১৬ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিবিখানা মোকসলা দোল্লা মালপোয়ার স্বাদ অতুলনীয়

বৈশাখী, নবান্ন, পৌষমেলা সারা বছর ধরেই চলে পিঠা উৎসব। এ অঞ্চলের বিয়ে, জন্মদিনসহ সকল উৎসবেই চলে পিঠা তৈরির ধুম। একেক উৎসবে একক পিঠার কদর বেশি। ভাপা, চিতই, বড়কুলই, জামাইকুলই, বিবিখানা, মোকসলা, দোল্লা, মালপোয়া, পাটিসাপটা, ঝাজর পিঠা, শেওই পিঠা, দুধ চিতই, মুগ পাকান, কাটা পিঠা, নকশা পিঠা, ছিট পিঠা, পাতক্ষীর আরও কত কী।

বিক্রমপুরের ঐতিহ্যবাহী পিঠার মধ্যে অন্যতম বিবিখানা পিঠা। এই পিঠা তৈরির আয়োজনও ব্যতিক্রম। খেজুর গুড়, নারকেল কোরা আর দুধ ঘন করে একত্রে গুলে নিতে হয়। তারপর পাত্রে কলাপাতার কয়েক প্রলেপ দিয়ে তার ওপর ঢেলে দিতে হয় পিঠার গোলা। আবার কলাপাতা দিয়ে ঢেকে নিচে ও উপরে কয়লার তাপে ৬/৭ ঘণ্টা বসিয়ে রাখতে হয়। কিছু সময় পরপর উপরের কলাপাতা পাল্টে নতুন কলাপাতা দিতে হয়। এতটা সময় ধরে বিশেষ যতেœ তৈরি হয় বলেই এর নাম বিবিখানা পিঠা।

বিক্রমপুরের আরেক ঐতিহ্য জামাইকুলই। শীতের সময় শাশুড়িরা এই পিঠা জামাইদের খাইয়ে থাকে। চালের গুঁড়া ও নারকেল দিয়ে এই পিঠা তৈরি করে সারা রাত খেজুর গুড় ও দুধের মধ্যে ভিজিয়ে রাখতে হয়। এ অঞ্চলের পিঠা-পুলির অন্যতম হলো পাতক্ষীর। বিশাল বিশাল ডেগচিতে মণ মণ দুধ লাকড়ির চুলায় কড়া জ্বালে পাতক্ষীর তৈরি হয়। এই পাতক্ষীর অনেকে মিষ্টান্ন হিসেবে ব্যবহার করে আবার কেউবা পাটিসাপটা পিঠার পুর হিসেবে ব্যবহার করে। অতিসুস্বাদু খালি দুধে তৈরি ব্যতিক্রমী এ খাবার পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রফতানি হয়। বিক্রমপুরের ছিট পিঠা যে খায়নি পিঠা খাওয়া তার অপূর্ণই রয়ে গেছে। হেমন্তের নতুন চালে তৈরি এই পিঠা আর হাঁসের মাংস এখানকার উল্লেখযোগ্য খাবার। শিলপাটায় মিহি করে চাল বেটে হাতের ছিটায় বিশেষ কৌশলে তৈরি এই পিঠা। এছাড়া অন্যান্য পিঠাতো আছেই।

যদিও পিঠা বাংলাদেশের নিত্যদিনের খাবার নয় কিন্তু শীত আর গ্রীষ্ম, বৈশাখ আর চৈত্র সবসময়ই বিক্রমপুরে তৈরি হয় সুস্বাদু নানা রকমের পিঠা। বিভিন্ন উৎসব-আয়োজনে করা হয় হরেকরকম স্বাদের পিঠা-পুলি। পিঠা-পুলি ছাড়া বিক্রমপুরে কোন উৎসবই পূর্ণ হয় না।

Ñমীর নাসিরউদ্দিন উজ্জ্বল, মুন্সীগঞ্জ থেকে