞ্চের টাইলস। ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে স্থাপনার বিভিন্ন অংশ। মুক্তমঞ্চে টাইলসের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নকশাগুলোও খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে তুলে ফেলা হয়েছে।

সীমানা তৈরির লোহার খুঁটিগুলো এখন ব্যবহার হচ্ছে আশপাশের বাড়ির কাপড় শোকানোর কাজে। কতটা অবহেলায় পড়ে আছে ২ কোটি ৬৪ লাখ টাকার এ নয়নাভিরাম পার্কটি তা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা দায়। হালে পার্কটি লিজ দেয়ার সিদ্ধান্তের পর প্রতিবাদের ঝড় ওঠায় টনক নড়ে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের। তবে এখন চলছে বেষ্টনী তৈরির কাজ। সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের দাবি পার্কটির সুরক্ষা দিতেই এ ব্যবস্থা। পার্কে বেড়াতে আসা কয়েক তরুণ-তরণী জানান, তারা প্রায় ঘুরতে আসেন এই পার্কে। কিন্তু নানা কারণে দিন দিন পার্কটি তার সৌন্দর্য হারাচ্ছে। এরপরও পদ্মা নদীর টানে প্রাকৃতির নির্মল পরিবেশে মুক্ত হাওয়া খেতে সব বয়সের মানুষই ছুটে আসেন এখানে। তাই পার্কটিতে কেবল সবুজ বেষ্টনী দেয়ায় নয় এর সংস্কারও প্রয়োজন বলে দাবি করেন তারা।

সিটি কর্পোরেশনের জনসংযোগ শাখা জানায়, ২০১৩ সালে মহানগরীর পদ্মাপাড়ের সৌন্দর্য বর্ধন ও বিনোদনের জন্য নির্মাণ করা হয় লালন শাহ পার্কটি। রাসিকের উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ে এই নির্মাণকাজ শেষ করা হয়। ওই বছরের ১০ সেপ্টেম্বর তৎকালীন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক এর উদ্বোধন করেন। এই পার্কে একসঙ্গে প্রায় ৫ থেকে ৭ হাজার মানুষ অবস্থান করতে পারবে। পার্কের অভ্যন্তরকে গ্রিন জোন, ল্যান্ডস্কেপ এবং পর্যটন ভ্রমণের জন্য বিভিন্ন ধরনের আইটেমে পরিপূর্ণ করা হয়। এখানে একটি মুক্তমঞ্চ রয়েছে। যেখানে মুক্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সুবিধা রয়েছে। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক বলেন, সম্প্রতি তারা পার্কের বেহাল অবস্থার কথা জেনেছেন। কিন্তু উন্মুক্ত অবস্থায় পার্কটির সৌন্দর্য বহাল বা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। তাই তারা বেষ্টনী দেয়ার কাজ শুরু করেছেন।

লালন শাহ পার্কের বেষ্টনী নির্মাণ কাজ শেষ হলে পর্যাপ্তসংখ্যক নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগ দেয়া হবে। এছাড়া পর্যায়ক্রমে লালন শাহ পার্কটির যথাযথ সংস্কারের পরিকল্পনা তাদের রয়েছে। তিনি আরও জানান, এই পার্কে একটি দ্বিতল রেস্তরাঁ থাকবে। যার নিচতলায় থাকবে ফার্স্টফুডের ব্যবস্থা এবং ওপরতলায় থাকবে বসার শেড। এছাড়া আরও ৩টি বড় এবং কয়েকটি ছোট বসার শেড নির্মাণ করা হবে। শিশুদের জন্য দোলনা, সিøপার ও ঘূর্ণির ব্যবস্থাও করা হবে। তবে এজন্য অর্থ বরাদ্দ ও সময় প্রয়োজন আছে জানান তিনি। প্রসঙ্গত রাজশাহী মহানগরীর পদ্মা নদীর কূলঘেঁষে স্থাপন করা লালন শাহ পার্ক লিজ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলে নগরজুড়ে জনরোষ সৃষ্টি হয়। ফলে ইজারা দেয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে রাসিক। সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত স্থানটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বেষ্টনী দেয়া হলেও এখন কোন টিকেট লাগবে না।