২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কুয়াশা ঢাকা দিনে পিঠা আর পায়েস খাওয়ার ধুম

বাংলায় শীতের রূপ। বাগান ভরা গাঁদা, ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকা, গোলাপ আর শিশির ভেজা শেফালী। গ্রামের দৃশ্য আরও মনোহর। মাঠের পর মাঠ সর্ষে ফুলে ফুলে হলুদ, আল বেয়ে হেঁটে গেলে রাতের শিশির ধুয়ে দেয় পায়ের ধুলো। ম-ম গন্ধ নিয়ে বাতাস ভেসে যায় দূর দিগন্তে। নদী শুকিয়ে শীর্ণকায় হয়ে একেবেঁকে চলে গেছে দূর-দূরান্তের অচেনা প্রান্তরে। গেরস্ত বাড়ির আঙ্গিনায় বড় বড় শুকনো খড়ের পালা। সোনালী ধান। শীতের রোদে গ্রামের বাড়িতে নতুন চালের ধবধবে আটা শুকোচ্ছে। সন্ধ্যায় সেই আটা হরেক রকমের পিঠা-পুলি হয়ে দেখা দেবে রাতে খাবারের থালায়। এখনও এসব দৃশ্য কমবেশী চোখে পড়ে গ্রামে। শীতের রাতে গ্রামে পালা গান, কবিগান, যাত্রা সার্কাস আর বাড়িতে বাড়িতে চলে অতিথি আপ্যায়ন। তবে এসব উৎসব উধাও হয়ে গেছে। বাংলার শীত যাকে ছাড়া নীরস, তা হলো খেজুর রস। খেজুর রস ঘন করে জ্বাল দিয়ে নতুন সুগন্ধি চালের পায়েস বা পাটালীর কথা। যশোরের পাটালী শুধু দেশে বিখ্যাত নয় সারা পৃথিবীতে এই পাটালী চলে যাচ্ছে। সময় যতই যাচ্ছে খেজুরের রস দিয়ে পিঠে পুলির ব্যবহার কমে গেছে গ্রামীণ জনপদ থেকে।

শহরের বাড়িগুলোতে পিঠা-পুলি না পেলেও এখন চলে গেছে পথের পসরায়। শহরের রাস্তায় বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে ভাপা পিঠাসহ অনেক পিঠাই পাওয়া যায়। বিকেলে সন্ধ্যায় ফুটপাথে দাঁড়িয়ে সবান্ধব গরম গরম ভাপাপিঠা খেতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে অনেকে। কুড়িগ্রাম শহরের ভকেশনাল মোড়, শাপলাচত্বর দাদামোড়, খলিলগঞ্জ বাজারসহ মোড়ে মোড়ে রাস্তার ওপর পিঠার দোকান গড়ে উঠেছে। এসব দোকানে ভাপা, চিতই, তেল পিঠা, পাটিসাপটাসহ নানান পিঠা পাওয়া যায়। এসব পিঠার দাম পাঁচ থেকে ১০ টাকা। লাইন ধরে পিঠা খায় শহুরেরা। ভোকেশনাল মোড়ের পিঠার কারিগর জানান, বর্তমানে চাল-গুড়ের দাম বেড়ে যাওয়ায় পিঠার দামও বেড়েছে। পুরো শীত মৌসুমে পিঠার ব্যবসা ভালই চলবে। দূর-দূরান্তের মানুষ এখানে আসে পিঠা খেতে। ব্যবসার পাশাপাশি হরেকরকম পিঠা খাওয়াতে পেরে তিনি আনন্দ খোঁজেন।

Ñরাজু মোস্তাফিজ, কুড়িগ্রাম থেকে