২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

খুলনা মহানগরীর ড্রেনের বেহাল অবস্থা

স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা অফিস ॥ খুলনা মহানগরীর ড্রেনগুলোর বেহাল অবস্থা। গত বছর ড্রেন থেকে পেড়ি কাদা উত্তোলন করা হয়নি। এবারও ড্রেনগুলো পানি নিষ্কাশনের উপযোগী করে তোলার ক্ষেত্রে কার্যকর কোন পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। অধিকাংশ ড্রেন পরিত্যক্ত পলিথিন, প্লাস্টিকের বোতল, দোকান ও বাড়িঘর থেকে ফেলা বর্জ্যে ভরপুর। ড্রেন থেকে আবর্জনা পচা দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। পানি প্রবাহ না থাকায় ড্রেনগুলো মশার বংশ বিস্তারের অন্যতম ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এতে নগরবাসী চরম দুর্ভোগের শিকার হলেও সিটি কর্পোরেশনের এ ব্যাপারে যেন কোন মাথাব্যথা নেই।

জানা গেছে, খুলনা মহানগরী এলাকায় মোট ড্রেন রয়েছে এক হাজার ১৬৫ দশমিক ৮৪ কিলোমিটার। ছোট-বড় বিভিন্ন ড্রেন এখন আবর্জনা, পরিত্যক্ত পলিথিন, প্লাস্টিক বোতল ও অন্যান্য আবর্জনায় ভরপুর। বিশেষ করে বেকারি পণ্যসহ বিভিন্ন প্রকারের প্যাকেটজাত খাবারের পরিত্যক্ত পলিথিনের ঠোঙ্গা ব্যাপক হারে ড্রেনে ফেলা হয়। আবার কিাশোর তরুণসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ দোকান থেকে প্লাস্টিক বোতলে ভরা কোল্ড ড্রিংকস বা পানি কিনে পান করে পার্শ্ববর্তী ড্রেনে ফেলে দেয়। অধিকাংশ দোকানদাররা তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ময়লা আবর্জনা ড্রেনে ফেলে থাকেন। যেসব এলাকার বাড়িঘর থেকে পরিবেশ কর্মীরা গার্হস্থ্য বর্জ্য সংগ্রহ করে না সেসব এলাকার মানুষ ড্রেন কিংবা রাস্তায় তাদের ঘরের আবর্জনা ফেলে থাকে। আবর্জনা অপসারণের সহজ সমাধান হিসেবে তারা এ কাজ করে থাকে। পরিবেশ কর্মীরা নিয়মিত পরিষ্কার না করায় ড্রেনগুলো ভরাট হয়ে গেছে। বর্তমানে অধিকাংশ ড্রেনে পানি প্রবাহ নেই। ময়লা আবর্জনায় ভরপুর সেসব ড্রেনে ব্যাপক হারে মশার বংশ বিস্তার ঘটছে। মশক নিধন কার্যক্রমও ঝিমিয়ে পড়েছে।

সূত্র জানায়, খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি তালুকদার আব্দুল খালেক সিটি কর্পোরেশনের মেয়র থাকাকালে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ার পর ড্রেনগুলো থেকে পেড়ি কাদা তোলা হতো। কেসিসির নিজস্ব শ্রমিক ছাড়াও এ কাজের জন্য দৈনিক মজুরিভিত্তিক শ্রমিক নিয়োগ করা হতো। পেড়ি কাদা উত্তোলনের ফলে ড্রেনের গভীরতা স্বাভাবিক থাকত। কিন্তু ২০১৩ সালের নির্বাচনে নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর ওই বছর ড্রেন পরিষ্কারের দায়িত্ব দেয়া হয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের। এজন্য ৩১টি ওয়ার্ডে এক লাখ টাকা করে ৩১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই বছর ড্রেন যথাযথভাবে পরিষ্কার করা হয় না। ২০১৪ সালে ড্রেনের পেড়ি কাদা তোলা হয়নি। দীর্ঘদিন যাবত ড্রেনের পেড়ি কাদা উত্তোলন না করায় ড্রেনগুলোর তলদেশ ভরাট হয়ে গেছে।

এ ব্যাপারে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের কনজারভেন্সি অফিসার এস কে এম তাছাদুজ্জামানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গত বছর ড্রেনের পেড়ি কাদা তোলা সম্ভব হয়নি। এবার পেড়ি কাদা তোলার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছে। শীঘ্রই এ কাজ শুরু হবে। মশক নিধন কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি বলেন, কর্পোরেশনের শ্রমিক-কর্মচারীদের নির্বাচন জনিত কারণে এ কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হয়। ১৮ নবেম্বর নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ায় আবার পুরোদমে মশক নিধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।